হিন্দু ধর্ম • Combined Board • সকল বোর্ড ২০১৮
হিন্দু ধর্ম প্রশ্ন
দশম শ্রেণির মেধাবী ছাত্র শুভ কিছুদিন ধরে বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত। খবর নিয়ে জানা যায় যে কুসংঙ্গ পরে নেশায় আসক্ত হয়ে নানা রকম খারাপ কাজের সাথে জড়িত। শুভর বাবা মা বুঝিয়ে তাকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হন। তাছাড়া মাদকাসক্তি অধর্মের পথ। শুভ তার ভুল বুঝতে পেরে সে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসে।
- ক)(1)
ধর্মের সাধারণ লক্ষণ কয়টি?
- খ)(2)
"জীবঃ ব্রহ্মৈব নাপরঃ" শ্লোকটির অর্থ বুঝিয়ে লিখ।
- গ)(3)
তোমার কোনো মাদকাসক্তি বন্ধুকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে তুমি কী পদক্ষেপ নিতে পার? উদ্দীপকের আলোকে ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
পারিবারিক, সামাজিক ও নৈতিক জীবনে মাদকাসক্তির প্রভাব বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
ধর্মের সাধারণ লক্ষণ দশটি।
- খ)
'জীবঃ ব্রহ্মৈব নাপরঃ' শঙ্করাচার্যের বাণী। এর অর্থ, জীব ব্রহ্ম ছাড়া আর কিছুই নয়।
হিন্দুধর্মের দার্শনিক ধারণা হলো, ঈশ্বর জীবের মধ্যে আত্মারূপে বাস করেন। তাই জীব ও ব্রহ্ম অভিন্ন। এ কারণে সকল জীবকে ঈশ্বরজ্ঞানে ভালোবাসা ও সেবা করা উচিত।
- গ)
মাদকাসক্ত বন্ধুকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে আমি নিচের পদক্ষেপগুলো নিতে পারি।
ধর্মীয় ও নৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি: মাদকাসক্তি অনৈতিক ও অধর্মের পথ। কারণ এটি মানুষের স্বাভাবিক চেতনাকে বিমূঢ় করে দেয়। আমাদের দেহে আত্মারূপে ব্রহ্ম অবস্থান করেন, তাই এ দেহ ঈশ্বরের মন্দির। একে অপবিত্র করা উচিত নয়। মাদকাসক্তকে সুস্থ জীবনে ফিরিয়ে আনা পারিবারিক ও সামাজিক কর্তব্য।
পদক্ষেপ:
১. বন্ধুকে ধমক বা শাসন না করে ভালোবাসা ও সহানুভূতির সঙ্গে বোঝাব। শুভর বাবা-মাও তাকে বুঝিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে এনেছেন।
২. মাদকের দৈহিক, মানসিক, আর্থিক ও সামাজিক ক্ষতির কথা তাকে জানাব এবং দেহ ঈশ্বরের মন্দির, এ ধর্মীয় চেতনা তার মধ্যে জাগিয়ে তুলব।
৩. তার কুসংগ থেকে তাকে দূরে রেখে ভালো বন্ধুদের সঙ্গে খেলাধুলা, পড়াশোনা ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে যুক্ত করব।
৪. তার পরিবার ও শিক্ষকদের জানিয়ে প্রয়োজনে চিকিৎসক ও মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রের সহায়তা নিতে সাহায্য করব।এভাবে সচেতনতা, দৃষ্টান্ত ও সহযোগিতার মাধ্যমে মাদকাসক্ত বন্ধুকে সুস্থ জীবনে ফিরিয়ে আনা সম্ভব।
- ঘ)
মাদকাসক্তি ধর্মের দৃষ্টিতে অধর্মের পথ। এটি ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও নৈতিক জীবন, সবক্ষেত্রেই ভয়াবহ কুপ্রভাব ফেলে।
মাদকাসক্তির ধারণা: ধূমপান, মদ, গাঁজা, আফিম, হেরোইন, কোডিন (ফেনসিডিল) ইত্যাদি মাদক। একবার শুরু করলে তা নেশায় পরিণত হয়, সহজে ছাড়া যায় না।
১. পারিবারিক জীবনে প্রভাব: মাদকাসক্ত ব্যক্তি মাদক কেনার অর্থ জোগাড় করতে গিয়ে অসৎ উপায় অবলম্বন করে। এতে পরিবারের আর্থিক ক্ষতি হয়। মাদকাসক্তির কারণে পারিবারিক বন্ধন শিথিল হয়ে যায় এবং বাবা-মা মানসিক কষ্টে ভোগেন। উদ্দীপকের শুভ মেধাবী ছাত্র হয়েও বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থেকেছে এবং খারাপ কাজে জড়িয়ে পড়েছে।
২. সামাজিক জীবনে প্রভাব: মাদকাসক্ত ব্যক্তি স্বাভাবিক জীবনযাপন থেকে দূরে সরে যায়। তার আচরণ কখনো ধ্বংসাত্মক হয়ে ওঠে। ফলে সমাজে অশান্তি, অপরাধ ও সামাজিক বন্ধনের শিথিলতা দেখা দেয়। ধূমপান শুধু ধূমপায়ীর নয়, অন্যদেরও ক্ষতি করে।
৩. নৈতিক জীবনে প্রভাব: মাদকাসক্ত অবস্থায় বিবেকবুদ্ধি লোপ পায়, চৈতন্য পর্যন্ত লোপ পেতে পারে। অসুস্থ দেহ-মনে সে যে আচরণ করে, তাতে অনৈতিকতা প্রকাশ পায়। ধর্মের দশ লক্ষণ, ক্ষমা, সত্য, শৌচ, ইন্দ্রিয়সংযম প্রভৃতি, সে হারিয়ে ফেলে। হিন্দুধর্ম মতে এটি ঘোরতর পাপ। মাদকাসক্তের সঙ্গ যাঁরা করেন, তাঁরাও পাপের অংশীদার হন।
৪. স্বাস্থ্যগত প্রভাব: ধূমপানে নিউমোনিয়া, ব্রংকাইটিস, যক্ষ্মা, ফুসফুসের ক্যান্সার, হৃদরোগ ইত্যাদি হয়। মাদকগ্রহণে নানা অসুখ হয় এবং মস্তিষ্কবিকৃতি পর্যন্ত ঘটতে পারে।সুতরাং, মাদকাসক্তি পরিবারকে ভেঙে দেয়, সমাজকে অশান্ত করে এবং ব্যক্তির নৈতিকতা ধ্বংস করে। তাই ধর্মীয় সংস্কৃতি ও নৈতিক মূল্যবোধ অনুসরণ করে আমাদের মাদক থেকে দূরে থাকতে হবে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও