বাংলা ১ম পত্র • মমতা-দি • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০২৫
বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন
মা মরা মেয়ে মিনু। তার জন্মের আগেই বাবা মারা গেছে। সে মানুষ হচ্ছে এক দূরসম্পর্কের পিসিমার বাড়িতে। বয়স মাত্র দশ, কিন্তু এ বয়সেই সবরকম কাজ করতে হয় তাকে। লোকে অবশ্য বলে যোগেন বসাক মহৎ লোক বলেই অনাথা বোবা মেয়েটাকে আশ্রয় দিয়েছেন। মহৎ হয়ে সুবিধাই হয়েছে যোগেন বসাকের। পেটভাতায় এমন সর্বগুণান্বিতা চব্বিশ ঘণ্টার চাকরানি পাওয়া শক্ত হতো।
- ক)(1)
মমতাদির ছেলের বয়স কত?
- খ)(2)
মমতাদিকে "ছায়াময়ী মানবী" বলা হয়েছে কেন? বুঝিয়ে লেখ।
- গ)(3)
উদ্দীপকের মিনুর সাথে 'মমতাদি' গল্পের মমতাদির বৈসাদৃশ্য ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের যোগেন বসাক 'মমতাদি' গল্পের গৃহকর্ত্রীর প্রতিনিধিত্ব করেন কি? তোমার মতের সপক্ষে যুক্তি দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
মমতাদির ছেলের বয়স ছিল বছর পাঁচেক (প্রায় ৫ বছর)।
- খ)
কাজে যোগ দেওয়ার প্রথম দিন মমতাদি নীরবে নতমুখে কাজ করে যায়। মার সঙ্গে দু-একটি দরকারি কথা ছাড়া সে কারও সঙ্গে কথা বলেনি, বাড়ির মানুষগুলোর দিকে ফিরেও তাকায়নি, এমনকি একবার কাশির শব্দও করেনি। তার চেহারায় ছিল ক্লান্তির ছায়া আর আচরণে ছিল শব্দহীন নির্বিকারত্ব। ছায়ার মতো সে ম্লান অথচ মহীয়সী, আবার ধরাছোঁয়ার বাইরে, তাই কিশোর কথকের চোখে সে 'ছায়াময়ী মানবী'।
- গ)
উদ্দীপকের মিনু ও 'মমতাদি' গল্পের মমতাদির মধ্যে অবস্থা, মর্যাদা ও আচরণের দিক থেকে স্পষ্ট বৈসাদৃশ্য রয়েছে।
উদ্দীপকে মিনু মাতৃপিতৃহীন, বোবা ও মাত্র দশ বছরের শিশু। সে দূরসম্পর্কের পিসিমার বাড়িতে আশ্রিত, যেখানে 'পেটভাতায়' তাকে চব্বিশ ঘণ্টার চাকরানির মতো খাটতে হয়। যোগেন বসাক তাকে আশ্রয় দিয়ে মহত্ত্বের খ্যাতি পেয়েছেন, কিন্তু আসলে তাকে শোষণ করছেন। তার না আছে মত প্রকাশের ভাষা, না আছে আত্মরক্ষার সুযোগ।
অন্যদিকে 'মমতাদি' গল্পে মমতাদি বছর তেইশের একজন পূর্ণবয়স্ক নারী। স্বামীর চাকরি নেই বলে সংসার চালাতে সে নিজের ইচ্ছায় 'পর্দা ঠেলে' উপার্জনে নেমেছে এবং রাঁধুনির কাজ নিয়ে মাসে পনের টাকা বেতন পেয়েছে। সে কথা বলতে পারে, নিজের মত ও চাহিদা প্রকাশ করতে পারে। সবচেয়ে বড় কথা, তার আত্মসম্মানবোধ প্রবল; সম্মানে আঘাত লাগলে সে কাজ ছেড়ে দেওয়ার সাহস রাখে। গৃহকর্ত্রীর কাছেও সে মমতা ও মর্যাদা পেয়েছে, আর কথকের কাছে পেয়েছে 'দিদি' ডাক।
অতএব, মিনু আশ্রয়দাতার দয়ার ওপর নির্ভরশীল ও শোষিত, আর মমতাদি শ্রমের বিনিময়ে মর্যাদাসহ উপার্জনকারী ও আত্মসম্মানী। এখানেই তাদের মূল বৈসাদৃশ্য।
- ঘ)
না, উদ্দীপকের যোগেন বসাক 'মমতাদি' গল্পের গৃহকর্ত্রীর প্রতিনিধিত্ব করেন না; বরং দুজনের মনোভাব বিপরীতমুখী।
'মমতাদি' গল্পে গৃহকর্তা পরিবারের কর্ত্রী কথকের মা গৃহকর্মীর প্রতি সহমর্মিতা ও মানবিকতার প্রতীক। উদ্দীপকে যোগেন বসাক বাইরে মহৎ সেজে অনাথ মিনুকে আশ্রয় দিলেও তা স্বার্থসিদ্ধির জন্য। তুলনামূলক বিশ্লেষণ নিচে দেওয়া হলো:
১. সম্বোধন ও ব্যবহার: মমতাদি কাজ চাইতে এলে মা তাকে স্নেহভরে বলেন, 'বোসো বাছা'। পরে তাকে 'মা' বলে সম্বোধন করে কথা বলেন। যোগেন বসাক আশ্রিত মেয়েটির সঙ্গে প্রভুর মতো আচরণ করেন এবং তাকে কেবল শ্রমের উৎস মনে করেন।
২. শ্রমের মূল্য: গৃহকর্ত্রী মমতাদির জন্য পনের টাকা বেতন নির্ধারণ করেন, যা মমতাদির প্রত্যাশার চেয়ে বেশি ছিল। কিন্তু যোগেন বসাক 'পেটভাতায়' মিনুকে দিয়ে সব কাজ করিয়ে নেন। ফলে মিনুর শ্রম পুরোপুরি অবমূল্যায়িত ও শোষিত।
৩. মর্যাদা ও স্বাধীনতার প্রতি সম্মান: মমতাদির স্বামীর চাকরি হলে গৃহকর্ত্রী বলেন, ইচ্ছে করলে সে কাজ ছাড়তে পারে, তাকে আটকে রাখা হবে না। এতে বোঝা যায় তিনি মমতাদির স্বাধীন সিদ্ধান্তকে সম্মান করেন। উদ্দীপকে মিনুর কোনো মত বা স্বাধীনতা নেই।
৪. মায়া ও আন্তরিকতা: মা বলেন, 'তোমার ওপর মায়া বসেছে, তুমি চলে গেলে আমাদেরও কি ভালো লাগবে?' যোগেন বসাকের মহত্ত্ব লোকদেখানো, তাতে কোনো আন্তরিক মায়া নেই।
তবে এ কথাও সত্য, গৃহকর্ত্রীর আচরণে কিছুটা করুণা ও দয়ার ভাব ছিল, যা মমতাদির আত্মসম্মানে লেগেছিল। তবু তা শোষণ বা অমানবিকতা নয়।
সুতরাং, গৃহকর্ত্রী গৃহকর্মীকে মানুষ হিসেবে মর্যাদা দেন, আর যোগেন বসাক অসহায় শিশুকে শোষণ করেন। তাই যোগেন বসাক গৃহকর্ত্রীর প্রতিনিধিত্ব করেন না।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও