বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা • Mymensingh Board • ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৪
বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা প্রশ্ন
মুক্তা দশম শ্রেণির ছাত্রী। তার বড় বোনের বিবাহে তার বাবা ইংরেজিতে নিমন্ত্রণপত্র ছাপালো। কিন্তু মুস্তা সেটা পছন্দ করল না। কারণ মুক্তা চেয়েছিল নিমন্ত্রণপত্র বাংলায় ছাপা হোক।
- ক)(1)
তমদ্দুন মজলিশ কী?
- খ)(2)
ভাষা আন্দোলনে নারীদের ভূমিকা ছিল "সক্রিয় ও প্রতিবাদী"- ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে মুক্তার মানসিকতার মধ্য দিয়ে কোন আন্দোলনের চিত্র ফুটে উঠেছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
"মুক্তার এই ধরনের চেতনাই বাঙালি জাতীয়তাবাদ বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল"- তোমার পাঠ্যপুস্তকের আলোকে বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
তমদ্দুন মজলিশ হলো ১৯৪৭ সালের সেপ্টেম্বরে অধ্যাপক আবুল কাশেমের নেতৃত্বে গঠিত একটি সাংস্কৃতিক সংগঠন, যা বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে প্রথম সংগঠিতভাবে আন্দোলন শুরু করে।
- খ)
ভাষা আন্দোলনে নারীরা সক্রিয় ও প্রতিবাদী ছিলেন। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ১৪৪ ধারা ভেঙে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীরা মিছিলে অংশ নেন। তাঁরা মিছিল-মিটিংয়ে অংশ নিয়েছেন, পুলিশের লাঠিচার্জ ও টিয়ার গ্যাস মোকাবিলা করেছেন এবং আন্দোলনের পক্ষে জনমত গড়ে তুলেছেন।
- গ)
উদ্দীপকে মুক্তা বাংলায় নিমন্ত্রণপত্র ছাপার পক্ষে। এর মধ্য দিয়ে বাংলা ভাষার প্রতি মমত্ববোধ ও ভাষা আন্দোলনের চিত্র ফুটে উঠেছে।
১৯৪৭ সালের পর পাকিস্তান সরকার বাংলার পরিবর্তে উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা করতে চাইলে বাঙালিরা প্রতিবাদ করে। মুক্তার মানসিকতাও মাতৃভাষা বাংলার মর্যাদা রক্ষার সেই চেতনাকেই প্রকাশ করে।
- ঘ)
মুক্তার এই চেতনা, অর্থাৎ মাতৃভাষার প্রতি ভালোবাসা ও মর্যাদাবোধ বাঙালি জাতীয়তাবাদের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
১. ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমে বাঙালি নিজেদের স্বতন্ত্র সাংস্কৃতিক পরিচয় সম্পর্কে সচেতন হয়।
২. ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের পর বাঙালির অধিকার আদায়ের আন্দোলন একটি সংগঠিত রূপ পায়।
৩. পরবর্তী কালের ২১ দফা, ছয় দফা, ১৯৬৯ সালের গণ-অভ্যুত্থান ও মুক্তিযুদ্ধের পেছনে ভাষাভিত্তিক জাতীয়তাবাদী চেতনা প্রেরণা জুগিয়েছে।সুতরাং, মাতৃভাষার প্রতি এই চেতনাই বাঙালি জাতীয়তাবাদ বিকাশের ভিত্তি।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও