অর্থনীতি • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০২৫

অর্থনীতি প্রশ্ন

ঘটনা-১: রিফাত শীতকালীন ছুটিতে মামার বাড়িতে বেড়াতে যায়। সেখানে সে গর্জন, সেগুন, চাপালিশ ও চম্পাসহ অনেক রকমের গাছ ও বিভিন্ন দৃশ্য দেখতে পায়। ঘটনা-২: সিফাত সাহেব করোনা মহামারিতে চাকরি ছেড়ে বাড়িতে এসে নিজ জমিতে শাক-সবজি উৎপাদন, হাঁস-মুরগি পালন এবং মৎস্য চাষ করেন। এ কাজ করে তিনি আর্থিকভাবে স্বচ্ছল হন।

  1. ক)

    চূড়ান্ত দ্রব্য কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    সুযোগ ব্যয় বলতে কী বোঝ?

    (2)
  3. গ)

    রিফাতের দেখা গাছগুলো বাংলাদেশের কোন বনভূমির অন্তর্গত? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    সিফাত সাহেবের নতুন পেশা গ্রামীণ জনপদ উন্নয়নে কী ভূমিকা রাখতে পারে বলে তুমি মনে করো? মতামত দাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    যে দ্রব্য উৎপাদন প্রক্রিয়া শেষে ভোক্তা সরাসরি ভোগের জন্য ব্যবহার করেন এবং যা আর কোনো উৎপাদন প্রক্রিয়ায় ব্যবহৃত হয় না, তাকে চূড়ান্ত দ্রব্য (Final Goods) বলে।

  2. খ)

    মানুষের অভাব অসীম, কিন্তু সম্পদ সীমিত। তাই একটি জিনিস বেছে নিলে আরেকটি ছাড়তে হয়। একটি পছন্দ করতে গিয়ে যে সর্বোত্তম বিকল্পটি ত্যাগ করতে হয়, তার মূল্যই সুযোগ ব্যয় (Opportunity Cost)।
    যেমন, কোনো ব্যক্তি চাকরি না করে নিজের জমিতে চাষ করলে চাকরির বেতনই তার সুযোগ ব্যয়।

  3. গ)

    রিফাতের দেখা গর্জন, সেগুন, চাপালিশ ও চম্পা গাছ বাংলাদেশের পাহাড়ি বনভূমির (ক্রান্তীয় চিরসবুজ ও আর্ধ-চিরসবুজ বন) অন্তর্গত। ব্যাখ্যা:
    ১. এ বনভূমি মূলত চট্টগ্রাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম ও সিলেটের পাহাড়ি এলাকায় অবস্থিত।
    ২. এখানকার প্রধান গাছ গর্জন, চাপালিশ, সেগুন, চম্পা প্রভৃতি, যেগুলো উদ্দীপকে উল্লেখ আছে।
    ৩. এ গাছগুলোর কাঠ আসবাবপত্র, নির্মাণ ও জ্বালানিতে ব্যবহৃত হয়, ফলে এটি দেশের গুরুত্বপূর্ণ বনজ সম্পদ।
    অতএব, রিফাতের দেখা গাছগুলো পাহাড়ি বনভূমির অন্তর্গত।

  4. ঘ)

    সিফাত সাহেব চাকরি ছেড়ে গ্রামে শাকসবজি উৎপাদন, হাঁস-মুরগি পালন ও মৎস্য চাষ করে স্বচ্ছল হয়েছেন। আমার মতে এ ধরনের পেশা গ্রামীণ জনপদের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
    ১. কর্মসংস্থান: এসব খামার গড়ে উঠলে গ্রামের বেকার মানুষের কাজের সুযোগ হয়, ফলে দারিদ্র্য কমে।
    ২. খাদ্য ও পুষ্টি: শাকসবজি, ডিম, মাংস ও মাছের জোগান বাড়ায় স্থানীয় মানুষের পুষ্টি ও খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত হয়।
    ৩. আয় ও জীবনযাত্রার মান: উৎপাদিত পণ্য বিক্রি করে আয় বাড়ে, যা শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও জীবনযাত্রার মান উন্নত করে।
    ৪. অন্যদের অনুপ্রেরণা: সিফাত সাহেবের সাফল্য দেখে অন্যরাও নিজ জমি ও সম্পদ কাজে লাগাতে উৎসাহিত হয়, ফলে শহরমুখী অভিবাসন কমে।
    সুতরাং, সিফাত সাহেবের মতো উদ্যোগ গ্রামীণ অর্থনীতিকে গতিশীল করে জনপদের উন্নয়ন ঘটাতে পারে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন