ভূগোল এবং পরিবেশ • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০২৪
ভূগোল এবং পরিবেশ প্রশ্ন
রফিক সাহেব একটি বেসরকারি সংস্থার মাধ্যমে প্রত্যন্ত এলাকায় ক্ষুদ্র ঋণ সহায়তার পাশাপাশি বিশুদ্ধ পানির সংস্থান, বৃক্ষরোপণ ও সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় আইনি পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন।
- ক)(1)
প্রশমন কাকে বলে?
- খ)(2)
বাংলাদেশের বান্দরবানে রেলপথ নেই কেন? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
রফিক সাহেবের কাজগুলোর মাধ্যমে জাতিসংঘ ঘোষিত কোন বিষয়টি অর্জিত হচ্ছে? ব্যাখ্যা করো
- ঘ)(4)
রফিক সাহেব আর কোন কোন কাজের মাধ্যমে লক্ষ্যের প্রয়োগ ঘটাতে পারেন বলে তুমি মনে করো? বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনার জন্য যেসব কাঠামোগত ও অকাঠামোগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়, তাকে প্রশমন বলে।
- খ)
বান্দরবান পার্বত্য অঞ্চল। এখানকার ভূপ্রকৃতি উঁচুনিচু ও বন্ধুর। এ ধরনের বন্ধুর ভূমিরূপে পাহাড়ের গা বেয়ে রেলপথ নির্মাণ অত্যন্ত ব্যয়বহুল ও কষ্টসাধ্য। সমতলভূমি রেলপথ নির্মাণের জন্য সুবিধাজনক, কিন্তু পাহাড়ি অঞ্চলে তা নয়। তাই বান্দরবানে রেলপথ গড়ে ওঠেনি।
- গ)
রফিক সাহেবের কাজগুলোর মাধ্যমে জাতিসংঘ ঘোষিত টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট (SDG) অর্জিত হচ্ছে।
ব্যাখ্যা: জাতিসংঘ অর্থনৈতিক, সামাজিক ও পরিবেশগত উন্নয়নের সমন্বয়ে ২০৩০ সালের মধ্যে টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট অর্জনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। উদ্দীপকে রফিক সাহেব যেসব কাজ করছেন, তা এ অভীষ্টেরই অংশ-
১. ক্ষুদ্র ঋণ সহায়তা: দরিদ্র মানুষের আয়ের সুযোগ সৃষ্টি করে দারিদ্র্য হ্রাসে সহায়তা করছে।
২. বিশুদ্ধ পানির সংস্থান: গ্রাম ও শহরে বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা মানুষের ভালোভাবে বেঁচে থাকার পরিবেশ তৈরি করে।
৩. বৃক্ষরোপণ: পরিবেশ সংরক্ষণ ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় সহায়ক।
৪. আইনি পরামর্শ: সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হলে নৈরাজ্য কমে স্থিতিশীলতা বাড়ে। - ঘ)
রফিক সাহেব টেকসই উন্নয়ন অভীষ্টের (SDG) আরও অনেক লক্ষ্য অর্জনে নিম্নোক্ত কাজগুলো করতে পারেন-
১. শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়ন: প্রত্যন্ত এলাকায় শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে মানুষকে দক্ষ করা যায়। এতে মৌলিক চাহিদার মধ্যে শিক্ষা ও চিকিৎসার চাহিদা পূরণে সহায়তা হবে।
২. নারীর ক্ষমতায়ন: জেন্ডার সমতা ও নারী-মেয়েদের ক্ষমতায়নের জন্য নারী উদ্যোক্তাদের সহায়তা ও সচেতনতামূলক কর্মসূচি নিলে সমাজে নারী নির্যাতন কমবে।
৩. স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যসেবা: সুষ্ঠু পয়ঃনিষ্কাশনের ব্যবস্থা ও স্বাস্থ্য সচেতনতা বাড়িয়ে জীবনযাত্রার মান উন্নত করা সম্ভব।
৪. নবায়নযোগ্য জ্বালানি: সৌরশক্তির মতো টেকসই নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারে উৎসাহিত করলে কৃষি ও শিল্প উৎপাদন বাড়বে।
৫. দুর্যোগ প্রশমন ও অংশীদারিত্ব: বন্যা, ঘূর্ণিঝড়ের ক্ষয়ক্ষতি কমানোর সচেতনতা এবং সরকার ও অন্যান্য সংস্থার সাথে অংশীদারিত্ব গড়ে তোলা যায়।সুতরাং, রফিক সাহেব এসব কাজের মাধ্যমে আরও ব্যাপকভাবে টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখতে পারেন।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও