বিজ্ঞান • Combined Board • সকল বোর্ড ২০১৮

বিজ্ঞান প্রশ্ন

মনছুরা খানম খাদ্য পচন রোধে পরিমিত পরিমাণে রাসায়নিক. পদার্থ ব্যবহার করেন এবং বিশেষ কতগুলো ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। এতে তার গহে বানানো খাদ্যদ্রব্য অনেক দিন পর্যন্ত ভালো থাকে। অন্যদিকে তার প্রতিবেশী ফল ব্যবসায়ী মুরাদ মিয়াও ফলের পচন রোধে এবং দীর্ঘদিন ভালো রাখার জন্য রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার করেন।

  1. ক)

    চর্বি কী?

    (1)
  2. খ)

    রাফেজ বলতে কী বোঝায়?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত মনছুরা খানমের ব্যবহৃত সংরক্ষণ পদ্ধতিগুলো ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত মনছুরা খানম ও মুরাদ মিয়ার সংরক্ষণ পদ্ধতির মধ্যে কোনটি জনস্বাস্থ্যকর? উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    কঠিন স্নেহ পদার্থকে (সম্পৃক্ত ফ্যাটি এসিড), যা সাধারণ তাপমাত্রায় ও চাপে কঠিন অবস্থায় থাকে, চর্বি বলে; যেমন- মাছ বা মাংসের চর্বি।

  2. খ)

    শস্যবীজ, ডাল, আলু, খোসাসমেত টাটকা ফল ও শাকসবজি ইত্যাদি খাদ্যের দীর্ঘ তন্তুময় অংশকে রাফেজ বা আঁশ বলে।
    রাফেজ প্রধানত উদ্ভিদ থেকে পাওয়া যায় এবং মূলত সেলুলোজ দিয়ে গঠিত। এটি হজম হয় না, কিন্তু পানি শোষণ করে মলের পরিমাণ বাড়িয়ে পরিপাকে সহায়তা করে এবং শরীরের অতিরিক্ত চর্বি কমাতে সাহায্য করে।

  3. গ)

    মনছুরা খানম খাদ্য সংরক্ষণে পরিমিত রাসায়নিক সংরক্ষক এবং বিশেষ কিছু ব্যবস্থা ব্যবহার করেন। এগুলো নিচে ব্যাখ্যা করা হলো:

    ১. রাসায়নিক সংরক্ষক: ভিনেগার (এসেটিক এসিডের ৪-১০% জলীয় দ্রবণ) আচার, চাটনি, সসে জীবাণুর বৃদ্ধি রোধ করে। সোডিয়াম বেনজোয়েট ফলের রস ও শাঁসে ছত্রাক ও ইস্টের বৃদ্ধি আটকায়। সোডিয়াম বাইসালফাইটের মতো সালফেটের লবণ ছত্রাক ও ব্যাকটেরিয়া প্রতিরোধ করে। এগুলো সঠিক মাত্রায় ব্যবহার করতে হয়।
    ২. শুষ্ককরণ: খাদ্য থেকে পানি শুকিয়ে ফেললে ছত্রাক ও ব্যাকটেরিয়া জন্মাতে পারে না।
    ৩. রেফ্রিজারেশন ও ফ্রিজিং: নিম্ন তাপমাত্রায় জীবাণু ও এনজাইমের ক্রিয়া কমে বা বন্ধ হয়; ফ্রিজিংয়ে (-১৮° সে. বা তার নিচে) খাদ্য দীর্ঘদিন ভালো থাকে।
    ৪. চিনি বা লবণের দ্রবণ: ঘন দ্রবণ বহি-অভিস্রবণের মাধ্যমে অণুজীব ধ্বংস করে; এভাবে জ্যাম, জেলি ও আচার সংরক্ষণ করা হয়।

  4. ঘ)

    মনছুরা খানম ও মুরাদ মিয়ার মধ্যে মনছুরা খানমের সংরক্ষণ পদ্ধতিই জনস্বাস্থ্যকর বলে আমি মনে করি।

    ১. মনছুরা খানম ভিনেগার, সোডিয়াম বেনজোয়েটের মতো অনুমোদিত সংরক্ষক পরিমিত মাত্রায় ব্যবহার করেন এবং শুষ্ককরণ, ফ্রিজিং, চিনি-লবণের দ্রবণের মতো নিরাপদ পদ্ধতিও কাজে লাগান। সঠিক মাত্রায় ব্যবহারে এগুলো মানবদেহে ক্ষতি করে না।
    ২. অন্যদিকে ফল ব্যবসায়ী মুরাদ মিয়া ফলের পচন রোধে যে রাসায়নিক ব্যবহার করেন, তা যদি ফরমালিন বা ক্যালসিয়াম কার্বাইডের মতো নিষিদ্ধ বা যথেচ্ছ ব্যবহৃত পদার্থ হয়, তবে তা অত্যন্ত ক্ষতিকর। ফরমালিন দীর্ঘদিন গ্রহণ করলে বদহজম, পেটের পীড়া, শ্বাসকষ্ট, লিভার ও কিডনি নষ্ট হওয়া এমনকি ক্যান্সারও হতে পারে।
    ৩. যথেচ্ছ ব্যবহৃত রাসায়নিকযুক্ত ফল ক্রেতার দেহে জটিল রোগ সৃষ্টি করে এবং জনস্বাস্থ্যকে হুমকির মুখে ফেলে।

    অতএব, নিরাপদ ও পরিমিত পদ্ধতির কারণে মনছুরা খানমের সংরক্ষণ পদ্ধতি জনস্বাস্থ্যের জন্য অধিক উপযোগী।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন