বাংলা ১ম পত্র • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০২৫
বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন
গ্রামে বেড়ে ওঠা শাহেদ জীবিকার সন্ধানে পাড়ি জমান স্বপ্নের দেশ সুইজারল্যান্ডে। সেখানে কাজ ও বেতন ভালো। শাহেদ আজ প্রতিষ্ঠিত হওয়া সত্ত্বেও মনের মধ্যে কীসের যেন অভাব অনুভব করেন। চাকচিক্যময় শহুরে জৌলুস ও কর্মব্যস্ততার কারণে শৈশবের স্মৃতি এখন তার মনে ধূসর হয়ে গেছে।
- ক)(1)
'কপোতাক্ষ নদ' কবিতার অষ্টকের মিলবিন্যাস কীরূপ?
- খ)(2)
'প্রজারূপে রাজরূপ সাগরেরে দিতে বারি-রূপ কর তুমি' এর দ্বারা কী বোঝানো হয়েছে?
- গ)(3)
উদ্দীপকে 'কপোতাক্ষ নদ' কবিতার বৈসাদৃশ্যপূর্ণ দিকটি ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
"উদ্দীপক ও 'কপোতাক্ষ নদ' কবিতার ভাবগত চেতনা অভিন্ন।"- বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
'কপোতাক্ষ নদ' কবিতার অষ্টকের মিলবিন্যাস কখখককখখক।
- খ)
কবি মধুসূদন দত্ত কপোতাক্ষ নদকে প্রজা এবং সাগরকে রাজা কল্পনা করেছেন। প্রজা যেমন রাজাকে কর দেয়, কপোতাক্ষ নদও তেমনি তার বারিধারা সাগরে পৌঁছে দেয়। এ বারিই নদের পক্ষ থেকে সাগরকে দেওয়া কর। এভাবে নদীর সাগরে মিলিত হওয়াকে কবি রূপকের মাধ্যমে তুলে ধরেছেন।
- গ)
উদ্দীপকের শাহেদ প্রতিষ্ঠিত হয়ে সুইজারল্যান্ডে বসবাস করলেও শহুরে জৌলুস ও কর্মব্যস্ততায় শৈশবের স্মৃতি ধূসর হয়ে গেছে। 'কপোতাক্ষ নদ' কবিতার সঙ্গে এখানেই বৈসাদৃশ্য।
কবিতায় কবি মধুসূদন প্রবাসে থেকেও কপোতাক্ষ নদ ও জন্মভূমির স্মৃতি ভোলেননি। তিনি সর্বদা নদের কথা ভাবেন এবং কল্পনায় তার কলকল ধ্বনি শুনে কান জুড়ান। কবির স্মৃতি সজীব ও গভীর, আর শাহেদের স্মৃতি ধীরে ধীরে ম্লান হয়ে গেছে।
- ঘ)
উদ্দীপক ও 'কপোতাক্ষ নদ' কবিতার মূল ভাবের মিল রয়েছে। আমি এ উক্তির সঙ্গে মূলত একমত।
১. প্রবাসজীবন: শাহেদ জীবিকার জন্য সুইজারল্যান্ডে থাকেন। কবি মধুসূদনও প্রবাসে ছিলেন।
২. অভাববোধ ও স্মৃতিকাতরতা: শাহেদ মনের ভেতরে কীসের যেন অভাব অনুভব করেন। কবিও প্রবাসে নদ ও জন্মভূমির জন্য ব্যাকুল হন।
৩. স্বদেশের টান: বাহ্যিক সাফল্য সত্ত্বেও শাহেদ মনের শূন্যতা কাটাতে পারেন না। এতে বোঝা যায়, জন্মভূমির টান ভোলা যায় না। কবির চেতনাও তাই।তবে স্মৃতির তীব্রতায় কিছু পার্থক্য আছে। শাহেদের স্মৃতি ধূসর, কবির স্মৃতি জীবন্ত। সুতরাং, স্বদেশের প্রতি গভীর টান ও স্মৃতিকাতরতার দিক থেকে উদ্দীপক ও কবিতার ভাবগত চেতনা অভিন্ন।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও