বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০২৬
বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা প্রশ্ন
দৃশ্য-১: মুক্তিযুদ্ধের সময় গ্রামের এক তরুণ মিজান রাতে রেডিওর সংবাদ শুনত। দেশের বিভিন্ন স্থানে মুক্তিকামী মানুষের সাহসিকতার খবর শুনে তার মনে জেগে উঠত আশা ও উদ্দীপনা। সেই খবরই তাকে মুক্তিযোদ্ধাদের পাশে দাঁড়াতে অনুপ্রাণিত করেছিল।
দৃশ্য-২: লাবীব রাজধানী শহর থেকে কিছু দূরে ঘুরতে গিয়েছিল। সেখানে ১৫০ ফুট উচ্চতার একটি বিশাল স্থাপনায় সাত জোড়া ত্রিভুজাকার দেয়াল তার চোখে পড়ল, যা মুক্তিযোদ্ধাদের সাহস, ত্যাগ ও সংগ্রামের গল্প মনে করিয়ে দেয়। আজও এটি মানুষের ঐক্য ও জাতীয় চেতনা শক্তিশালী করে।
- ক)(1)
মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি কে ছিলেন?
- খ)(2)
‘পোড়ামাটি নীতি’ কী? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
দৃশ্য-১ এর ঘটনা বাঙালিদের মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণে কীভাবে অনুপ্রাণিত করেছিল? পাঠ্যবইয়ের আলোকে তা ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
দৃশ্য-২ এ লাবীবের দেখা স্থাপনা দেশের সাহস, সংগ্রাম ও অহংকারের প্রতীক বলে তুমি কি মনে কর? মতামত দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি ছিলেন জেনারেল এম এ জি ওসমানী।
- খ)
পোড়ামাটি নীতি হলো পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর অনুসৃত একটি ধ্বংসাত্মক কৌশল।
এই নীতিতে তারা গ্রামের পর গ্রামের ঘরবাড়ি, ফসল ও স্থাপনা পুড়িয়ে দিয়ে এবং সাধারণ মানুষকে হত্যা করে বাঙালির প্রতিরোধ ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা করেছিল। মুক্তিযুদ্ধে এই নীতির ফলে বিপুল প্রাণহানি ও সম্পদের ক্ষতি হয়।
- গ)
দৃশ্য-১-এ মিজানের রেডিওর সংবাদ শোনা স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের ভূমিকাকে নির্দেশ করে।
মুক্তিযুদ্ধের সময় স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে বঙ্গবন্ধুর ঘোষণা, মুক্তিযুদ্ধের খবর, দেশাত্মবোধক গান ও কথিকা প্রচারিত হতো। এসব শুনে সাধারণ বাঙালি সাহস ও আশা পেত এবং হানাদারদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে অনুপ্রাণিত হয়ে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিত। মিজানও তাই মুক্তিযোদ্ধাদের পাশে দাঁড়াতে অনুপ্রাণিত হয়েছিল।
- ঘ)
হ্যাঁ, দৃশ্য-২-এর স্থাপনা, অর্থাৎ সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধ, দেশের সাহস, সংগ্রাম ও অহংকারের প্রতীক।
১. এটি মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের স্মৃতির প্রতি জাতির শ্রদ্ধার নিদর্শন; এর উচ্চতা ১৫০ ফুট এবং সাত জোড়া ত্রিভুজাকার দেয়াল রয়েছে।
২. দেয়ালগুলোর আকার ও গঠন বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলনের পর্যায় ও সংগ্রামের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।
৩. বিভিন্ন জাতীয় দিবসে মানুষ এখানে শ্রদ্ধা জানিয়ে ঐক্য ও জাতীয় চেতনায় উজ্জীবিত হয়।সুতরাং স্মৃতিসৌধ দেশের সাহস, সংগ্রাম ও অহংকারের প্রতীক।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও