বিজ্ঞান • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০২৫

বিজ্ঞান প্রশ্ন

দৃশ্যকল্প-১: প্রচন্ড গতিবেগসম্পন্ন বাতাস কুণ্ডলীয় আকারে নিম্নচাপ সৃষ্টির মাধ্যমে দুর্যোগ সৃষ্টি হয়।দৃশ্যকল্প-২: 'X' একটি ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ, যার মাত্রা 'রিখটার স্কেলে' পরিমাপ করা হয়।

  1. ক)

    মাটি কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    সুন্দরবনের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে কেন? ব্যাখ্যা কর।

    (2)
  3. গ)

    ১নং দৃশ্যকল্পের দুর্যোগটি সংঘটিত হওয়ার কারণ বর্ণনা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    দৃশ্যকল্প-২ এ উল্লিখিত 'X' কোন ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ? এবং দুর্যোগটির আগে ও পরবর্তী করণীয় বিষয়সমূহ উল্লেখ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    মাটি হলো নানারকম জৈব ও অজৈব রাসায়নিক পদার্থের মিশ্রণ।

  2. খ)

    সুন্দরবনের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার প্রধান কারণগুলো মনুষ্যসৃষ্ট ও প্রাকৃতিক। বনের গাছ অবৈধভাবে কেটে ফেলা হলে বনভূমি কমে যায়। শিল্পকারখানার বর্জ্য ও নৌযানের তেল জলজ পরিবেশ দূষিত করে। এছাড়া ঘূর্ণিঝড় ও জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে লবণাক্ততা বৃদ্ধি পেয়ে গাছপালা ও প্রাণীর জীবনে ক্ষতি হচ্ছে।

  3. গ)

    ১ নং দৃশ্যকল্পের দুর্যোগটি হলো ঘূর্ণিঝড় (সাইক্লোন)। এটি সংঘটিত হওয়ার কারণ:

    ১. উচ্চ তাপমাত্রা: সাইক্লোন তৈরি হতে সাগরের তাপমাত্রা ২৭° সেলসিয়াসের বেশি হতে হয়, যা বঙ্গোপসাগরে প্রায় সারা বছর থাকে।
    ২. বাষ্পীভবন: সমুদ্রের উত্তপ্ত পানি বাষ্পীভূত হয়ে উপরে উঠে জলকণায় পরিণত হলে সুপ্ত তাপ বাতাসে ছেড়ে দেয়। এতে বাতাস উত্তপ্ত হয় ও বাষ্পীভবন বাড়ে।
    ৩. নিম্নচাপ: ফলে বায়ুমণ্ডল অস্থিতিশীল হয়ে নিম্নচাপ সৃষ্টি হয়। আশপাশের বাতাস প্রচণ্ড বেগে সেখানে ছুটে এসে কুণ্ডলীয় আকারে ঘুরতে থাকে।

  4. ঘ)

    দৃশ্যকল্প-২ এ 'X' হলো ভূমিকম্প, যা একটি ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ। এর মাত্রা রিখটার স্কেলে পরিমাপ করা হয়। পৃথিবীর ভেতরে হঠাৎ সৃষ্ট কম্পন যখন ভূপৃষ্ঠে আকস্মিক আন্দোলন সৃষ্টি করে, তাকেই ভূমিকম্প বলে।

    ভূমিকম্পের আগে করণীয়:
    ১. বাসায় অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা, প্রাথমিক চিকিৎসা কিট, টর্চ, ব্যাটারিচালিত রেডিও, শুকনো খাবার ও পানি রাখা।
    ২. প্রাথমিক চিকিৎসা শেখা এবং গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির সরবরাহ বন্ধ করতে জানা।
    ৩. উঁচু শেলফে ভারী জিনিস না রাখা এবং স্কুল-কর্মক্ষেত্রে ড্রিল করে শেখা।

    ভূমিকম্পের পরে করণীয়:
    ১. আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া এবং গুরুতর আহতদের হাসপাতালে নেওয়া।
    ২. পানি, বিদ্যুৎ ও গ্যাসলাইন পরীক্ষা করা; ক্ষতিগ্রস্ত হলে সরবরাহ বন্ধ করা।
    ৩. ক্ষতিগ্রস্ত ভবন থেকে বের হওয়া, খালি পায়ে না হাঁটা এবং আফটার শকের জন্য প্রস্তুত থাকা।
    ৪. ধ্বংসস্তূপে আটকা পড়লে উদ্ধারকারীদের জন্য অপেক্ষা করা এবং শব্দ করে সংকেত দেওয়া।

    সুতরাং, আগাম প্রস্তুতি ও পরবর্তী সঠিক পদক্ষেপ নিলে ভূমিকম্পের ক্ষয়ক্ষতি অনেক কমানো সম্ভব।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন