পৌরনীতি ও নাগরিকতা • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০২৪
পৌরনীতি ও নাগরিকতা প্রশ্ন
মানব সভ্যতার ইতিহাসে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের চেয়েও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ ছিল কলঙ্কিত ও বিভীষিকাময়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহতায় শিহরিত বিশ্ব নেতৃবৃন্দ এমন একটি সংগঠন সৃষ্টির উদ্যোগ গ্রহণ করেন যেন ভবিষ্যতে এ ধরনের অবস্থা সৃষ্টি হওয়ার পূর্বেই উক্ত সংগঠনটি কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করে বিশ্বকে রক্ষা করতে পারে। এ উদ্দেশ্যকে সামনে রেখেই বিশ্ব মানবতার কল্যাণের লক্ষ্যে কয়েকটি শাখা নিয়ে সৃষ্টি হয় বিশ্বের সবচেয়ে বড় একটি আন্তর্জাতিক সংগঠন।
- ক)(1)
OIC-এর পূর্ণরূপ লেখো।
- খ)(2)
নিরাপত্তা পরিষদকে জাতিসংঘের সবচেয়ে শক্তিশালী শাখা বলা হয় কেন? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে কোন সংগঠন সৃষ্টির কথা বলা হয়েছে? উহার গঠন বর্ণনা করো।
- ঘ)(4)
“উক্ত সংগঠনটির সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর ও হৃদ্যতাপূর্ণ"- উক্তিটি মূল্যায়ন করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
OIC-এর পূর্ণরূপ Organisation of Islamic Cooperation (ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা)।
- খ)
নিরাপত্তা পরিষদের ক্ষমতা ও কার্যাবলির কারণে একে জাতিসংঘের সবচেয়ে শক্তিশালী শাখা বলা হয়।
বিশ্বশান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষার প্রধান দায়িত্ব এ পরিষদের। এর সিদ্ধান্ত সদস্য রাষ্ট্রগুলো মানতে বাধ্য। প্রয়োজনে এটি অর্থনৈতিক অবরোধ আরোপ বা সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিতে পারে। পাঁচ স্থায়ী সদস্যের ভেটো ক্ষমতাও এর শক্তি বাড়িয়েছে।
- গ)
উদ্দীপকে জাতিসংঘ (United Nations) সৃষ্টির কথা বলা হয়েছে।
জাতিসংঘের গঠন: জাতিসংঘ ছয়টি প্রধান শাখা নিয়ে গঠিত:
১. সাধারণ পরিষদ: সব সদস্য রাষ্ট্রের প্রতিনিধি নিয়ে গঠিত; এটি জাতিসংঘের প্রধান আলোচনা সভা।
২. নিরাপত্তা পরিষদ: ৫টি স্থায়ী ও ১০টি অস্থায়ী সদস্য নিয়ে গঠিত।
৩. অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদ: আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের সমন্বয় করে।
৪. অছি পরিষদ: অছি অঞ্চলের শাসন তদারকি করে।
৫. আন্তর্জাতিক বিচারালয়: রাষ্ট্রসমূহের মধ্যকার আইনি বিরোধ নিষ্পত্তি করে।
৬. সচিবালয়: মহাসচিবের নেতৃত্বে প্রশাসনিক কাজ পরিচালনা করে।
- ঘ)
উক্তিটি যথার্থ। জাতিসংঘের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর ও হৃদ্যতাপূর্ণ।
১. সদস্যপদ: বাংলাদেশ ১৯৭৪ সালে জাতিসংঘের সদস্যপদ লাভ করে এবং একই বছর বঙ্গবন্ধু জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বাংলায় ভাষণ দেন।
২. শান্তিরক্ষা: বাংলাদেশ জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী মিশনে সৈন্য ও পুলিশ পাঠিয়ে বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় অবদান রাখছে।
৩. উন্নয়ন সহযোগিতা: জাতিসংঘের UNDP, UNICEF, WHO, FAO ইত্যাদি সংস্থা বাংলাদেশে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কৃষি ও দারিদ্র্য দূরীকরণে সহায়তা করছে।
৪. ভাষা ও সংস্কৃতি: ইউনেস্কো ২১শে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণা করেছে।
সুতরাং, সদস্যপদ, শান্তিরক্ষা, উন্নয়ন ও সংস্কৃতিতে পারস্পরিক সহযোগিতার কারণে সম্পর্ক গভীর ও হৃদ্যতাপূর্ণ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও