কৃষিশিক্ষা • Mymensingh Board • ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২২

কৃষিশিক্ষা প্রশ্ন

চলতি বছরের শুরুতে উত্তরাঞ্চলে নিম্নতাপমাত্রা, কুয়াশাচ্ছন্ন আবহাওয়া ও মেঘলা আকাশ বিরাজমান থাকায় আলু চাষী তরুন চন্দ্র বীজ আলুর ক্ষেত নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েন। এ সময় তিনি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার শরণাপন্ন হলে তিনি তাকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেন। সেই সাথে সম্ভাব্য রোগ-বালাই ও পোকা দমন বিষয়ে ধারণা দেন। ফলে এ বছর তরুন চন্দ্র ভালো বীজ আলু উৎপাদনে সফল হন । তিনি মনে করেন— “ভালো বীজ মানেই ভালো ফসল।”

  1. ক)

    হাম-পুলিং কী?

    (1)
  2. খ)

    জমি পৃথকীকরণ কার্যক্রম বলতে কী বোঝ? ব্যাখ্যা করো ।

    (2)
  3. গ)

    কৃষি কর্মকর্তা তাকে কী কী পরামর্শ দিয়েছিলেন? ব্যাখ্যা করো ।

    (3)
  4. ঘ)

    “ভালো বীজ মানেই ভালো ফসল”— তরুন চন্দ্রের উক্তিটি তোমার পাঠ্যবইয়ের আলোকে বিশ্লেষণ করো ।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    আলুর বীজ উৎপাদনে আলু তোলার কিছুদিন আগে গাছের মাটির ওপরের অংশ (লতা-পাতা) কেটে ফেলাকে হাম-পুলিং বলে।

  2. খ)

    বীজ আলু উৎপাদনের জমিকে অন্য জাতের আলু বা রোগাক্রান্ত আলুর জমি থেকে নির্দিষ্ট দূরত্বে রাখাকে জমি পৃথকীকরণ বলে।
    এর উদ্দেশ্য হলো জাতের বিশুদ্ধতা বজায় রাখা এবং পাশের জমির রোগ ও পোকা (বিশেষ করে ভাইরাস বাহক জাবপোকা) থেকে বীজ আলুর ফসলকে রক্ষা করা। এতে রোগমুক্ত ও মানসম্পন্ন বীজ আলু পাওয়া যায়।

  3. গ)

    উত্তরাঞ্চলে নিম্ন তাপমাত্রা, কুয়াশা ও মেঘলা আকাশ আলুর নাবী ধসা (লেট ব্লাইট) রোগের জন্য অনুকূল। কৃষি কর্মকর্তা তাই নিচের পরামর্শগুলো দিয়েছিলেন—

    ১. নিয়মিত পরিদর্শন: জমি নিয়মিত দেখে রোগের প্রাথমিক লক্ষণ শনাক্ত করতে হবে।
    ২. ছত্রাকনাশক প্রয়োগ: রোগ দেখা দেওয়ার আগে বা শুরুতে অনুমোদিত ছত্রাকনাশক সঠিক মাত্রায় স্প্রে করতে হবে।
    ৩. সেচ ও পানি নিষ্কাশন: মেঘলা ও কুয়াশার সময় সেচ বন্ধ রাখা এবং জমিতে পানি জমতে না দেওয়া।
    ৪. আক্রান্ত গাছ অপসারণ: রোগাক্রান্ত গাছ তুলে ধ্বংস করা।
    ৫. পোকা দমন: ভাইরাস ছড়ানো রোধ করতে জাবপোকা দমন করা।

  4. ঘ)

    "ভালো বীজ মানেই ভালো ফসল", তরুন চন্দ্রের এ উক্তি যথার্থ। ফসলের ফলন অনেকাংশে বীজের গুণগত মানের ওপর নির্ভর করে।

    ১. অঙ্কুরোদগম ক্ষমতা: ভালো বীজের অঙ্কুরোদগমের হার বেশি, ফলে জমিতে সুস্থ ও সবল চারা বেশি পাওয়া যায়।
    ২. রোগমুক্ততা: রোগমুক্ত বীজ থেকে সুস্থ গাছ হয়। আলুর ক্ষেত্রে ভাইরাসমুক্ত বীজ আলু ব্যবহার করলে ফলন ভালো হয়।
    ৩. জাতের বিশুদ্ধতা: বিশুদ্ধ বীজে অন্য জাতের মিশ্রণ থাকে না, ফলে ফসলের পরিপক্বতা ও মান একই রকম হয়।
    ৪. উচ্চ ফলন: জমি পৃথকীকরণ, রোগাক্রান্ত গাছ অপসারণ ও হাম-পুলিং-এর মতো পদ্ধতিতে মানসম্পন্ন বীজ উৎপাদন হয়, যা ফলন বাড়ায় এবং উৎপাদন খরচ কমায়।

    সুতরাং, ভালো বীজ ব্যবহার করলে কম খরচে বেশি ও ভালো মানের ফসল পাওয়া যায়, তাই উক্তিটি যথার্থ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন