হিন্দু ধর্ম • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২৩
হিন্দু ধর্ম প্রশ্ন
তন্ময় ইদানিং অস্থির ও ধ্বংসাত্মক হয়ে উঠেছে। সে বাড়ির আসবাবপত্র, নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য সামগ্রী ভেঙে ফেলে। আবার কখনও পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের প্রতি মারোদ্যত হয়। তন্ময়ের এ রকম আচরণে তার পরিবার চিন্তিত হয়ে পড়েন। তারা দ্রুত তন্ময়কে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যান। ডাক্তার কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও শারীরিক লক্ষণের মাধ্যমে নিশ্চিত হয় যে, তন্ময় মাদকাসক্ত। তখন ডাক্তার তন্ময়ের চিকিৎসা দেন এবং তার পরিবারকে মাদকাসক্তি প্রতিরোধে পারিবারিক, ধর্মীয় সংস্কৃতির উপর গুরুত্বারোপ করেন।
- ক)(1)
"শব্দ কোষ" গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
- খ)(2)
"আত্মমোক্ষায় জগদ্ধিতায় চ" উক্তিটি দ্বারা কী বোঝানো হয়েছে?
- গ)(3)
উদ্দীপকে ডাক্তার কীভাবে নিশ্চিত হয়েছিলেন তন্ময় মাদকাসক্ত? বর্ণনা করো ।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের তন্ময়কে মাদকাসক্তির জীবন থেকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে পারিবারিক, ধর্মীয় সংস্কৃতির গুরুত্ব বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
‘শব্দকোষ’ গ্রন্থটির রচয়িতা হরিচরণ বন্দ্যোপাধ্যায় (বঙ্গীয় শব্দকোষ)।
- খ)
‘আত্মমোক্ষায় জগদ্ধিতায় চ’ উক্তিটি দ্বারা বোঝানো হয়েছে, আমরা নিজের মোক্ষ বা চিরমুক্তি এবং জগতের হিত বা কল্যাণসাধনের জন্য ধর্ম পালন করি। যে পথ অনুসরণ করলে নিজের মোক্ষলাভ হয় এবং সকলের কল্যাণ হয়, সেটিই ধর্মপথ। মোক্ষলাভ না হওয়া পর্যন্ত মানুষকে বারবার জন্ম নিয়ে জন্ম, জরা ও মৃত্যুর যন্ত্রণা ভোগ করতে হয়। তাই ধর্মপথে চলে ব্যক্তিগত মুক্তি ও জনকল্যাণ—দুটিই অর্জন করা যায়।
- গ)
ডাক্তার তন্ময়ের শারীরিক লক্ষণ ও কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হয়েছিলেন যে সে মাদকাসক্ত।
মাদকাসক্তির ধারণা ও লক্ষণ : ধূমপান, মদ, গাঁজা, আফিম, হেরোইন, কোডিন (ফেনসিডিল) ইত্যাদি মাদক। একবার গ্রহণ শুরু করলে তা নেশায় পরিণত হয়, যা সহজে ছাড়া যায় না। পাঠ্যবই অনুযায়ী মাদকাসক্ত মাদকদ্রব্য না পেলে অস্থির হয়ে ওঠে এবং তার আচরণ কখনও কখনও ধ্বংসাত্মক হয়ে ওঠে। মাদকাসক্তের স্বাভাবিক চেতনা বিমূঢ় হয়ে যায়, সে আর প্রকৃতিস্থ থাকে না।
উদ্দীপকের সাথে মিল : উদ্দীপকের তন্ময় ইদানিং অস্থির ও ধ্বংসাত্মক হয়ে উঠেছে। সে বাড়ির আসবাবপত্র ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস ভেঙে ফেলে এবং কখনও পরিবারের সদস্যদের প্রতি মারমুখী হয়। এগুলো মাদকাসক্তির বৈশিষ্ট্যের সাথে মেলে। ডাক্তার এসব শারীরিক ও আচরণগত লক্ষণ লক্ষ করেন এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে নিশ্চিত হন যে তন্ময় মাদকাসক্ত।
- ঘ)
মাদকাসক্তি অনৈতিক ও অধর্মের পথ। তন্ময়কে এ জীবন থেকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে পারিবারিক ধর্মীয় সংস্কৃতির গুরুত্ব অপরিসীম। ডাক্তারও সে কারণেই এর ওপর জোর দিয়েছেন।
পারিবারিক ধর্মীয় সংস্কৃতির ধারণা : পরিবারই সমাজের প্রথম স্তর। পারিবারিক ধর্মীয় সংস্কৃতি ও নৈতিক মূল্যবোধ পরিবারের সবার ওপর প্রভাব ফেলে। মাদকাসক্তকে সুস্থ জীবনে ফিরিয়ে আনাও একটি পারিবারিক কর্তব্য।
১. দেহের পবিত্রতার বোধ : পরিবারের সদস্যদের বোঝাতে হবে, আমাদের দেহে আত্মারূপে ব্রহ্ম অবস্থান করছেন, তাই দেহ ঈশ্বরের মন্দির। একে অপবিত্র করা চলবে না। এ বোধ তন্ময়কে নিজের দেহের প্রতি যত্নশীল হতে উদ্বুদ্ধ করবে।
২. পাপ ও অধর্মের চেতনা : হিন্দুধর্ম অনুসারে মাদকাসক্তি ঘোরতর পাপের একটি। ধর্মীয় এ উপলব্ধি তন্ময়ের মনে অনুশোচনা ও নেশা ত্যাগের ইচ্ছা জাগাতে পারে।
৩. শাসন নয়, সচেতনতা ও দৃষ্টান্ত : সন্তানদের কেবল শাসন নয়, সচেতনতা বাড়াতে হবে এবং ধর্মীয় ও নৈতিক মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। শ্রী চৈতন্যচরিতামৃতে বলা হয়েছে—‘আপনি আচরি ধর্ম জীবেরে শিখায়’। অর্থাৎ পরিবারের বড়রা নিজেরা ধর্মপথে চলে দৃষ্টান্ত স্থাপন করলে তন্ময় তা অনুসরণ করবে।
৪. দৈনন্দিন জীবনের প্রতি নজর : সন্তানরা কীভাবে দিন কাটাচ্ছে, কাদের সাথে মিশছে—এদিকে লক্ষ রাখা পিতা-মাতার ধর্মীয় ও নৈতিক দায়িত্ব। এতে সঙ্গদোষ থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।
পরিবার সবাই মিলে অঙ্গীকার করতে পারে—‘ধূমপান মাদকগ্রহণ অধর্মের পথ, চালাব না সে পাপপথে আমার জীবনরথ।’
সুতরাং, ধর্মীয় মূল্যবোধ, স্নেহ ও সচেতনতার সমন্বয়ে গড়া পারিবারিক সংস্কৃতিই তন্ময়কে মাদকের অন্ধকার থেকে সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে পারে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও