বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০২৪
বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা প্রশ্ন
- ক)(1)
১৯৭২ সালের সংবিধানে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির মূলকথা কী ছিল?
- খ)(2)
সংসদীয় গণতন্ত্রের উপর বজঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আস্থা কীভাবে প্রকাশিত হয়?
- গ)(3)
ছক-'ক' রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য ১৯৭২ সালের সংবিধানের কোন দিকটিকে ইঙ্গিত করছে?. ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
"ছবি-'খ' ছিল একজন মহান নেতাকে ইতিহাস থেকে মুছে ফেলার ঘৃণ্য প্রয়াস"- বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
১৯৭২ সালের সংবিধানে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির মূলকথা ছিল ‘সকলের প্রতি বন্ধুত্ব, কারও প্রতি বিদ্বেষ নয়’।
- খ)
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি দেশে ফিরে এসে রাষ্ট্রপতির পদ ছেড়ে সংসদীয় পদ্ধতির সরকারের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেন। তিনি ১৯৭২ সালের সংবিধানে সংসদীয় ব্যবস্থা রাখেন, যেখানে সরকার জনগণের নির্বাচিত সংসদের কাছে দায়বদ্ধ। এভাবে সংসদীয় গণতন্ত্রে তাঁর আস্থা প্রকাশ পায়।
- গ)
ছক-'ক' রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য ১৯৭২ সালের সংবিধানের চার মূলনীতিকে ইঙ্গিত করছে।
১. জনগণের প্রতিনিধি-শাসন বোঝায় গণতন্ত্র।
২. মৌলিক চাহিদা পূরণে সমঅধিকার বোঝায় সমাজতন্ত্র (শোষণমুক্ত সমাজ)।
৩. সকলের বিশ্বাসে সমান মর্যাদা বোঝায় ধর্মনিরপেক্ষতা।
৪. ভাষা ও সংস্কৃতি ভিত্তিক পরিচয় বোঝায় বাঙালি জাতীয়তাবাদ।এ চারটিই ১৯৭২ সালের সংবিধানের রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি।
- ঘ)
ছবি-'খ' তে বঙ্গবন্ধু ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের ছবি এবং ‘আগস্ট’ লেখা দেখা যায়, যা ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের নৃশংস হত্যাকাণ্ডকে নির্দেশ করে। এটি একজন মহান নেতাকে ইতিহাস থেকে মুছে ফেলার ঘৃণ্য প্রয়াস—এ মন্তব্য যথার্থ। কারণ—
১. নেতৃত্বের অবসান: যে নেতার ডাকে বাঙালি স্বাধীনতা অর্জন করেছে, ঘাতকরা তাঁকে সপরিবারে হত্যা করে তাঁর আদর্শকে স্তব্ধ করতে চেয়েছিল।
২. ইতিহাস বিকৃতি: দীর্ঘদিন স্বাধীনতার ইতিহাসে তাঁর অবদান অস্বীকার ও বিকৃত করার চেষ্টা হয়।
৩. বিচারের পথ রুদ্ধ: ইনডেমনিটি আইন করে হত্যাকারীদের বিচার বন্ধ রাখা হয়েছিল।
৪. ব্যর্থতা: তবু জনগণের হৃদয়ে তিনি জাতির পিতা হিসেবে অমর।সুতরাং, ১৫ আগস্টের হত্যাকাণ্ড ছিল একজন মহান নেতাকে ইতিহাস থেকে মুছে ফেলার ঘৃণ্য প্রয়াস।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও