কৃষিশিক্ষা • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০২২

কৃষিশিক্ষা প্রশ্ন

চাঁপাইনবাবগঞ্জের চাষি সুমন মিয়া তার ১০ শতক জমিতে বিনা মাস-১ জাতের মাসকলাই চাষের সিদ্ধান্ত নেন। তিনি স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শক্রমে জমি তৈরি, সার প্রয়োগ, বীজ বপন ও অন্তবর্তীকালীন পরিচর্যা সম্পন্ন করেন। মৌসুম শেষে সুমন মিয়া মাসকলাইর চাষে লাভবান হন ।

  1. ক)

    বাংলাদেশে চাষকৃত ডাল ফসলের মধ্যে মাসকলাইয়ের স্থান কত তম?

    (1)
  2. খ)

    বপনের আগে বীজ শোধন করে নিতে হয় কেন?

    (2)
  3. গ)

    সুমনের জমিতে বিভিন্ন প্রকারের সার কী পরিমাণে প্রয়োগ করতে হবে? তার একটি তালিকা তৈরি করো ।

    (3)
  4. ঘ)

    কৃষি কর্মকর্তা সুমন মিয়াকে যেসব অন্তবর্তীকালীন পরিচর্যার পরামর্শ দিয়েছিলেন তা বিশ্লেষণ করো ।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    বাংলাদেশে চাষকৃত ডাল ফসলের মধ্যে মাসকলাইয়ের স্থান চতুর্থ।

  2. খ)

    বীজের গায়ে ছত্রাক, ব্যাকটেরিয়া ও কীটপতঙ্গের ডিম বা জীবাণু থাকতে পারে। বীজ শোধন করে এসব জীবাণু ধ্বংস করা হয়, ফলে বীজবাহিত রোগ ও মাটিবাহিত রোগের আক্রমণ কমে। এতে বীজের অঙ্কুরোদগম ভালো হয় এবং সুস্থ চারা পাওয়া যায়। তাই বপনের আগে বীজ শোধন করা প্রয়োজন।

  3. গ)

    মাসকলাইয়ের জন্য সুপারিশকৃত সারের মাত্রা (হেক্টরপ্রতি): ইউরিয়া ৪৫ কেজি, টিএসপি ৮৫ কেজি, এমওপি ৩৫ কেজি। এর সাথে জমি তৈরির সময় পরিমাণমতো গোবর বা কম্পোস্ট দেওয়া হয়।

    ১০ শতক জমির জন্য রূপান্তর: ১ হেক্টর =২৪৭= ২৪৭ শতক।

    ইউরিয়া =৪৫×১০২৪৭≈১.৮২= \dfrac{৪৫ \times ১০}{২৪৭} \approx ১.৮২ কেজি

    টিএসপি =৮৫×১০২৪৭≈৩.৪৪= \dfrac{৮৫ \times ১০}{২৪৭} \approx ৩.৪৪ কেজি

    এমওপি =৩৫×১০২৪৭≈১.৪২= \dfrac{৩৫ \times ১০}{২৪৭} \approx ১.৪২ কেজি

    সারপরিমাণ (১০ শতকে)
    ইউরিয়াপ্রায় ১.৮ কেজি
    টিএসপিপ্রায় ৩.৪ কেজি
    এমওপিপ্রায় ১.৪ কেজি

    সব সার শেষ চাষের সময় জমিতে প্রয়োগ করা হয়।

  4. ঘ)

    কৃষি কর্মকর্তা মাসকলাই চাষে বপনের পর যেসব অন্তবর্তীকালীন পরিচর্যার পরামর্শ দিয়ে থাকবেন, তা নিচে বিশ্লেষণ করা হলো—

    ১. বিরলীকরণ: চারা ঘন হলে দুর্বল চারা তুলে ফেলে গাছের মধ্যে প্রয়োজনীয় দূরত্ব রাখা হয়। এতে প্রতিটি গাছ আলো, বাতাস ও খাদ্য পায়।
    ২. আগাছা দমন: আগাছা গাছের খাদ্য ও আলো কেড়ে নেয়। তাই নিড়ানি দিয়ে আগাছা পরিষ্কার করতে হয়।
    ৩. সেচ ও নিষ্কাশন: মাটিতে রসের অভাব হলে সেচ দিতে হয় এবং অতিরিক্ত পানি জমলে নিষ্কাশন করতে হয়।
    ৪. রোগ ও পোকা দমন: পাতার দাগ রোগ বা পোকার আক্রমণ দেখা দিলে অনুমোদিত কীটনাশক বা ছত্রাকনাশক প্রয়োগ করতে হয়।

    সুতরাং, এসব পরিচর্যা সঠিকভাবে করলে গাছ সুস্থ থাকে এবং ফলন বাড়ে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন