হিন্দু ধর্ম • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২০

হিন্দু ধর্ম প্রশ্ন

সুজয়ের অনুশীলনকৃত যোগাসন পদ্ধতিতে পরিলক্ষিত হয়* পায়ের মাংসপিণ্ড সতেজ থাকে।* পায়ের হাঁটুর ওপর দিক হাতের ওপর দিক, নিতম্ব ও পেট সবল হয়।* লেখাপড়া করতে সুবিধা হয়।* বৃক্ক | অনিক নিয়মিতভাবে যে আসন পদ্ধতি অনুশীলন করে তার বৈশিষ্ট্য হচ্ছে* শরীরের আকৃতি গাছের মতো দেখায়।* শিরদাঁড়া সোজা করে দাঁড়াতে হয়।*দুই হাতের তালু এক সাথে করে মাথার উপরের দিকে সোজাসুজি নমস্কারের ভঙ্গিতে রাখতে হয়।

  1. ক)

    'স্তেয়' কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    যোগের কোন অঙ্গের মাধ্যমে মনের ইচ্ছাকে আয়ত্তে আনা হয়? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    সুজয়ের অনুশীলনকৃত আসন পদ্ধতি ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    অনিকের অনুশীলনকৃত আসনটি অনুশীলনের মাধ্যমে ব্যক্তি জীবনে কী ধরনের প্রভাব পড়ে তা বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    অপরের জিনিস না বলে অধিকার করাকে স্তেয় (চুরি) বলে।

  2. খ)

    যোগের 'প্রত্যাহার' অঙ্গের মাধ্যমে মনের ইচ্ছাকে আয়ত্তে আনা হয়। প্রত্যাহার অর্থ ফিরিয়ে নেওয়া। বাইরের বিষয় থেকে ইন্দ্রিয়সমূহকে ভিতরের দিকে ফিরিয়ে নিলে ইন্দ্রিয়গুলো অন্তর্মুখী হয়। তখন চিত্তে বিষয়াসক্তি নষ্ট হয় এবং মনের ইচ্ছা বা বাসনা নিয়ন্ত্রণে আসে। এর ফলে চিত্ত আরাধ্য বস্তুতে নিবিষ্ট হতে পারে।

  3. গ)

    উদ্দীপকে সুজয়ের অনুশীলনকৃত আসনের ফল হিসেবে পায়ের মাংসপিণ্ড সতেজ থাকা, উরু, নিতম্ব, পেট ও হাতের ওপর দিক সবল হওয়ার কথা বলা হয়েছে। এগুলো পাঠ্যবইয়ের গরুড়াসনের বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে মিলে যায়।

    ধারণা: গরুড় পাখির মতো দেহভঙ্গি হয় বলে এই আসনের নাম গরুড়াসন।

    পদ্ধতি: দুই পা জোড়া করে সোজা হয়ে দাঁড়াতে হবে। ডান হাত কনুইয়ের কাছে ভেঙে বাঁ কনুইয়ের নিচ দিয়ে নিয়ে গিয়ে দুই হাতের তালু নমস্কারের ভঙ্গিতে জোড়া করতে হবে। এরপর বাঁ পা মাটিতে রেখে ডান পা দিয়ে বাঁ পা পেঁচিয়ে ধরতে হবে। স্বাভাবিকভাবে শ্বাস-প্রশ্বাস চালিয়ে ৩০ সেকেন্ড এভাবে থাকতে হবে। হাত-পা বদল করে ৪ বার করে শবাসনে বিশ্রাম নিতে হবে।

    উদ্দীপকের সঙ্গে সম্পর্ক: এই আসনে পা, উরু, নিতম্ব, পেট ও হাতের ওপরের দিক মজবুত হয়, যা সুজয়ের অভিজ্ঞতার সঙ্গে মেলে। এছাড়া বাঁকা মেরুদণ্ড সোজা হয় ও কাঁধ ভালো থাকে, যা লেখাপড়ার সময় বসে থাকতে সুবিধা দেয়।

    অতএব, সুজয় গরুড়াসন অনুশীলন করে।

  4. ঘ)

    উদ্দীপকে অনিকের অনুশীলনকৃত আসনে শরীরের আকৃতি গাছের মতো দেখায়, শিরদাঁড়া সোজা থাকে এবং দুই হাতের তালু নমস্কারের ভঙ্গিতে মাথার ওপর থাকে। এটি বৃক্ষাসন। এই আসনে দেহ বৃক্ষের মতো হয় বলে এর এই নাম।

    পদ্ধতি হলো এক পায়ের ওপর ভর দিয়ে দাঁড়িয়ে অন্য পায়ের গোড়ালি ঊরুমূলে রাখা, তারপর নমস্কারের ভঙ্গিতে দুই হাত মাথার ওপর তুলে ১০ সেকেন্ড নিশ্চল থাকা। এ আসন নিয়মিত অনুশীলনে ব্যক্তিজীবনে যে প্রভাব পড়ে তা নিচে বিশ্লেষণ করা হলো—

    ১. ভারসাম্য ও শারীরিক শক্তি: একপায়ে দাঁড়ানোর ফলে শরীরের ভারসাম্য বজায় রাখার ক্ষমতা বাড়ে। পায়ের পেশির দৃঢ়তা ও স্থিতিস্থাপকতা বাড়ে এবং পায়ে জোর পাওয়া যায়, ফলে চলাফেরার ক্ষমতা বাড়ে।
    ২. মেরুদণ্ড ও গঠন: কোমর ও মেরুদণ্ডের শক্তি বৃদ্ধি পায়। হাত ও পায়ের গঠন সুষ্ঠু ও সুন্দর হয়। শিরদাঁড়া সোজা রাখার অভ্যাস অনিকের দেহভঙ্গিকে সুন্দর করে।
    ৩. রোগ প্রতিরোধ: হাঁটু, কনুই, বগলের স্নায়ুতন্ত্রে রক্ত সঞ্চালন বাড়ে এবং গ্রন্থি সবল ও নমনীয় হয়। পায়ে বাত হয় না এবং পায়ের ধমনীতে আথেরোমা জমা রোধ হয়, ফলে থ্রম্বোসিসের ঝুঁকি কমে। যাদের হাত-পা কাঁপে বা পা দুর্বল, তাদের বিশেষ উপকার হয়।
    ৪. মানসিক একাগ্রতা: স্থির হয়ে নিশ্চল থাকার অভ্যাস মনকে স্থির ও শান্ত করে, যা পড়াশোনায় মনোযোগ বাড়াতে সাহায্য করে।

    সুতরাং, বৃক্ষাসন অনিকের শারীরিক সুস্থতা, ভারসাম্য ও মানসিক স্থিরতা বাড়িয়ে তার ব্যক্তিজীবনকে সুন্দর ও সুস্থ করে তুলবে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন