ভূগোল এবং পরিবেশ • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০২৪

ভূগোল এবং পরিবেশ প্রশ্ন

দৃশ্যকল্প-১: ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ সালে তুরস্কে সংঘটিত ভয়াবহু প্রাকৃতিক দুর্যোগের ফলে মানুষের জানমালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয় এবং মহাসড়কে ফাটল দেখা দেয়।দৃশ্যকল্প-২: ইমরান সাহেবের নলকূপে ইদানিং পানি পাওয়া যাচ্ছে না। তিনি জানতে পারলেন, পানির স্তর নিচে নেমে গেছে।দৃশ্যকল্প-৩: সম্প্রতি অতিবৃষ্টির কারণে পানি জমে থাকায় কৃষক আহসান সাহেবের বীজতলা নষ্ট হয়ে যায়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে তিনি দিশেহারা হয়ে পড়েন।

  1. ক)

    বিপর্যয় কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    বাংলাদেশে ব্যাপক হারে ঘূর্ণিঝড় সংঘটিত হয় কেন? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    দৃশ্যকল্প-১ এ বর্ণিত দুর্যোগ সংঘটনের জন্য বাংলাদেশ কতটুকু ঝুঁকিপূর্ণ? বর্ণনা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    "দৃশ্যকল্প-২ ও ৩ এ বর্ণিত ঘটনা পরিবেশের ভারসাম্যহীনতার প্রত্যক্ষ প্রভাবে সৃষ্ট।"- বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    কোনো এক আকস্মিক ও চরম প্রাকৃতিক বা মানবসৃষ্ট ঘটনা, যা জীবন, সম্পদ ইত্যাদির ওপর প্রতিকূলভাবে আঘাত করে, তাকে বিপর্যয় (Hazard) বলে।

  2. খ)

    বঙ্গোপসাগরের উত্তর অংশ ফানেলের মতো সংকীর্ণ হয়ে বাংলাদেশের উপকূলে মিশেছে, তাই ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস সহজে উপকূলে আছড়ে পড়ে। গ্রীষ্মের শুরু ও বর্ষার শেষে এ সাগরে উষ্ণ পানি ও নিম্নচাপের সৃষ্টি হয়। এ নিম্নচাপ শক্তি সঞ্চয় করে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়ে বাংলাদেশের দিকে ধেয়ে আসে। এ কারণে বাংলাদেশে ব্যাপক হারে ঘূর্ণিঝড় সংঘটিত হয়।

  3. গ)

    দৃশ্যকল্প-১ এ বর্ণিত দুর্যোগটি ভূমিকম্প। বাংলাদেশ সরাসরি সামুদ্রিক ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চল নয়, তবে ভূতাত্ত্বিক গঠনের কারণে বিশেষ করে উত্তর ও পূর্ব অংশ যথেষ্ট ঝুঁকিপূর্ণ।
    ১. অবস্থান: দেশের উত্তরে আসামের খাসিয়া ও জয়ন্তিয়া পাহাড়, হিমালয়ের পাদদেশ এবং দক্ষিণে আন্দামান দ্বীপপুঞ্জ ও বঙ্গোপসাগরের তলদেশ ভূমিকম্পপ্রবণ।
    ২. ভূতাত্ত্বিক গঠন: দেশের পূর্বাংশে টারশিয়ারি যুগের ভাঁজ-বিশিষ্ট পাহাড়, উত্তরে প্লাইস্টোসিনকালের সোপান এবং বাকি অংশ নবগঠিত প্লাবন সমভূমি।
    ৩. ঝুঁকিভিত্তিক অঞ্চল: ১৯৯৩ সালে দেশকে তিন অঞ্চলে ভাগ করা হয়। অঞ্চল ১ (উত্তর ও উত্তর-পূর্ব) মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ, রিখটার স্কেলে ৭ মাত্রা। অঞ্চল ২ (মধ্য) মাঝারি ঝুঁকিপূর্ণ, ৬ মাত্রা। অঞ্চল ৩ (দক্ষিণ-পশ্চিম) কম ঝুঁকিপূর্ণ, ৫ মাত্রা।

    সুতরাং, বাংলাদেশ, বিশেষ করে উত্তর ও পূর্বাংশ, ভূমিকম্পের জন্য মাঝারি থেকে মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ।

  4. ঘ)

    দৃশ্যকল্প-২ এ ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়া এবং দৃশ্যকল্প-৩ এ অতিবৃষ্টিতে বীজতলা নষ্ট হওয়া, এ দুটিই পরিবেশের ভারসাম্যহীনতার প্রভাবে ঘটে। উক্তিটি যথার্থ।

    ১. দৃশ্যকল্প-২ (পানির স্তর নেমে যাওয়া): বনভূমি ধ্বংস ও গাছ কাটার ফলে বৃষ্টি কমে যায়, মাটিতে পানি চুইয়ে ভূগর্ভে যাওয়া কমে। দীর্ঘ খরা ও সেচ-পানীয়র জন্য অতিরিক্ত ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলনের ফলে পানির স্তর নেমে যায়। ফলে নলকূপে পানি পাওয়া যায় না।
    ২. দৃশ্যকল্প-৩ (অতিবৃষ্টি ও জলাবদ্ধতা): বনভূমি কমে গেলে এবং জলবায়ুর পরিবর্তন ঘটলে আবহাওয়ার স্বাভাবিকতা নষ্ট হয়, ফলে অতিবৃষ্টি হয়। নদী ও জলাশয় ভরাট হয়ে যাওয়ায় পানি নামতে পারে না, জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয় এবং বীজতলা নষ্ট হয়।
    ৩. উভয় ঘটনাই পরিবেশের স্বাভাবিক চক্র, অর্থাৎ বৃষ্টি, পানির প্রবাহ ও ভূগর্ভস্থ পানির ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার সরাসরি ফল।

    সুতরাং, পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হলে এ ধরনের সমস্যা দেখা দেয়, যা কৃষক ও সাধারণ মানুষের জীবনকে বিপন্ন করে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন