হিন্দু ধর্ম • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০২৩

হিন্দু ধর্ম প্রশ্ন

ঋতুদের বাড়িতে প্রতিবছর কার্তিক মাসের এক বিশেষ তিথিতে এক উৎসবের আয়োজন করা হয়। এই উৎসব উপলক্ষ্যে ঋতু ভাইয়ের মঙ্গল কামনায় তার কপালে চন্দন মাখিয়ে দেয়। অন্যদিকে অসীমের গ্রামের লোকেরা মিলে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন "করে। এই অনুষ্ঠান উপলক্ষ্যে চাকাওয়ালা গাড়ি ফুল দিয়ে সুন্দর করে সাজানো হয়। গাড়ির ভিতরে থাকে তিনটি বিশেষ মূর্তি। সব ভেদাভেদ ভুলে সবাই মিলে গাড়িটি একস্থান থেকে অন্যস্থানে নিয়ে যায়।

  1. ক)

    ধর্মাচার কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    শ্রাবণ মাসের পূর্ণিমা তিথিতে যে পর্বটি পালিত হয় তার ব্যাখ্যা দাও।

    (2)
  3. গ)

    ঋতুদের বাড়িতে যে উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে পাঠ্যপুস্তকের আলোকে তার ব্যাখ্যা দাও।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে অসীমের দেখা ধর্মাচারটির পারিবারিক ও সামাজিক গুরুত্ব বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    যে-সকল আচার-আচরণ আমাদের জীবনকে সুন্দর ও মঙ্গলময় করে গড়ে তোলে, তাকে ধর্মাচার বলে।

  2. খ)

    শ্রাবণ মাসের পূর্ণিমা তিথিতে রাখীবন্ধন পর্বটি পালিত হয়। এ কারণে দিনটি রাখী পূর্ণিমা নামেও পরিচিত। ‘রাখী’ কথাটি ‘রক্ষা’ শব্দ থেকে এসেছে। এদিন বোনেরা ভাইদের হাতে রাখী নামে একটি পবিত্র সুতো বেঁধে দেয়। নিজের ভাই ছাড়াও আত্মীয় ও অনাত্মীয় ভাইদের হাতেও রাখী পরানো হয়। এটি ভাই-বোনের আজীবন ভালোবাসার প্রতীক এবং এর মাধ্যমে তাদের মধ্যে মধুর সম্পর্ক স্থাপিত হয়।

  3. গ)

    ঋতুদের বাড়িতে যে উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে, তা হলো ভ্রাতৃদ্বিতীয়া বা ভাইফোঁটা।

    ভ্রাতৃদ্বিতীয়ার পরিচয় : কার্তিক মাসের শুক্লা দ্বিতীয়া তিথিতে এ ধর্মাচারটি পালিত হয়। পুরাণে উল্লেখ আছে, এই তিথিতে যমুনাদেবী তাঁর ভাই যমের মঙ্গল কামনায় পূজা করেছিলেন এবং সেই পুণ্যপ্রভাবে যমদেব অমরত্ব লাভ করেন। এ কল্যাণব্রত স্মরণ করেই বর্তমানকালের বোনেরা দিনটি পালন করে।

    পালনের পদ্ধতি : ভাইকে যাতে কোনো বিপদ-আপদ স্পর্শ করতে না পারে, সেজন্য বোনেরা উপবাস থাকে। বাঁ হাতের কড়ে বা অনামিকা আঙুল দিয়ে ভাইয়ের কপালে চন্দনের (ঘি, কাজল বা দধিও হতে পারে) ফোঁটা দিয়ে দীর্ঘায়ু কামনা করে বলা হয়—‘ভাইয়ের কপালে দিলাম ফোঁটা, যমের দুয়ারে পড়ল কাঁটা।’ এজন্য অনুষ্ঠানটির আরেক নাম ভাইফোঁটা। এরপর ভাইকে ফল, মিষ্টি, পায়েস, লুচি প্রভৃতি উপাদেয় খাবার পরিবেশন করা হয়।

    উদ্দীপকের সাথে মিল : উদ্দীপকে বলা হয়েছে, ঋতুদের বাড়িতে প্রতিবছর কার্তিক মাসের এক বিশেষ তিথিতে উৎসব হয় এবং ঋতু ভাইয়ের মঙ্গল কামনায় তার কপালে চন্দন মাখিয়ে দেয়। এটি ভাইফোঁটার বৈশিষ্ট্যের সাথে হুবহু মিলে যায়।

    অতএব, ঋতুদের বাড়িতে আয়োজিত উৎসবটি ভ্রাতৃদ্বিতীয়া বা ভাইফোঁটা।

  4. ঘ)

    উদ্দীপকে অসীমের গ্রামের লোকেরা যে ধর্মানুষ্ঠানটি পালন করে, তা হলো রথযাত্রা। এটি একটি ধর্মানুষ্ঠান, যার সাথে নানা ধর্মাচার মিশে আছে। পারিবারিক ও সামাজিক জীবনে এর গুরুত্ব অপরিসীম, আমি এ বক্তব্যের সাথে একমত।

    রথযাত্রার পরিচয় : আষাঢ় মাসের শুক্লা দ্বিতীয়া তিথিতে রথযাত্রা শুরু হয়। রথ হলো চাকাওয়ালা একটি যান, যেখানে জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রা—এই তিন দেবতা অধিষ্ঠিত থাকেন। ভক্তরা রশি টেনে রথটিকে একটি মন্দির থেকে অন্য মন্দিরে নিয়ে যায় এবং নবম দিনে উল্টোরথে ফিরিয়ে আনে। উদ্দীপকে ফুলে সাজানো চাকাওয়ালা গাড়ি, ভিতরে তিনটি মূর্তি এবং সবাই মিলে গাড়ি টানার বর্ণনা রথযাত্রারই চিত্র।

    ১. সাম্যের শিক্ষা : রথের সময় ভগবানই ভক্তের কাছে নেমে আসেন। সবাই একত্রে রথের রশি ধরে, সেখানে জাতি-বর্ণের বিভেদ থাকে না। উদ্দীপকের ‘সব ভেদাভেদ ভুলে সবাই মিলে’ গাড়ি টানার মধ্য দিয়ে এ সাম্যের শিক্ষাই ফুটে উঠেছে।

    ২. সামাজিক বন্ধন ও সর্বজনীনতা : রথযাত্রা হিন্দুদের ধর্মীয় উৎসব হলেও বর্তমানে এটি সর্বজনীন উৎসবে রূপ নিয়েছে। নয় দিনব্যাপী অনুষ্ঠান ও মেলায় গ্রামের সব মানুষ একত্র হয়, ফলে পারস্পরিক সম্প্রীতি ও সামাজিক বন্ধন দৃঢ় হয়।

    ৩. অর্থনৈতিক গুরুত্ব : রথের মেলা একদিকে উৎসব, অন্যদিকে এর অর্থনৈতিক গুরুত্বও রয়েছে। মেলাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও কারিগররা উপকৃত হয়, যা সমাজজীবনকে সচল রাখে।

    ৪. পারিবারিক ও নৈতিক গুরুত্ব : ধর্মাচার ও ধর্মানুষ্ঠান মানুষকে ভদ্র, নম্র ও বিনয়ী করে এবং পারিবারিক জীবনের বন্ধন সুদৃঢ় করে। পরিবারের সদস্যরা একসাথে অংশ নিলে একতা ও ধর্মীয় মূল্যবোধ গড়ে ওঠে।

    সুতরাং, রথযাত্রা কেবল একটি ধর্মীয় আচার নয়; এটি পারিবারিক ও সামাজিক জীবনে সাম্য, সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ব প্রতিষ্ঠার এক মহৎ মাধ্যম।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন