অর্থনীতি ২য় পত্র • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০২২
অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন
চিত্রটি লক্ষ করো-

- ক)(1)
উল্লম্ফল মুদ্রাস্ফীতি কী?
- খ)(2)
"অনুৎপাদনশীল খাতে ব্যয় বৃদ্ধি বাংলাদেশের মুদ্রাস্ফীতি ঘটায়"-ব্যাখ্যা করো
- গ)(3)
চিত্রে কী ধরনের মুদ্রাস্ফীতি প্রকাশ পেয়েছে ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে নির্দেশিত মুদ্রাস্ফীতি রোধে কী কী ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে? মতামত দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
অর্থনীতিতে যখন দ্রব্যমূল্য অস্বাভাবিক দ্রুতগতিতে এবং শতকরা বহুগুণ হারে লাফিয়ে লাফিয়ে বৃদ্ধি পায় (সাধারণত তিন বা ততোধিক অঙ্কে), তখন তাকে উল্লম্ফন বা উল্লম্ফল মুদ্রাস্ফীতি (Galloping/Hyperinflation) বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
অনুৎপাদনশীল খাতে সরকারের বা জনগণের ব্যয় বৃদ্ধি পেলে মানুষের হাতে অর্থের জোগান ও ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়, কিন্তু সে অনুপাতে দেশে পণ্য ও সেবার উৎপাদন বাড়ে না। ফলে বাজারে অতিরিক্ত ক্রয়ক্ষমতার চাপে সামগ্রিক চাহিদা সামগ্রিক জোগানের চেয়ে অনেক বেশি বৃদ্ধি পায়। জোগানের অপ্রতুলতার কারণে পণ্যের দাম ক্রমাগত বৃদ্ধি পায়, যা বাংলাদেশে মুদ্রাস্ফীতি সৃষ্টির অন্যতম প্রধান কারণ।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের চিত্রে 'চাহিদা বৃদ্ধিজনিত মুদ্রাস্ফীতি' (Demand-pull Inflation) প্রকাশ পেয়েছে।
চিত্রে ভূমি অক্ষে উৎপাদন বা জাতীয় আয় (Q) এবং লম্ব অক্ষে দামস্তর (P) নির্দেশ করা হয়েছে। পূর্ণ নিয়োগ অবস্থায় সামগ্রিক জোগান রেখা AS উল্লম্ব (Qf স্তরে স্থির)। প্রাথমিক অবস্থায় সামগ্রিক চাহিদা রেখা D1 এবং সামগ্রিক জোগান রেখা S পরস্পরকে 'a' বিন্দুতে ছেদ করে, যেখানে ভারসাম্য দামস্তর OP1 এবং উৎপাদন OQf।
এখন কোনো কারণে সামগ্রিক চাহিদা বৃদ্ধি পেয়ে চাহিদা রেখা ডানে স্থানান্তরিত হয়ে D2 হলে নতুন ভারসাম্য 'b' বিন্দুতে নির্ধারিত হয়। কিন্তু উৎপাদন পূর্ণ নিয়োগ স্তর OQf-এ স্থির থাকায় উৎপাদন আর বৃদ্ধি করা সম্ভব হয় না। ফলে সামগ্রিক চাহিদা বৃদ্ধির চাপে দামস্তর OP1 থেকে বৃদ্ধি পেয়ে OP2-তে উন্নীত হয়। উৎপাদন অপরিবর্তিত থেকে সামগ্রিক চাহিদা বৃদ্ধির কারণে দামস্তরের এই ক্রমবৃদ্ধিকে চাহিদা বৃদ্ধিজনিত মুদ্রাস্ফীতি বলে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে নির্দেশিত মুদ্রাস্ফীতিটি হলো চাহিদা বৃদ্ধিজনিত মুদ্রাস্ফীতি। এটি রোধে মুদ্রানীতি, রাজস্ব নীতি এবং প্রত্যক্ষ নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থার সমন্বয়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা যেতে পারে:
১. সংকোচনমূলক আর্থিক বা মুদ্রানীতি:
- ব্যাংক হার বৃদ্ধি: কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংকের সুদের হার ও ঋণ প্রদানের শর্ত কঠোর করার লক্ষ্যে ব্যাংক হার বৃদ্ধি করতে পারে। এতে ঋণের পরিমাণ হ্রাস পেয়ে বাজারে অর্থের প্রবাহ কমে যাবে।
- খোলা বাজারে ঋণপত্র বিক্রয়: কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাজারে সরকারি সিকিউরিটিজ ও বন্ড বিক্রি করে জনগণের অতিরিক্ত অর্থ তুলে নিতে পারে।
- জমার অনুপাত বৃদ্ধি: বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর বিধিবদ্ধ নগদ জমার হার (CRR ও SLR) বৃদ্ধি করে তাদের ঋণদান ক্ষমতা সংকুচিত করা সম্ভব।
২. সংকোচনমূলক রাজস্ব বা ফিসক্যাল নীতি:
- সরকারি ব্যয় হ্রাস: সরকার উন্নয়নমূলক ও অনুৎপাদনশীল খাতে অতিরিক্ত ব্যয় নিয়ন্ত্রণ করতে পারে, যার ফলে সামগ্রিক চাহিদা হ্রাস পাবে।
- করের হার বৃদ্ধি: প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ করের হার বৃদ্ধি করলে জনগণের ব্যয়যোগ্য আয় হ্রাস পাবে, যা সামগ্রিক চাহিদাকে কমাবে।
- অভ্যন্তরীণ ঋণ গ্রহণ: সরকার জনগণের কাছ থেকে অভ্যন্তরীণ ঋণের পরিমাণ বাড়িয়ে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস করতে পারে।
৩. প্রত্যক্ষ ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা:
- মজুরি নিয়ন্ত্রণ: অনাকাঙ্ক্ষিত মজুরি বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করে অতিরিক্ত ভোগ ব্যয় কমানো।
- কালোবাজারি ও মজুতদারি রোধ: বাজারে কৃত্রিম সংকট দূরীকরণে নজরদারি বৃদ্ধি করা।
সুতরাং, উপযুক্ত মুদ্রানীতি ও রাজস্বনীতির সমন্বিত প্রয়োগের মাধ্যমে বাজারে অর্থের প্রবাহ ও অতিরিক্ত চাহিদা সংকুচিত করে উদ্দীপকে নির্দেশিত মুদ্রাস্ফীতি সফলভাবে রোধ করা সম্ভব।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও