বাংলা ১ম পত্র • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০২২

বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন

পাশের গ্রামে রহমত হুজুরকে আনা হলো অসুস্থ রহিমার ভূত ছাড়ানোর জন্য। স্থানীয় স্কুলের শিক্ষিকা ও সমাজকর্মী সখিনা বেগম মেয়েটিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। কারণ তিনি জানতেন এটি কুসংস্কার। কিন্তু গ্রামের লোক মনে করে হুজুরের অভিশাপে মেয়েটির ক্ষতি হতে পারে। বাবা এই ভয়ে কিশোরী রহিমাকে দ্রুত বিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করেন।

  1. ক)

    'বহিপীর' নাটকের কেন্দ্রীয় চরিত্র কোনটি?

    (1)
  2. খ)

    'শাবাশ মেয়ে তুমি'-তাহেরাকে এ কথা কেন বলা হয়েছে? বুঝিয়ে লেখো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে গ্রামের লোকের ধারণা 'বহিপীর' নাটকে প্রতিফলিত তৎকালীন সমাজ বাস্তবতার যে দিকটি ইঙ্গিত করে তা ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের সখিনা বেগমকে নারী অধিকার ও জাগরণের প্রতীক চরিত্র বলা যায় কি? 'বহিপীর' নাটক অবলম্বনে যৌক্তিক মতামত দাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    ‘বহিপীর’ নাটকের কেন্দ্রীয় চরিত্র বহিপীর।

  2. খ)

    বজরায় আশ্রয় নেওয়া তাহেরার সাহসের প্রশংসা করে খোদেজা কথাটি বলেছেন। ডেমরার ঘাটে তাহেরার সঙ্গী ছেলেটি ভয়ে ও ক্ষুধায় কাঁদছিল। অথচ তাহেরা মেয়ে হয়েও ছিল নির্ভীক, তার চোখে না ছিল ভয়, না ছিল কান্না। তার এই দৃঢ়তা ও সাহস দেখে খোদেজা মুগ্ধ হয়ে তাকে ‘শাবাশ মেয়ে’ বলেছেন।

  3. গ)

    উদ্দীপকে গ্রামের লোকের ধারণা ‘বহিপীর’ নাটকের সমাজের পীরের প্রতি অন্ধবিশ্বাস ও কুসংস্কারের দিকটি ইঙ্গিত করে।

    উদ্দীপকের গ্রামের লোক মনে করে হুজুরের অভিশাপে ক্ষতি হতে পারে, তাই অসুস্থ মেয়েকে ডাক্তারের কাছে না নিয়ে ভূত ছাড়াতে হুজুর আনা হয়। নাটকে বহিপীর অশিক্ষিত মানুষের কুসংস্কার ও ধর্মবিশ্বাসকে পুঁজি করে ধর্মব্যবসা চালান। সেখানে মুরিদরা পীরের দোয়া পাওয়ার জন্য ধনসম্পদ, এমনকি কন্যাকেও তাঁর হাতে তুলে দেয়। খোদেজাও পীরের বদদোয়ার ভয়ে ভীত। এভাবে উদ্দীপক ও নাটক দুটিতেই পীরের অভিশাপের ভয় সাধারণ মানুষকে বিবেকহীন সিদ্ধান্তে ঠেলে দেয়।

  4. ঘ)

    উদ্দীপকের সখিনা বেগমকে নারী অধিকার ও জাগরণের প্রতীক চরিত্র বলা যায়, তবে নাটকের তাহেরার মতো পুরোপুরি নয়।

    ১. সখিনা বেগম শিক্ষিকা ও সমাজকর্মী। তিনি ভূতের চিকিৎসার কুসংস্কারের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে রহিমাকে হাসপাতালে ভর্তি করেছেন। এটি তাঁর সচেতনতা ও সাহসের পরিচয়। নাটকে তাহেরাকে বিশ শতকের সূচনায় নারী অধিকার ও জাগরণের প্রতীক বলা হয়, কারণ সে অন্যায় বিয়ে মেনে নেয়নি।

    ২. তাহেরা নিজের জীবনের সিদ্ধান্ত নিজে নিয়েছে। সে ঘর ছেড়ে পালিয়েছে এবং শেষে অজানা পথে যাত্রা করেছে। সখিনা বেগম অন্যের পক্ষে দাঁড়িয়েছেন, নিজের অধিকারের জন্য নয়।

    ৩. তবু উভয়েই কুসংস্কার ও সামাজিক অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী এবং মানবিকতাকে প্রাধান্য দিয়েছেন। তবে উদ্দীপকে শেষ পর্যন্ত গ্রামের ভয়ই জয়ী হয়েছে, নাটকে জয় হয়েছে মানবিকতার।

    সুতরাং, সখিনা বেগম নারীজাগরণের চেতনার প্রতীক হিসেবে গ্রহণযোগ্য; তবে নারীর আত্মনির্ভর সংগ্রামের পূর্ণ রূপ তাহেরার মধ্যেই প্রতিফলিত।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন