হিন্দু ধর্ম • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০২৪
হিন্দু ধর্ম প্রশ্ন
বিনয় বিদেশ ভ্রমণে যাওয়ার পূর্বে একদিন সন্ধ্যায় তার দাদুর সাথে দেখা করতে গেলে তিনি বললেন, তোমাকে যিনি সৃষ্টি করেছেন, ভ্রমণে সর্বদা তাঁকে স্মরণ করবে। এ সময়' দাদুর এক প্রতিবেশী মেয়ে নমিতার কণ্ঠে ঠাকুরের উদ্দেশ্যে গাওয়া ভক্তিমূলক গানের সুর ভেসে আসছিল।
- ক)(1)
সাকার উপাসনা কাকে বলে?
- খ)(2)
মহাবিশ্বের মহাশক্তি হিসেবে বিশ্বাস এবং পূজা করা হয় কাকে? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
বিনয়ের দাদুর উপদেশের সাথে সংশ্লিষ্ট দেবতার স্বরূপ পাঠ্যপুস্তকের আলোকে ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
নমিতা যে কাজে রত ছিল তার প্রয়োজনীয়তা পাঠ্যবইয়ের আলোকে বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
ঈশ্বরের বিভিন্ন গুণ বা শক্তিকে দেব-দেবীর প্রতিমা বা মূর্তির মাধ্যমে প্রকাশ করে যে উপাসনা করা হয়, তাকে সাকার উপাসনা বা প্রতীক উপাসনা বলে।
- খ)
মহাবিশ্বের মহাশক্তি হিসেবে বিশ্বাস এবং পূজা করা হয় দেবী দুর্গাকে। দেবী দুর্গা ঈশ্বরের শক্তিরূপ। আদ্যা শক্তি মহামায়াই দুর্গা, কালী, জগদ্ধাত্রী, কাত্যায়নী প্রভৃতি রূপে প্রকাশিত হয়েছেন। তিনি অসীম শক্তির দেবী, যিনি মহাবিশ্ব সৃষ্টি ও ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষার সাথে সম্পৃক্ত। তাই তাঁকে মহাশক্তি বলা হয়।
- গ)
বিনয়ের দাদুর উপদেশের সাথে সংশ্লিষ্ট দেবতা হলেন ব্রহ্মা। দাদু বলেছেন, যিনি সৃষ্টি করেছেন তাঁকে সর্বদা স্মরণ করতে। ঈশ্বর যে রূপে সৃষ্টি করেন, তাঁর নাম ব্রহ্মা।
পাঠ্যবই অনুযায়ী ঈশ্বর সৃষ্টিকর্তা, পালনকর্তা ও সংহারকর্তা। অর্থাৎ তিনি সৃষ্টি, স্থিতি ও লয়, এই তিনটি প্রধান ক্রিয়া সাধন করেন। দেব-দেবী ঈশ্বরের সাকার রূপ। ঈশ্বর নিজের কোনো গুণ বা ক্ষমতাকে বিশেষ রূপে প্রকাশ করলে তা দেবতা হয়। সৃষ্টির ক্ষমতার প্রকাশই ব্রহ্মা। তিনি বিশ্ব ও বিশ্বের সবকিছু সৃষ্টি করেছেন। এ ছাড়া তিনি নাট্যশাস্ত্র, স্থাপত্যশাস্ত্র প্রভৃতি শাস্ত্রের উদ্ভাবক এবং তিনি কল্যাণমূলক কাজ করে থাকেন।
উদ্দীপকে বিনয় বিদেশ ভ্রমণে যাওয়ার আগে দাদুর কাছে যায়। দাদু তাকে বলেন, যিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন, ভ্রমণে সর্বদা তাঁকে স্মরণ করবে। এখানে সৃষ্টিকর্তা হিসেবে ঈশ্বরকে স্মরণের কথা বলা হয়েছে। সৃষ্টিকর্তা রূপে ঈশ্বরের যে সাকার প্রকাশ, তিনিই ব্রহ্মা। স্রষ্টাকে স্মরণ করলে বিদেশের পথে মনে সাহস ও শান্তি থাকে।
সুতরাং দাদুর উপদেশে সৃষ্টির দেবতা ব্রহ্মার স্বরূপই প্রকাশ পেয়েছে।
- ঘ)
নমিতা ঠাকুরের উদ্দেশ্যে ভক্তিমূলক গান গাইছিল। এটি ঈশ্বরের উপাসনা। কীর্তন ও আরতিগানের মতো ভক্তিগান উপাসনার একটি উপায়। পাঠ্যবইয়ের আলোকে এই উপাসনার প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম।
হিন্দুধর্মে ঈশ্বরের গুণগান করার বিশেষ রীতিকে উপাসনা বলে। আক্ষরিক অর্থে উপাসনা মানে ঈশ্বরের পাশে অবস্থান করা। পূজা, জপ, ধ্যান, মন্ত্র পাঠ, প্রণাম, আরতিগান ও কীর্তন প্রভৃতি উপাসনার উপায়। এই বাহ্য আচরণের মাধ্যমে ইষ্ট দেবতার প্রতি অন্তরের ভক্তি, শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা প্রকাশ করা হয়।
১. হৃদয় পরিশুদ্ধ করা : নমিতার ভক্তিগানের মতো উপাসনা হৃদয়কে পবিত্র ও পরিশুদ্ধ করে এবং মনে সুন্দর অনুভূতির সৃষ্টি করে।
২. মনের দৃঢ়তা ও মানসিক উন্নতি : উপাসনা মনের আবেগকে নিয়ন্ত্রণ করে এবং মনের জটিলতা দূর করে। এটি মনের কামনা, বাসনা, অহমিকা, হিংসা-বিদ্বেষ দূর করে মনকে সত্যের পথে পরিচালিত করে।
৩. ঈশ্বরের সান্নিধ্য লাভ : উপাসনা ভক্তকে ঈশ্বরের কাছাকাছি অবস্থানের সুযোগ দেয়। গভীর ভালোবাসার মাধ্যমে ভক্ত ইষ্ট দেবতাকে উপলব্ধি করতে পারে। নমিতার গানে ঠাকুরের প্রতি এই ভালোবাসা ও আত্মনিবেদনই প্রকাশ পেয়েছে।
৪. মোক্ষলাভ : উপাসনার প্রধান উদ্দেশ্য ঈশ্বরের সান্নিধ্য লাভ, শেষে মোক্ষলাভ। মোক্ষ অর্থ চিরমুক্তি, যখন জীবাত্মা পরমাত্মায় লীন হয় এবং পুনর্জন্ম হয় না।
সুতরাং নমিতার ভক্তিমূলক গান ঈশ্বর উপাসনারই অংশ, যা তার মনকে শুদ্ধ করে, ঈশ্বরের নিকটবর্তী করে এবং মোক্ষের পথে এগিয়ে দেয়। তাই উপাসনা ধর্মপ্রাণ মানুষের জীবনে অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও