পৌরনীতি ও নাগরিকতা • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২৫

পৌরনীতি ও নাগরিকতা প্রশ্ন

'A' রাষ্ট্রটি পরিচালিত হয় যে সংবিধানের আলোকে তা কোনো দলিলে বা সনদে লিখিত আকারে নেই। তা ধীরে ধীরে ক্রমবিকাশ লাভ করেছে। দেশটিতে কোনো প্রকার জটিলতা' দেখা দিলে তা ঐ দেশের প্রচলিত রীতি ও প্রথা অনুযায়ী সমাধান করা হয়। অপরদিকে 'B' নামক রাষ্ট্র পরিচালিত হয় লিখিত আকারে নীতিমালার ও রীতি অনুযায়ী যাহা সে দেশের আইন পরিষদ কর্তৃক প্রণীত। এই রাষ্ট্রে লিখিত আকারের নীতিমালা অনুসরণপূর্বক সকল সমস্যার সমাধান করা হয়।

  1. ক)

    সংবিধান কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    "প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রের শাসনব্যবস্থার কেন্দ্রবিন্দু"- ব্যাখ্যা করো

    (2)
  3. গ)

    'A' "রাষ্ট্রের সংবিধান কোন পদ্ধতিতে প্রণীত হয়েছে ? ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    'B' "রাষ্ট্রের সংবিধান যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকারের সফলতার পূর্বশর্ত" বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    সংবিধান হলো রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন, যার ভিত্তিতে সরকারের গঠন, ক্ষমতা ও নাগরিকের অধিকার নির্ধারিত হয় এবং রাষ্ট্র পরিচালিত হয়।

  2. খ)

    সংসদীয় সরকারব্যবস্থায় প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রিসভার প্রধান ও সংসদের নেতা। তাঁর পরামর্শেই মন্ত্রিসভা গঠিত হয় এবং সরকারের সব গুরুত্বপূর্ণ নীতিনির্ধারণ ও শাসনকাজ তাঁর নেতৃত্বে পরিচালিত হয়। রাষ্ট্রপতি নামমাত্র প্রধান হওয়ায় প্রকৃত শাসনক্ষমতা প্রধানমন্ত্রীর হাতেই থাকে। তাই প্রধানমন্ত্রীকে রাষ্ট্রের শাসনব্যবস্থার কেন্দ্রবিন্দু বলা হয়।

  3. গ)

    উদ্দীপকের 'A' রাষ্ট্রের সংবিধান কোনো দলিলে লিখিত নয়; তা ধীরে ধীরে ক্রমবিকাশ লাভ করেছে এবং জটিলতা দেখা দিলে প্রচলিত রীতি ও প্রথা অনুযায়ী সমাধান করা হয়। এটি সংবিধান প্রণয়নের বিবর্তন পদ্ধতি।

    ১. এ পদ্ধতিতে সংবিধান দীর্ঘ সময় ধরে প্রথা, রীতিনীতি, বিচারালয়ের রায় ও বিভিন্ন আইনের মাধ্যমে গড়ে ওঠে।
    ২. এটি অলিখিত ও নমনীয় প্রকৃতির; প্রয়োজনে সহজে পরিবর্তন করা যায়।
    ৩. ব্রিটেনের সংবিধান এর উদাহরণ।

    অতএব, 'A' রাষ্ট্রের সংবিধান বিবর্তন পদ্ধতিতে প্রণীত হয়েছে।

  4. ঘ)

    'B' রাষ্ট্র লিখিত নীতিমালা অনুযায়ী পরিচালিত, অর্থাৎ তার সংবিধান লিখিত। যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকারের সফলতার জন্য এমন সংবিধান প্রয়োজন, কারণ:

    ১. ক্ষমতা বণ্টন: যুক্তরাষ্ট্রে কেন্দ্র ও প্রদেশের ক্ষমতা লিখিত সংবিধানে সুস্পষ্ট থাকে, ফলে এখতিয়ার নিয়ে বিরোধ কমে।
    ২. ক্ষমতার নিরাপত্তা: লিখিত সংবিধান সাধারণত দুষ্পরিবর্তনীয় হয়, তাই কেন্দ্র বা প্রদেশ কেউ এককভাবে এটি বদলে অন্যের ক্ষমতা খর্ব করতে পারে না।
    ৩. বিরোধ নিষ্পত্তি: সংবিধানের ব্যাখ্যা দিয়ে সর্বোচ্চ আদালত কেন্দ্র-প্রদেশের বিরোধ মীমাংসা করতে পারে।

    সুতরাং, 'B' রাষ্ট্রের লিখিত সংবিধান যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকারের সফলতার পূর্বশর্ত।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন