হিন্দু ধর্ম • Combined Board • সকল বোর্ড ২০১৮

হিন্দু ধর্ম প্রশ্ন

বাংলাদেশের কৃষকরা হেমন্তকালে ধান কাটায় মেতে থাকে। প্রত্যেকের মুখে থাকে হাসি। ঘরে ঘরে নতুন ধানের ভাত, নানা রকমের পিঠা পায়েসের আয়োজন করে এক অসাম্প্রদায়িক চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে তারা আনন্দে মেতে উঠে। এ ঋতুভিত্তিক অনুষ্ঠানে তারা শস্যের অধিষ্ঠাত্রী দেবীর পূজা করে বর্ষবরণ ও বাঙ্গালীর আরেকটি সার্বজনীন উৎসব।

  1. ক)

    বাংলাদেশের কৃষকেরা হেমন্তকালে কোন উৎসবে মেতে উঠে?

    (1)
  2. খ)

    ধর্মাচার বলতে কী বুঝ? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    তোমার দেখা গ্রাম বাংলার একটি নবান্ন উৎসবের বর্ণনা দাও।

    (3)
  4. ঘ)

    অসাম্প্রদায়িক চেতনার বিকাশে উদ্দীপকে বর্ণিত উৎসব দুইটির গুরুত্ব মূল্যায়ন করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    বাংলাদেশের কৃষকেরা হেমন্তকালে নবান্ন উৎসবে মেতে ওঠে।

  2. খ)

    আমাদের জীবনকে সুন্দর ও কল্যাণময় করার জন্য যেসব আচার-আচরণ চর্চা করা হয়, তাকে ধর্মাচার বলে। এগুলোকে লোকাচারও বলা হয়। ধর্মাচারে মাঙ্গলিক কর্মের নির্দেশ থাকে। সংক্রান্তি, গৃহপ্রবেশ, জামাইষষ্ঠী, রাখীবন্ধন, ভাইফোঁটা, দীপাবলি, হাতেখড়ি ও নবান্ন ধর্মাচারের উদাহরণ। ধর্মাচার ও ধর্মানুষ্ঠান একই সূত্রে গাঁথা, কারণ ধর্মাচার ছাড়া ধর্মানুষ্ঠান হয় না।

  3. গ)

    আমার দেখা গ্রাম বাংলার নবান্ন উৎসবের বর্ণনা নিচে দেওয়া হলো।

    নবান্ন শব্দের অর্থ নতুন ভাত (নব + অন্ন)। এটি আবহমান বাংলার একটি ঐতিহ্যবাহী অসাম্প্রদায়িক ও সর্বজনীন উৎসব, বারো মাসে তেরো পার্বণের একটি। হেমন্তকালের অগ্রহায়ণ মাসে নতুন ধানের চাল দিয়ে তৈরি ভাত, নানা রকম পিঠা ও পায়েস দিয়ে এ মাঙ্গলিক উৎসব পালন করা হয়। এটি একটি ঋতুভিত্তিক অনুষ্ঠান। এদিন শস্যের অধিষ্ঠাত্রী দেবী শ্রীশ্রীলক্ষ্মীর পূজা দেওয়া হয়।

    আমাদের গ্রামে অগ্রহায়ণে মাঠের পাকা ধান কাটার ধুম পড়ে। কৃষকদের মুখে তখন হাসি। ধান ঘরে তোলার পর নতুন ধানের চাল দিয়ে ঘরে ঘরে নতুন ভাত রান্না হয়। উঠান নিকিয়ে আলপনা আঁকা হয়। লক্ষ্মীদেবীর পূজায় নতুন চাল, ফলমূল ও নৈবেদ্য দেওয়া হয়। পূজার পর আত্মীয়-প্রতিবেশী, ধনী-গরিব, হিন্দু-মুসলমান সবাই একসাথে নতুন ভাত, পিঠা-পায়েস খায়। কোথাও কোথাও গান, নাচ ও মেলার আয়োজন হয়। সবার আনন্দে ভরা এ উৎসব গ্রামের মানুষকে একসূত্রে বাঁধে।

    সুতরাং, নবান্ন আমাদের গ্রামীণ জীবনের আনন্দ, কৃতজ্ঞতা ও সম্প্রীতির একটি সুন্দর উৎসব।

  4. ঘ)

    উদ্দীপকে বর্ণিত উৎসব দুটি হলো নবান্ন ও বর্ষবরণ। উভয়ই বাঙালির সর্বজনীন উৎসব এবং অসাম্প্রদায়িক চেতনার বিকাশে এ উৎসব দুটির গুরুত্ব অপরিসীম।

    উৎসব দুটির পরিচয়: হেমন্তকালে নতুন ধানের ভাত, পিঠা-পায়েস ও লক্ষ্মীর পূজার মাধ্যমে নবান্ন পালিত হয়। অন্যদিকে বাংলা সনের প্রথম দিন নতুন বছরকে বরণ করা হয় বর্ষবরণে। এদিন বিভিন্ন পূজা, মিষ্টি খাওয়া, ভাব বিনিময় ও হালখাতাসহ নানা অনুষ্ঠান হয়।

    ১. ধর্মীয় অনুভূতির সাথে সর্বজনীনতা: নবান্ন ও বর্ষবরণ ধর্মীয় আচার হলেও সবার কাছে সমান গ্রহণযোগ্য। এখানে বিশেষ কোনো ধর্ম, বর্ণ বা গোত্রের গণ্ডি নেই। তাই এগুলো বাঙালির অসাম্প্রদায়িক উৎসব।
    ২. একসাথে আনন্দ ভাগাভাগি: নবান্নে সব ধর্মের মানুষ নতুন ভাত ও পিঠা-পায়েস ভাগ করে খায়। বর্ষবরণে মিষ্টি বিতরণ ও ভাব বিনিময়ের মাধ্যমে মানুষে মানুষে দূরত্ব কমে।
    ৩. সামাজিক বন্ধন দৃঢ়করণ: উৎসব দুটি প্রতিবেশী ও আত্মীয়দের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ায়। হালখাতার মাধ্যমে পুরোনো হিসাব মিটিয়ে নতুন সম্পর্কের সূচনা হয়। এতে পারস্পরিক বিশ্বাস ও ভ্রাতৃত্ববোধ গড়ে ওঠে।
    ৪. জাতীয় সংস্কৃতির বিকাশ: পাহাড়ি অঞ্চলের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী বর্ষবরণ ও চৈত্রসংক্রান্তিতে বৈসাবি উৎসব পালন করে। ফলে সব জনগোষ্ঠী একই সংস্কৃতির সূত্রে যুক্ত হয়।

    সুতরাং, নবান্ন ও বর্ষবরণ উৎসব দুটি ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে একত্র করে অসাম্প্রদায়িক চেতনা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন