হিন্দু ধর্ম • Combined Board • সকল বোর্ড ২০১৬
হিন্দু ধর্ম প্রশ্ন
প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড়ে দেবাশীষ পরিবারের সবাইকে হারিয়ে সর্বস্বান্ত হয়ে পড়ে। স্বাভাবিক জীবনযাপন করা তার পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়ে। এমন সময় শারদীয় দুর্গাপূজার শুভাগমন ঘটে। পাড়া-প্রতিবেশী ও বন্ধু- বান্ধবদের অক্লান্ত প্রচেষ্টায় সে আবার নতুন জীবন ফিরে পায়। মা দুর্গাই তার বেঁচে থাকার মানসিক শক্তি ও প্রেরণা যোগায়।
- ক)(1)
হিন্দুধর্মের আদি ধর্মগ্রন্থ কোনটি?
- খ)(2)
বোধন বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
দেবাশীষ কীভাবে দুর্গাপূজার আয়োজন করবে? দুর্গাপূজা পদ্ধতির আলোকে বর্ণনা করো।
- ঘ)(4)
দেবাশীষের জীবনালোকে দুর্গাপূজার সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
হিন্দুধর্মের আদি ধর্মগ্রন্থ বেদ।
- খ)
দুর্গাপূজার প্রথম দিন অর্থাৎ ষষ্ঠী তিথিতে সন্ধ্যাকালে দেবী দুর্গাকে জাগ্রত বা আবাহন করার যে আনুষ্ঠানিকতা, তাকে বোধন বলে। 'বোধন' শব্দের অর্থ জাগরণ। বোধনের পর অধিবাস ও আমন্ত্রণ অনুষ্ঠিত হয় এবং এর মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে দুর্গাপূজা শুরু হয়।
- গ)
দেবাশীষ শারদীয় দুর্গাপূজা আয়োজন করবে। পাঠ্যবইয়ে বর্ণিত দুর্গাপূজা পদ্ধতি অনুযায়ী তার আয়োজন নিচে বর্ণনা করা হলো।
সময়কাল: আশ্বিন মাসের শুক্লপক্ষের ষষ্ঠী তিথিতে প্রতিমা স্থাপন করে শারদীয় দুর্গোৎসব শুরু হয় এবং পাঁচ দিন ধরে চলে। মহালয়া উদযাপনের মাধ্যমে দেবীর আগমনী ঘোষিত হয়।
পূজার ধারা:
১. প্রথম দিন (ষষ্ঠী): সুষ্ঠুভাবে পূজা করার সংকল্প করতে হবে। সন্ধ্যায় বোধন, অধিবাস ও আমন্ত্রণ অনুষ্ঠিত হবে।
২. দ্বিতীয় দিন (মহাসপ্তমী): নবপত্রিকা (কলাবৌ) প্রবেশ ও স্থাপন করা হবে এবং সপ্তমীবিহিত পূজা হবে। মন্ত্র উচ্চারণ করে প্রতিমার প্রাণপ্রতিষ্ঠা করে ফুল, বেলপাতা, নৈবেদ্য ও বস্ত্রে দেবীকে পূজা করতে হবে।
৩. তৃতীয় দিন (মহাষ্টমী): মহাষ্টমী পূজা, কুমারী পূজা ও সন্ধিপূজা।
৪. চতুর্থ দিন (মহানবমী): নবমীবিহিত পূজা।
৫. পঞ্চম দিন (দশমী): দশমীবিহিত পূজা ও প্রতিমা বিসর্জন। বিজয়া দশমীতে দেবীকে সিঁদুর পরানো, মিষ্টিমুখ করানো ও বিদায় জানানো হবে এবং সবাই পরস্পরকে শুভেচ্ছা জানাবে।পাড়া-প্রতিবেশী ও বন্ধুদের সহযোগিতায় দেবাশীষ এভাবে পূজা আয়োজন করতে পারবে।
- ঘ)
দেবাশীষ ঘূর্ণিঝড়ে সর্বস্ব হারিয়ে শারদীয় দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে প্রতিবেশী ও বন্ধুদের সহযোগিতায় নতুন জীবন ফিরে পায়। এ থেকে বোঝা যায়, দুর্গাপূজা আমাদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক জীবনে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে।
পাঠ্যবইয়ের আলোকে: দুর্গোৎসব হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব। এটি আর্থ-সামাজিক, পারিবারিক ও নৈতিক জীবনের উন্নয়নে ভূমিকা রাখে।
১. সামাজিক মিলন ও সম্প্রীতি: দুর্গাপূজা এক মিলন মহোৎসব। সকলের অংশগ্রহণে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বাড়ে। দেবাশীষের প্রতিবেশী ও বন্ধুরা একত্র হয়ে তাকে সহায়তা করেছে, যা সামাজিক বন্ধন ও পারস্পরিক সহমর্মিতার দৃষ্টান্ত।
২. ঐক্য ও অশুভের বিরুদ্ধে শক্তি: দেবী দুর্গা দেবতাদের সম্মিলিত শক্তির প্রকাশ, তাই এটি ঐক্যের প্রতীক। মহিষাসুর বধের মাধ্যমে অন্যায়ের বিরুদ্ধে ন্যায়ের বিজয় ঘোষিত হয়। এই প্রেরণা দেবাশীষের মতো বিপর্যস্ত মানুষকে মানসিক শক্তি জোগায়।
৩. অর্থনৈতিক প্রভাব: পূজাকে ঘিরে প্রতিমা নির্মাণ, মণ্ডপসজ্জা, ফুল-ফল-নৈবেদ্য ও বস্ত্র বিক্রয় ইত্যাদির মাধ্যমে কারিগর, ব্যবসায়ী ও অনেক মানুষের আয়ের সুযোগ তৈরি হয়। পূজাসংখ্যা, স্মরণিকা প্রকাশ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও অর্থনৈতিক ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে গতি আনে।
৪. পারিবারিক ও নৈতিক প্রভাব: উৎসব উপলক্ষে পরিবারের সদস্যরা একত্র হয়, প্রণাম ও শুভেচ্ছা বিনিময় হয় এবং পরস্পরের প্রতি স্নেহ ও শ্রদ্ধা বাড়ে।সুতরাং, দুর্গাপূজা শুধু ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, এটি সমাজে ঐক্য, অর্থনৈতিক সচলতা ও মানসিক শক্তি জোগায়; দেবাশীষের জীবনে তারই প্রতিফলন ঘটেছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও