ব্যবসায় উদ্যোগ • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০২৩

ব্যবসায় উদ্যোগ প্রশ্ন

রাবেয়া আক্তারের স্বামী ঢাকায় রিকশা চালাতো। কিন্তু এক সড়ক দুর্ঘটনায় তার স্বামী পঙ্গু হয়ে যায়। যার ফলে তার সংসারের অচলাবস্থা হয়। রাবেয়া আক্তারের এ পরিস্থিতি দেখে শুধু অসহায় নারীদের স্বকর্মসংস্থানের জন্য পরিচালিত একটি সরকারি প্রতিষ্ঠান রাবেয়া আক্তারকে সেলাই কাজের কারিগরি ও প্রযুক্তিগত প্রশিক্ষণ দেয়। ফলে রাবেয়া আক্তার স্বাবলম্বী হয়। পরবর্তীতে রাবেয়া আক্তার ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে বড় পরিসরে ও বাণিজ্যিকভাবে সেলাইয়ের কাজ শুরু করেন। বর্তমানে তার প্রতিষ্ঠানে শতাধিক কর্মী কাজ করছে।

  1. ক)

    কর্মসংস্থানের প্রধান উৎস কোনটি?

    (1)
  2. খ)

    আত্মকর্মসংস্থানে প্রশিক্ষণ প্রয়োজন কেন? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    রাবেয়া আক্তারকে সহায়তা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানটি ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    রাবেয়া আক্তার কি একজন আত্মকর্মসংস্থানকারী নাকি ব্যবসায় উদ্যোক্তা? তোমার মতামতের সপক্ষে যুক্তি দাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    কর্মসংস্থানের প্রধান উৎস সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান।

  2. খ)

    আত্মকর্মসংস্থানে প্রশিক্ষণ প্রয়োজন, কারণ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কাজের দক্ষতা ও কারিগরি জ্ঞান অর্জন করা যায়। প্রশিক্ষণ পাওয়া ব্যক্তি আত্মবিশ্বাসী হন এবং নিজের কাজ ভালোভাবে সম্পন্ন করতে পারেন। এতে ঝুঁকি কমে, সময় ও অর্থের অপচয় রোধ হয় এবং ব্যবসায়ে সফল হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে।

  3. গ)

    রাবেয়া আক্তারকে সহায়তা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানটি মহিলা অধিদপ্তর।

    ১. শহর ও গ্রামের মহিলাদের সৃজনশীলতার বিকাশ, আত্মকর্মসংস্থান ও ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে এই সরকারি প্রতিষ্ঠান কাজ করে।
    ২. এটি নারী উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ, ঋণ প্রদানসহ বিভিন্ন সহায়তা দেয়। প্রশিক্ষণের মধ্যে রয়েছে হাঁস-মুরগি ও গবাদি পশু পালন, হস্তশিল্প, বাটিকের কাজ, বুনন ও সেলাই।
    ৩. উদ্দীপকে অসহায় নারীর স্বকর্মসংস্থানের জন্য সরকারি প্রতিষ্ঠান রাবেয়াকে সেলাইয়ের প্রশিক্ষণ দিয়েছে, যা মহিলা অধিদপ্তরের কাজের সাথে মেলে।

  4. ঘ)

    আমার মতে, রাবেয়া আক্তার বর্তমানে একজন ব্যবসায় উদ্যোক্তা, যদিও শুরুতে তিনি আত্মকর্মসংস্থানকারী ছিলেন।

    ১. শুরুতে আত্মকর্মসংস্থান: প্রশিক্ষণ নিয়ে নিজের দক্ষতা কাজে লাগিয়ে তিনি নিজের কর্মসংস্থান করেছিলেন এবং স্বাবলম্বী হয়েছিলেন।
    ২. ব্যাংকঋণ নিয়ে ঝুঁকি গ্রহণ: পরে তিনি ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে ঝুঁকি আছে জেনেও বড় পরিসরে ও বাণিজ্যিকভাবে সেলাইয়ের কাজ শুরু করেছেন।
    ৩. প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা ও অন্যের কর্মসংস্থান: তাঁর প্রতিষ্ঠানে এখন শতাধিক কর্মী কাজ করছে। আত্মকর্মসংস্থানকারী ব্যক্তি যখন নিজের পাশাপাশি অন্যদের কর্মসংস্থানের চিন্তা করে ঝুঁকি নিয়ে একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন, তখনই তিনি উদ্যোক্তা হয়ে ওঠেন।

    সুতরাং, বর্তমান অবস্থায় রাবেয়া আক্তার একজন ব্যবসায় উদ্যোক্তা।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন