যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০১৭

যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র প্রশ্ন

  1. ক)

    পদ কী?

    (1)
  2. খ)

    ‘কলম' শব্দটি কেন পদ?

    (2)
  3. গ)

    ‘সদর্থক যুক্তিবাক্যের বিধেয়পদ অব্যাপ্য’— উদ্দীপকের আলোকে ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের বিষয়ের সাথে ব্যক্ত্যর্থের সম্পর্ক বেশ গভীর— আলোচনা কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যে শব্দ বা শব্দসমষ্টি কোনো যুক্তিবাক্যের উদ্দেশ্য বা বিধেয় হিসেবে সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে ব্যবহৃত হয় বা হতে পারে, তাকে পদ (Term) বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ‘কলম’ শব্দটি অন্য কোনো শব্দের সাহায্য ছাড়াই সরাসরি একটি যুক্তিবাক্যের উদ্দেশ্য বা বিধেয় হিসেবে ব্যবহৃত হতে সক্ষম। যেমন— ‘এটি হয় কলম’ বা ‘কলম হয় লেখার উপকরণ’। যুক্তিবিদ্যায় যেসব শব্দ নিজে নিজেই স্বাধীনভাবে কোনো যুক্তিবাক্যের উদ্দেশ্য বা বিধেয় হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে, তাদের ‘পদযোগ্য শব্দ’ বা ‘পদ’ বলা হয়। তাই ‘কলম’ একটি পদ।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে চার প্রকার যুক্তিযুক্ত বাক্যের (A, E, I, O) উদ্দেশ্য ও বিধেয় পদের ব্যাপ্যতা নির্দেশ করা হয়েছে। ছকের 'ক' হলো সার্বিক সদর্থক বাক্য (A) এবং 'গ' হলো বিশেষ সদর্থক বাক্য (I)। চিত্রে দেখা যায়, সদর্থক বাক্যগুলোর বিধেয় পদ নির্দেশক ঘরটি সাদা, যা দ্বারা পদটির অব্যাপ্য অবস্থাকে বোঝানো হয়েছে।

    যুক্তিবিদ্যায় ব্যাপ্যতার নিয়মানুযায়ী, কোনো পদ যখন তার সমগ্র ব্যক্ত্যর্থকে নির্দেশ করে, তখন তা ব্যাপ্য হয়; আর যদি আংশিক ব্যক্ত্যর্থকে নির্দেশ করে, তবে তা অব্যাপ্য হয়। সদর্থক যুক্তিবাক্যে (A ও I) উদ্দেশ্য সম্পর্কে কোনো বিধেয়কে স্বীকার করে নেওয়া হয়। যেমন— ‘সকল মানুষ হয় মরণশীল’ (A বাক্য)। এখানে ‘মরণশীল’ বিধেয়টি কেবল মানুষের ক্ষেত্রেই প্রযুক্ত হয়েছে, সমগ্র মরণশীল জীবের ক্ষেত্রে নয়। ফলে বিধেয় পদের আংশিক ব্যক্ত্যর্থ গৃহীত হয়। একইভাবে বিশেষ সদর্থক (I) বাক্যে ‘কিছু ফুল হয় লাল’ বললে ‘লাল’ বিধেয়টির আংশিক ব্যক্ত্যর্থ বিবেচিত হয়। বিধেয় পদের সমগ্র ব্যক্ত্যর্থ বিবেচিত না হওয়ার কারণে সদর্থক যুক্তিবাক্যের বিধেয় পদ সর্বদা অব্যাপ্য থাকে, যা উদ্দীপকের ছকে সাদা ঘর দ্বারা প্রদর্শিত হয়েছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে প্রদর্শিত বিষয়টি হলো যুক্তিবাক্যে ‘পদের ব্যাপ্যতা’ (Distribution of Terms)। ব্যাপ্যতার মূল ভিত্তিই হলো পদের ‘ব্যক্ত্যর্থ’ বা পরিমাণের দিক। তাই উদ্দীপকের বিষয়ের সাথে ব্যক্ত্যর্থের সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর।

    কোনো যুক্তিবাক্যে যখন কোনো পদ তার সম্পূর্ণ ব্যক্ত্যর্থ বা সমগ্র সংখ্যার অর্থে ব্যবহৃত হয়, তখন সেই পদকে 'ব্যাপ্য' বলা হয়। পক্ষান্তরে, যখন কোনো পদ তার আংশিক ব্যক্ত্যর্থ বা কিছু অংশের অর্থে ব্যবহৃত হয়, তখন তাকে 'অব্যাপ্য' বলা হয়।

    উদ্দীপকের ছকে চারটি বাক্যের ক্ষেত্রে ব্যক্ত্যর্থের এই প্রয়োগ স্পষ্টভাবে দেখা যায়:
    ১. 'ক' বা 'A' বাক্যে উদ্দেশ্যের সমগ্র ব্যক্ত্যর্থ গৃহীত হওয়ায় উদ্দেশ্য ব্যাপ্য, কিন্তু বিধেয় পদের আংশিক ব্যক্ত্যর্থ প্রকাশ পাওয়ায় তা অব্যাপ্য।
    ২. 'খ' বা 'E' বাক্যে উদ্দেশ্য ও বিধেয় উভয়েরই সম্পূর্ণ ব্যক্ত্যর্থ পরস্পর থেকে পৃথক বা অস্বীকৃত হওয়ায় উভয় পদই ব্যাপ্য।
    ৩. 'গ' বা 'I' বাক্যে উদ্দেশ্য ও বিধেয় উভয়ের আংশিক ব্যক্ত্যর্থ গৃহীত হওয়ায় উভয় পদই অব্যাপ্য।
    ৪. 'ঘ' বা 'O' বাক্যে উদ্দেশ্যের আংশিক ব্যক্ত্যর্থ প্রকাশ পাওয়ায় উদ্দেশ্য অব্যাপ্য, কিন্তু বিধেয় পদ উদ্দেশ্যের ব্যক্ত্যর্থ থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন থাকায় বিধেয় ব্যাপ্য।

    সুতরাং, একটি পদ যুক্তিবাক্যে ব্যাপ্য হবে নাকি অব্যাপ্য হবে, তা সম্পূর্ণরূপে নির্ভর করে সেই পদটির ব্যক্ত্যর্থের পরিমাণের ওপর। অতএব, উদ্দীপকের আলোচ্য বিষয় অর্থাৎ পদের ব্যাপ্যতার সাথে ব্যক্ত্যর্থের সম্পর্ক অত্যন্ত নিবিড় ও মৌলিক।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন