বিজ্ঞান • Mymensingh Board • ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৫

বিজ্ঞান প্রশ্ন

তন্তুর নাম | সুতার বৈশিষ্ট্য/উৎস
A | নমনীয়তা, স্থিতিস্থাপকতা, কুঞ্চন প্রতিরোধের ক্ষমতা উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য।
B | পলুপোকা নামক এক প্রকার গুটি থেকে বিশেষ প্রক্রিয়ায় তত্ত্ব আহরণ করা হয়।

  1. ক)

    পলিমারকরণ প্রক্রিয়া কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    পাটের শপিং ব্যাপক পলিমার বলা হয় কেন? ব্যাখ্যা কর।

    (2)
  3. গ)

    B থেকে কীভাবে সুতা তৈরি হয়? ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    শীত প্রতিরোধে B থেকে A বেশি উপযোগী কেন? বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    যে প্রক্রিয়ায় অনেকগুলো ছোট মনোমার অণু যুক্ত হয়ে বড় অণু পলিমার তৈরি করে, তাকে পলিমারকরণ বলে।

  2. খ)

    পাট প্রকৃতিতে উদ্ভিদ থেকে পাওয়া যায়, মানুষ কৃত্রিমভাবে তৈরি করে না। এর তন্তু অসংখ্য ক্ষুদ্র একক (মনোমার) অণু পরপর যুক্ত হয়ে গঠিত দীর্ঘ শৃঙ্খলের অণু দিয়ে তৈরি। পাঠ্যবইয়ে পাটকে প্রাকৃতিক পলিমারের উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, তাই পাটের তন্তুকে প্রাকৃতিক পলিমার বলা হয়।

  3. গ)

    B হলো রেশম, যা পলু পোকার গুটি (কোকুন) থেকে পাওয়া যায়। রেশমি সুতা তৈরির ধাপ নিচে দেওয়া হলো।

    ১. পরিণত কোকুন বা গুটি সাবান পানিতে লোহার কড়াইয়ে সেদ্ধ করা হয়। এতে ভেতরের পোকা মরে যায় এবং পোকা গুটি কেটে বের হয়ে তন্তু নষ্ট করতে পারে না।
    ২. সেদ্ধ করায় কোকুন নরম হয় এবং ওপরের খোসা সহজে আলাদা হয়ে যায়।
    ৩. খোসা উঠে গেলে রেশমি তন্তুর প্রান্ত বা নাল পাওয়া যায়। এই নাল ধরে আস্তে আস্তে টানলে লম্বা সুতা বেরিয়ে আসে।
    ৪. চরকার সাহায্যে মিহি সুতার জন্য ৫-৭টি এবং মোটা সুতার জন্য ১৫-২০টি কোকুনের নাল একত্র করে টানা হয়। নালের গায়ের আঠার কারণে এগুলো পরস্পর লেগে সুতার গোছা তৈরি হয়।

    রেশমের বেলায় সরাসরি সুতা পাওয়া যায়, অন্য কোনো প্রক্রিয়ার প্রয়োজন হয় না।

  4. ঘ)

    A তন্তুর বৈশিষ্ট্য (নমনীয়তা, স্থিতিস্থাপকতা, কুঞ্চন প্রতিরোধের ক্ষমতা) পাঠ্যবই অনুযায়ী পশম বা উলের বৈশিষ্ট্য। B হলো রেশম। শীত প্রতিরোধে রেশমের চেয়ে পশম বেশি উপযোগী, কারণ নিচের বিষয়গুলো।

    ১. তাপ কুপরিবাহিতা: পশম তাপ কুপরিবাহী, তাই শীতবস্ত্র হিসেবে পশমি পোশাকই সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়।
    ২. আটকে থাকা বাতাস: পশম তন্তুর মাঝে ফাঁকা জায়গা থাকে, যেখানে বাতাস আটকে থাকে। বাতাস তাপ অপরিবাহী, তাই শরীরের তাপ বাইরে বেরিয়ে যেতে পারে না এবং শীতের দিনে গরম অনুভূত হয়।
    ৩. অন্যান্য গুণ: স্থিতিস্থাপকতা ও কুঞ্চন প্রতিরোধের ক্ষমতার কারণে পশমি কাপড় সহজে কুঁচকে যায় না এবং আকার ঠিক রাখে। অন্যদিকে রেশমের প্রধান গুণ সৌন্দর্য ও বিলাসিতা, আর সূর্যালোকে রেশম দ্রুত নষ্ট হয়।

    সুতরাং, তাপ কুপরিবাহী হওয়া ও বাতাস আটকে রাখার ক্ষমতার জন্য শীত প্রতিরোধে B (রেশম) থেকে A (পশম) বেশি উপযোগী।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন