ইসলাম • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০২০

ইসলাম প্রশ্ন

আরমান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। বাড়িতে যাওয়ার জন্য ঈদুল ফিতরের আগের দিন সুরমা এক্সপ্রেস ট্রেনে সিট নিয়ে বসেন। এমন সময় প্রচণ্ড ভিড়ের মধ্যে একজন মহিলা ট্রেনে ওঠার সাথে সাথে ট্রেনটি ছেড়ে দেয়। ভিড়ের মধ্যে মহিলাটি আরমানের সিটের কাছে এসে দাঁড়ালে, মায়ের বয়সী দেখে আরমান সিট ছেড়ে মহিলাকে তার সিটে বসতে দেন। অন্যদিকে মনির সাহেবের প্রতিবেশী আবদুল করিম একজন দরিদ্র লোক। ছেলের চিকিৎসার জন্য আত্মীয়-স্বজনের কাছ থেকে টাকা নিয়ে এখন সে ঋণগ্রস্ত। বিষয়টি এলাকার মুরুব্বি মনির সাহেবকে বললে তিনি তার সঞ্চিত অর্থ থেকে করিমকে সাহায্য দিয়ে তাকে ঋণ থেকে মুক্ত করে দিলেন। এছাড়াও তিনি তার ছেলের চিকিৎসার ব্যবস্থাও করলেন। কারণ মনির সাহেবজানতেন, এ ধরনের কাজ রাসুল (স)-এর আদর্শ।

  1. ক)

    ওয়াদা পালন কী?

    (1)
  2. খ)

    শালীনতার গুরুত্ব ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    আরমানের কাজে আখলাকে হামিদার কোন গুণটি ফুটে উঠেছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    মনির সাহেবের কর্মকাণ্ডটি চিহ্নিতপূর্বক উদ্দীপকের শেষ লাইনটি বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    কারও সাথে কোনো কাজ করার বা কিছু দেওয়ার যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয় তা যথাযথভাবে রক্ষা করাকে ওয়াদা পালন বলে।

  2. খ)

    শালীনতা মানুষের চরিত্রকে সুন্দর ও মার্জিত করে। শালীন ব্যক্তি কথাবার্তা, পোশাক ও আচরণে ভদ্রতা ও সংযম বজায় রাখে। এতে সমাজে অশ্লীলতা ও অনৈতিক কাজ কমে এবং পারস্পরিক সম্মানবোধ বাড়ে। রাসুল (স.) বলেছেন, লজ্জাশীলতা ঈমানের অঙ্গ। তাই ব্যক্তি ও সমাজজীবনে শালীনতার গুরুত্ব অপরিসীম।

  3. গ)

    আরমানের কাজে আখলাকে হামিদার সৌজন্য ও সহমর্মিতা (বড়দের প্রতি শ্রদ্ধা) গুণটি ফুটে উঠেছে। ভিড়ের মধ্যে মায়ের বয়সী মহিলাকে দেখে তিনি নিজের আসন ছেড়ে দেন।

    ইসলামে মুরুব্বি ও বয়স্কদের সম্মান করা এবং অন্যের কষ্ট লাঘব করার প্রতি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। রাসুল (স.) বলেছেন, যে ছোটদের স্নেহ করে না ও বড়দের সম্মান করে না, সে আমাদের দলভুক্ত নয়। আরমান নিজের সুবিধা ত্যাগ করে এই শিক্ষা বাস্তবায়ন করেছেন।

  4. ঘ)

    মনির সাহেবের কর্মকাণ্ডটি হলো অভাবী ও ঋণগ্রস্ত প্রতিবেশীকে আর্থিক সাহায্য ও পরোপকার।

    উদ্দীপকের শেষ লাইনে বলা হয়েছে, এ ধরনের কাজ রাসুল (স.)-এর আদর্শ। এর বিশ্লেষণ:

    ১. হাদিসের শিক্ষা: রাসুল (স.) বলেছেন, যে ব্যক্তি কোনো মুসলমানের দুনিয়ার কষ্ট দূর করবে, আল্লাহ কিয়ামতের দিন তার কষ্ট দূর করবেন। বান্দা যতক্ষণ তার ভাইয়ের সাহায্যে থাকে, আল্লাহ ততক্ষণ তার সাহায্যে থাকেন।
    ২. রাসুলের জীবনাদর্শ: তিনি নিজে ইয়াতিম, দরিদ্র ও ঋণগ্রস্তদের সাহায্য করতেন এবং উম্মতকে তা করতে উৎসাহ দিতেন।
    ৩. সামাজিক কল্যাণ: এতে সমাজে সহমর্মিতা, ভ্রাতৃত্ব ও অর্থনৈতিক ভারসাম্য সৃষ্টি হয়।

    সুতরাং, মনির সাহেবের কাজ রাসুল (স.)-এর আদর্শের যথার্থ অনুসরণ এবং অত্যন্ত প্রশংসনীয়।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন