হিন্দু ধর্ম • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২৪

হিন্দু ধর্ম প্রশ্ন

শিশির বাবু. এমন একজন মানুষ যিনি নারী স্বাধীনতায় বিশ্বাস করতেন। সকল শ্রেণির লোককে সমান চোখে দেখতেন। তিনি আমেরিকায় ধর্মসভায়, ভাষণ দেওয়ায় তার খ্যাতি চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে। তিনি 'সাইক্লোনিক হিন্দু' নামে পরিচিত হন। অপরদিকে, পরিমাল বাবু ছিলেন কালীর সাধক। তিনি বিভিন্ন ধর্মচর্চার মাধ্যমে ঈশ্বরকে উপলব্ধি করেছেন। তিনি প্রকৃতিকে ভালোবাসেন। নারীকে মাতৃজ্ঞানে পূজা করতেন।

  1. ক)

    অংশাবতার কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    'হিতসঞ্চারিণী' বলতে কী বোঝায়?

    (2)
  3. গ)

    শিশির বাবুর মধ্যে কোন মহামানবের প্রতিফলন ঘটেছে তা পাঠ্যপুস্তকের আলোকে ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের পরিমল বাবুর মধ্যে যে মহাপুরুষের আদর্শ লুকায়িত আছে তার শিক্ষার গুরুত্ব বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    ভগবানের অপূর্ণাঙ্গের অবতারকে অংশাবতার বলে। এতে ভগবানের সমস্ত শক্তি ও গুণ থাকে না। মৎস্য, কূর্ম, বরাহ, নৃসিংহ, বামন, পরশুরাম, রাম, বলরাম, বুদ্ধ ও কল্কি, এই দশটি প্রধান অংশাবতার।

  2. খ)

    'হিতসঞ্চারিণী' হলো একটি সভার নাম। শ্রীবিজয়কৃষ্ণ গোস্বামী মেডিকেল কলেজে পড়ার সময় কয়েকজন বন্ধুকে নিয়ে এই সভা স্থাপন করেন। সভার সিদ্ধান্ত ছিল, যিনি যা সত্য বলে বুঝবেন, তিনি তা প্রাণপণে কার্যে পরিণত করবেন। এই সভায় বিজয়কৃষ্ণ জাতিভেদের চিহ্ন পৈতা ত্যাগের সিদ্ধান্ত দেন এবং ব্রাহ্মণরা পৈতা ফেলে দেন।

  3. গ)

    শিশির বাবুর মধ্যে স্বামী বিবেকানন্দের প্রতিফলন ঘটেছে।

    স্বামী বিবেকানন্দ ছিলেন নারী-স্বাধীনতায় বিশ্বাসী এবং নারীশিক্ষার সমর্থক। তাঁর কাছে কোনো জাতিভেদ ছিল না। তিনি নীচ জাতি, দরিদ্র, মুচি, মেথর সবাইকে ভাই বলতেন, সবাইকে সমান চোখে দেখতেন। ১৮৯৩ খ্রিষ্টাব্দে তিনি আমেরিকার শিকাগোর বিশ্বধর্ম সম্মেলনে বক্তৃতা দেন। সেখানে তিনি বলেন, সকল ধর্মের লক্ষ্য এক, ঈশ্বরলাভ। তাঁর বক্তৃতায় সবাই মুগ্ধ হন, ধর্মসভার বিচারে তিনি শ্রেষ্ঠ বক্তা হন। এরপর তাঁর নাম ছড়িয়ে পড়ে এবং আমেরিকার সংবাদপত্র তাঁকে 'সাইক্লোনিক হিন্দু' বলে অভিহিত করে।

    উদ্দীপকে শিশির বাবু নারী স্বাধীনতায় বিশ্বাসী ছিলেন এবং সকল শ্রেণির লোককে সমান চোখে দেখতেন। আমেরিকায় ধর্মসভায় ভাষণ দিয়ে তাঁর খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে এবং তিনি 'সাইক্লোনিক হিন্দু' নামে পরিচিত হন। এই প্রতিটি বৈশিষ্ট্য বিবেকানন্দের সাথে হুবহু মেলে।

    অতএব শিশির বাবুর মধ্যে স্বামী বিবেকানন্দের আদর্শ ও জীবনের প্রতিফলন ঘটেছে।

  4. ঘ)

    উদ্দীপকের পরিমল বাবুর মধ্যে মহাপুরুষ শ্রীরামকৃষ্ণের আদর্শ লুকিয়ে আছে। কারণ তিনি কালীর সাধক, বিভিন্ন ধর্মচর্চা করে ঈশ্বরকে উপলব্ধি করেছেন, প্রকৃতিকে ভালোবাসেন এবং নারীকে মাতৃজ্ঞানে পূজা করেন। শ্রীরামকৃষ্ণের শিক্ষার গুরুত্ব বর্তমান সমাজে অপরিসীম।

    পাঠ্যবই অনুযায়ী শ্রীরামকৃষ্ণ ছিলেন কালীর সাধক। বালক গদাধর প্রকৃতিপ্রেমী ছিলেন। তিনি হিন্দু ধর্মের পাশাপাশি ইসলাম ও খ্রিষ্ট ধর্মমতেও সাধনা করে ঈশ্বরকে উপলব্ধি করেছেন। তিনি নারীমাত্রকে মাতৃস্বরূপা মনে করতেন এবং স্ত্রী সারদা দেবীকেও জগদম্বা জ্ঞানে পূজা করতেন।

    ১. ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সহনশীলতা : তাঁর বাণী ছিল 'সকল ধর্মই সত্য, যত মত তত পথ'। তিনি বলতেন, ছাদে ওঠার যেমন নানা উপায়, ঈশ্বরের কাছে যাওয়ারও তেমন অনেক পথ। এ শিক্ষা ধর্মীয় সংঘাত দূর করে সম্প্রীতি আনে।

    ২. জীবসেবাই ঈশ্বরসেবা : তিনি জীবকে শিবজ্ঞানে সেবা করতেন, দরিদ্র মানুষের কষ্টে তাঁর মন কাঁদত। দরিদ্রনারায়ণের সেবার শিক্ষা সমাজে মানবিকতা বাড়ায়।

    ৩. নারীর প্রতি সম্মান : সকল নারীর মধ্যে জগন্মাতাকে দর্শন করার শিক্ষা নারীর মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করে ও পারিবারিক শান্তি আনে।

    ৪. জাতিভেদ ও অহংকার বর্জন : 'ভক্তের জাতি নেই', উঁচু-নিচু সব মানুষের জন্য তাঁর দরজা খোলা ছিল। এ শিক্ষা সমাজে সাম্য ও ভ্রাতৃত্ব গড়ে তোলে। তিনি পিতা-মাতা ও জন্মভূমিকে শ্রদ্ধা করার উপদেশও দিয়েছেন।

    সুতরাং শ্রীরামকৃষ্ণের শিক্ষা মানুষকে উদার, সহনশীল, মানবিক ও নৈতিকভাবে উন্নত করে। এর অনুসরণে আমরা যথার্থ মানুষ হতে পারব।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন