বাংলা ১ম পত্র • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০২৩

বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী শ্রী গীতা রাণী সরকার। লেখা-পড়া শেষ করতেই ২৭ বছর পেরিয়ে গেল। বিয়ের ব্যাপারে কয়েকবার সম্বন্ধ আসে এবং দেখাশুনা হলেও শেষ পর্যন্ত বিয়ে হয়নি। গীতা রাণী লেখা-পড়া শেষে একটি স্কুলে শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। সমাজে অবহেলিত, পশ্চাৎপদ নারীদের গভীর মনোযোগ সহকারে শিক্ষাদান করেন। হঠাৎ প্রতিবেশি কালীচরণ রায় একটি সম্বন্ধ নিয়ে আসে। গীতা তাকে বিনয়ের সঙ্গে জানান- সে এখন আর বিয়ে করতে পারবে না। কারণ সমাজের পিছিয়ে পড়া নারীদের শিক্ষার গুরু দায়িত্ব তিনি নিয়েছেন।

  1. ক)

    অনুপমকে 'মাকাল' ফলে'র সাথে তুলনা করে বিদ্রুপ করেছিল কে?

    (1)
  2. খ)

    “একে তো বরের হাট মহার্ঘ, তাহার পরে ধনুক ভাঙা পণ”—এ কথার অর্থ বুঝিয়ে লেখ।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের গীতা রাণীর সাথে ‘অপরিচিতা' গল্পের কল্যাণীর সাদৃশ্য আলোচনা কর ।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের গীতা রাণীর বলিষ্ঠ ব্যক্তিত্বের জাগরণ 'অপরিচিতা' গল্পের কল্যাণীর বুদ্ধিদীপ্ততার আত্মপ্রকাশ – তুমি কি এ মত সমর্থন কর? যুক্তি দিয়ে বুঝিয়ে দাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    অনুপমকে 'মাকাল ফল'-এর সাথে তুলনা করে পণ্ডিতমশাই বিদ্রুপ করেছিলেন।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উক্তিটি দ্বারা তৎকালীন হিন্দু সমাজে যোগ্য পাত্রের সংকট এবং কন্যাপক্ষের ওপর বরপক্ষের অতিরিক্ত যৌতুকের অন্যায় দাবির তীব্রতাকে বোঝানো হয়েছে।

    'অপরিচিতা' গল্পে অনুপমের বাবা বেঁচে না থাকলেও মামা ছিলেন সংসারের সর্বময় কর্তা। মামা চেয়েছিলেন এমন এক পাত্রী যার পরিবার ধনী না হলেও তারা মাথা নিচু করে অতিরিক্ত যৌতুক দেবে। তৎকালীন সমাজে যোগ্য বরের চাহিদা বা বাজারদর ছিল অত্যন্ত চড়া এবং বরপক্ষ কন্যাদায়গ্রস্ত পিতার ওপর অসম্ভব ও অনমনীয় পণ বা যৌতুক দাবি করত। এই নির্মম সামাজিক বাস্তবতাকে বোঝাতেই 'বরের হাট মহার্ঘ' এবং 'ধনুক ভাঙা পণ' কথাটি প্রয়োগ করা হয়েছে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের গীতা রাণীর সাথে 'অপরিচিতা' গল্পের নায়িকা কল্যাণীর বিয়ে ভেঙে যাওয়ার পর স্বাধীনভাবে নারীশিক্ষা বিস্তারের ব্রত গ্রহণের দিক থেকে গভীর সাদৃশ্য রয়েছে।

    'অপরিচিতা' গল্পে যৌতুক নিয়ে টানাপোড়েনের একপর্যায়ে কল্যাণীর পিতা শম্ভুনাথ সেন বিয়ে ভেঙে দেন। এরপর কল্যাণী আর বিয়ে না করে দেশমাতৃকার সেবায় আত্মনিয়োগ করে এবং পশ্চাৎপদ ও অনগ্রসর মেয়েদের শিক্ষাদানের ব্রত গ্রহণ করে। আত্মমর্যাদাসম্পন্ন কল্যাণী পরবর্তীকালে বিয়ের প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়ে বলে, 'আমি বিবাহ করিব না।' কারণ সে নারীশিক্ষার মহান দায়িত্বে নিয়োজিত হয়েছিল।

    উদ্দীপকের গীতা রাণীও পড়াশোনা শেষে বিয়ে না করে শিক্ষকতা পেশায় যুক্ত হন এবং সমাজে অবহেলিত, অনগ্রসর নারীদের শিক্ষাদানে নিবেদিত হন। পরে নতুন বিয়ের প্রস্তাব এলে তিনি কল্যাণীর মতোই তা বিনয়ের সাথে প্রত্যাখ্যান করে অনগ্রসর নারীদের শিক্ষার দায়িত্ব পালনের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। সুতরাং, বিয়ে প্রত্যাখ্যান করে সমাজের পিছিয়ে পড়া নারীদের শিক্ষার দায়িত্ব গ্রহণ করার চেতনায় গীতা রাণী ও কল্যাণী পরস্পর সাদৃশ্যপূর্ণ।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের গীতা রাণীর বলিষ্ঠ ব্যক্তিত্বের জাগরণ 'অপরিচিতা' গল্পের কল্যাণীর বুদ্ধিদীপ্ততার আত্মপ্রকাশ'—মন্তব্যটি যথার্থ ও যুক্তিযুক্ত।

    'অপরিচিতা' গল্পে দেখা যায়, যৌতুকের লোভে যখন অনুপমের মামা বিয়ের আসরে শম্ভুনাথ সেনের আত্মমর্যাদায় আঘাত হানেন, তখন পিতা আত্মসম্মান রক্ষার্থে বিয়ে ভেঙে দেন। কিন্তু কল্যাণীর ব্যক্তিত্বের আসল প্রকাশ ঘটে পরবর্তীকালে। সে সনাতন সমাজের সংকীর্ণ গণ্ডি ভেঙে নিজেকে কেবল বিয়ের পাত্রী হিসেবে সীমাবদ্ধ না রেখে নারীশিক্ষার ব্রত গ্রহণ করে। রেলগাড়ির কামরায় ইংরেজ যাত্রীদের অন্যায্য আচরণের বিরুদ্ধে কল্যাণীর তেজস্বী কণ্ঠ ও উপস্থিত বুদ্ধি তার বলিষ্ঠ ব্যক্তিত্বেরই প্রতিফলন ঘটায়। সে অনুপমকে জানিয়ে দেয়, দেশের কাজে ও মেয়েদের শিক্ষাদানে নিজেকে সঁপে দেওয়ার কারণে সে আর বিবাহ করবে না।

    উদ্দীপকের গীতা রাণী সরকারও লেখাপড়া শেষ করে গতানুগতিক গৃহস্থালি জীবনের পরিবর্তে সমাজের পশ্চাৎপদ নারীদের শিক্ষার আলোকবর্তিকা হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলেছেন। বিয়ের সম্বন্ধ এলে তিনি দ্বিধাহীনভাবে তা নাকচ করে নিজের জীবনের ব্রতকে প্রাধান্য দেন। এ সিদ্ধান্ত তার দৃঢ় আত্মপ্রত্যয় ও স্বাধীন ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যের পরিচায়ক।

    উভয় চরিত্রই পুরুষতান্ত্রিক সমাজের চাপিয়ে দেওয়া নিয়তিকে অগ্রাহ্য করে আত্মমর্যাদা ও সমাজকল্যাণমূলক চেতনায় ভাস্বর। কল্যাণী যেভাবে সংকটকালে সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়ে বুদ্ধিমত্তা ও সাহসিকতার পরিচয় দিয়ে সমাজ বদলের হাতিয়ার হয়েছে, গীতা রাণীও একইভাবে ব্যক্তিত্বের দৃঢ়তা দেখিয়ে নারীশিক্ষাকে ব্রত হিসেবে গ্রহণ করেছেন। তাই বলা যায়, গীতা রাণীর ব্যক্তিত্বের স্ফুরণ কল্যাণীর চেতনা ও বুদ্ধিদীপ্ততারই সুস্পষ্ট প্রতিফলন।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন