পৌরনীতি ও নাগরিকতা • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০২৪
পৌরনীতি ও নাগরিকতা প্রশ্ন
সাবিনা বেগম গৌরিপুর ইউনিয়নের কাদিরাবাদ গ্রামের বাসিন্দা। তিনি গৌরিপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য নির্বাচিত হওয়ার জন্য প্রার্থী হিসেবে মনোনীত হন। ভোটের আগে তিনি তার মহল্লায় বিভিন্ন ধরনের উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি প্রদান করেন। ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে তিনি দোয়া ও ভোট চান। অবশেষে সাবিনা বেগম বিপুল ভোটে জয়লাভ করেন।
- ক)(1)
নারীর ক্ষমতায়ন কী?
- খ)(2)
"স্থানীয় সরকার নাগরিক সেবার প্রাণকেন্দ্র" ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে কীভাবে নারীর ক্ষমতায়নের দিকটির প্রতিফলন ঘটেছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
সমাজের উন্নয়নে সাবিনা বেগমের মতো প্রত্যেক নারীর ক্ষমতায়নের গুরুত্ব বিশ্লেষণ করো
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
নারীর ক্ষমতায়ন হলো নারীকে শিক্ষা, অর্থনীতি, রাজনীতি ও সিদ্ধান্ত গ্রহণসহ সকল ক্ষেত্রে পুরুষের সমান অধিকার, সুযোগ ও ক্ষমতা প্রদান করা।
- খ)
স্থানীয় সরকার জনগণের সবচেয়ে কাছের সরকার, তাই একে নাগরিক সেবার প্রাণকেন্দ্র বলা হয়।
গ্রাম ও শহরের মানুষ জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন, নাগরিকত্বের সনদ, রাস্তাঘাট, পানি, স্বাস্থ্য ও শিক্ষার মতো দৈনন্দিন সেবা স্থানীয় সরকারের কাছ থেকে পায়। কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষে এসব সেবা সরাসরি সবার কাছে পৌঁছানো কঠিন। তাই স্থানীয় সরকারের মাধ্যমেই নাগরিক সেবা নিশ্চিত হয়।
- গ)
উদ্দীপকে সাবিনা বেগম গৌরিপুর ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য পদে প্রার্থী হয়ে ভোটারদের কাছে গিয়ে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন এবং বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছেন। এর মাধ্যমে নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে।
ইউনিয়ন পরিষদে নারীদের জন্য তিনটি সংরক্ষিত আসন আছে এবং নারীরা সাধারণ আসনেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন। সাবিনা বেগমের মতো নারীরা নির্বাচনে অংশ নিয়ে স্থানীয় উন্নয়ন ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে ভূমিকা রাখছেন। এটি নারীর রাজনৈতিক অংশগ্রহণ ও ক্ষমতায়নের প্রমাণ।
- ঘ)
সাবিনা বেগমের মতো নির্বাচিত নারী প্রতিনিধির উদাহরণ থেকে বোঝা যায়, সমাজের উন্নয়নে প্রত্যেক নারীর ক্ষমতায়নের গুরুত্ব অনেক।
১. অর্থনৈতিক উন্নয়ন: দেশের প্রায় অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারী। তারা কর্মক্ষেত্রে যুক্ত হলে উৎপাদন ও জাতীয় আয় বাড়ে এবং পরিবার দারিদ্র্যমুক্ত হয়।
২. সামাজিক সচেতনতা: শিক্ষিত ও ক্ষমতায়িত নারী বাল্যবিবাহ, যৌতুক ও নির্যাতন রোধে ভূমিকা রাখে এবং সন্তানের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের প্রতি যত্ন নেয়।
৩. রাজনৈতিক ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে অংশগ্রহণ: নারী প্রতিনিধিরা নারী ও শিশুর সমস্যা তুলে ধরতে পারেন, ফলে উন্নয়ন পরিকল্পনা অধিক ন্যায্য ও সর্বজনীন হয়।
৪. গণতন্ত্র শক্তিশালী হয়: সকল নাগরিকের অংশগ্রহণে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা মজবুত হয়।সুতরাং, নারীর ক্ষমতায়ন ছাড়া টেকসই সমাজ উন্নয়ন সম্ভব নয়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও