অর্থনীতি ২য় পত্র • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০১৬
অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন
'ক' একটি উন্নয়নশীল দেশ। 'ক' দেশের কতকগুলো সুনির্দিষ্ট অর্থনৈতিক ও সামাজিক লক্ষ্য অর্জনের জন্য এবং দেশের সম্পদ উপযুক্ত ব্যবহারের জন্য বিভিন্ন মেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করে। 'ক' দেশের ন্যায় আমাদের দেশেও উন্নয়নের জন্য বিভিন্ন মেয়াদি পরিকল্পনা গৃহীত হয়। এর মধ্যে সর্বশেষ ২০১০-২০২১ সাল মেয়াদি পরিকল্পনা। উক্ত পরিকল্পনা দারিদ্র্য সীমার নিচে বসবাসকারী জনসংখ্যা বর্তমানে ৩১.৫% থেকে ১৫% এ নামিয়ে আনা, প্রাথমিক শিক্ষাস্তরে শতভাগ এনরোলমেন্ট নিশ্চিত করে। ICT এর সুবিধা অর্জনের মাধ্যমে দেশকে ডিজিটালাইজ করা ইত্যাদি লক্ষ্য নির্ধারিত হয়।
- ক)(1)
পরিকল্পনা কী?
- খ)(2)
'সুষম উন্নয়নের জন্য পরিকল্পনার প্রয়োজন'- ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
'ক' দেশে উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণের কারণ ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
২০১০-২০২১ মেয়াদি পরিকল্পনার উল্লিখিত লক্ষ্যগুলো আমাদের দেশকে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করতে কীভাবে ভূমিকা রাখতে পারে? তোমার মতামত দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কতগুলো সুনির্দিষ্ট সামাজিক ও অর্থনৈতিক লক্ষ্য অর্জনের উদ্দেশ্যে রাষ্ট্রীয় সম্পদের কাম্য ব্যবহারের সুচিন্তিত রূপরেখাকে পরিকল্পনা (Economic Planning) বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
অর্থনীতির বিভিন্ন খাত এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রেখে প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করার জন্য অর্থনৈতিক পরিকল্পনার প্রয়োজন হয়। পরিকল্পিত উদ্যোগ না থাকলে কেবল লাভজনক খাত বা নির্দিষ্ট শহরকেন্দ্রিক উন্নয়ন ঘটে, যার ফলে আঞ্চলিক ও শ্রেণিগত বৈষম্য তীব্র রূপ নেয়। কিন্তু সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার মাধ্যমে সরকার কৃষি, শিল্প ও সেবা খাতের মধ্যে সমন্বয় সাধন করে এবং পিছিয়ে পড়া অঞ্চলে সম্পদ বণ্টনের মাধ্যমে একটি সুষম অর্থনৈতিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে পারে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত উন্নয়নশীল 'ক' দেশে সীমিত সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার এবং সুনির্দিষ্ট সামাজিক-অর্থনৈতিক লক্ষ্য অর্জনের জন্য উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
উন্নয়নশীল দেশগুলোতে সাধারণত মূলধনের ঘাটতি, দারিদ্র্য, বেকারত্ব এবং কাঠামোগত দুর্বলতা বিদ্যমান থাকে। এ পরিস্থিতিতে মুক্তবাজারের ওপর সবকিছু ছেড়ে দিলে কাঙ্ক্ষিত সামাজিক উন্নয়ন সম্ভব হয় না। উদ্দীপকের 'ক' দেশ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে দারিদ্র্য দূরীকরণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, সম্পদের অপচয় রোধ এবং জাতীয় উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্য নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি ও মধ্যমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। সঠিক পরিকল্পনা গ্রহণের ফলে সম্পদের সুষ্ঠু বণ্টন নিশ্চিত হয় এবং সামগ্রিক জাতীয় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি টেকসই হয়।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
২০১০-২০২১ মেয়াদি প্রেক্ষিত পরিকল্পনার লক্ষ্যসমূহ বাংলাদেশকে একটি মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করার ক্ষেত্রে অন্যতম মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করে।
উদ্দীপকে উল্লেখিত প্রধান লক্ষ্যগুলো হলো:
১. দারিদ্র্য বিমোচন: দারিদ্র্যের হার ৩১.৫% থেকে ১৫%-এ নামিয়ে আনার লক্ষ্য অর্থনৈতিক অন্তর্ভুক্তিকে গতিশীল করে। দরিদ্র জনগোষ্ঠীর আয় বৃদ্ধি পেলে সামগ্রিক ভোগ ও অভ্যন্তরীণ চাহিদা বাড়ে, যা দেশজ উৎপাদন ও বিনিয়োগকে ত্বরান্বিত করে।
২. শিক্ষার বিস্তার: প্রাথমিক শিক্ষায় শতভাগ এনরোলমেন্ট নিশ্চিত করার মাধ্যমে দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দক্ষ ও উৎপাদনশীল জনশক্তিতে রূপান্তর করার ভিত্তি রচিত হয়। এটি মানবসম্পদ উন্নয়নের পূর্বশর্ত।
৩. ডিজিটালাইজেশন ও ICT: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির প্রয়োগ সরকারি-বেসরকারি কার্যক্রমে গতিশীলতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা আনে। ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবসা-বাণিজ্য সহজ করে এবং তরুণদের জন্য ফ্রিল্যান্সিং ও আইটি খাতে বিপুল কর্মসংস্থানের সৃষ্টি করে।এসব উন্নয়ন লক্ষ্য সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি পায়, সামাজিক সূচকসমূহের উন্নতি ঘটে এবং অর্থনীতির কাঠামোগত রূপান্তর ত্বরান্বিত হয়। অতএব, ২০১০-২০২১ মেয়াদি পরিকল্পনার এই লক্ষ্যগুলো বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ভিত্তি মজবুত করে দেশকে নিম্ন আয়ের স্তর থেকে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত করতে কার্যকর ও বাস্তবসম্মত ভূমিকা রেখেছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও