হিন্দু ধর্ম • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০২৪
হিন্দু ধর্ম প্রশ্ন
ব্রজমোহন বাবু সুখে-দুঃখে নিরুদ্বেগ থাকেন। আনন্দে অতি উদ্বেল হন না, দুঃখে ভেঙে পড়েন না। দান ও দয়া তার দু'টি প্রধান নৈতিক গুণ। সহকর্মী অনীল বাবু সর্বদা বিষণ্ণ থাকেন। তিনি অল্পতেই রেগে যান। কাঙ্ক্ষিত বস্তু অর্জনের জন্য অনেক সময় লোভের বশবর্তী হয়ে অসৎ পথ অবলম্বন করেন। পরিণামে তার অধঃপতন হয়েছে।
- ক)(1)
শিষ্টাচার কাকে বলে?
- খ)(2)
"ধর্মাধর্ম নির্ণয়ে সদাচার তৃতীয় প্রমাণ'- ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
ব্রজমোহন বাবুর চরিত্র তোমার পাঠ্যবইয়ের কাদের স্বরূপের সাথে মিল খুঁজে পাও? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
'উদ্দীপকের অনীল বাবুর চরিত্র অধার্মিকেরই প্রতিচ্ছবি'- তোমার উত্তরের পক্ষে যুক্তি তুলে ধর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
নম্র, ভদ্র বা শিষ্ট আচরণকে শিষ্টাচার বলে।
- খ)
ধর্মাধর্ম নির্ণয়ের প্রমাণ চারটি: বেদ, স্মৃতি, সদাচার ও বিবেকের বাণী। বেদ প্রথম ও স্মৃতিশাস্ত্র দ্বিতীয় প্রমাণ। যদি বেদ ও স্মৃতিশাস্ত্র থেকে বাস্তবসম্মত উপদেশ পাওয়া না যায়, তখন মহাপুরুষদের আচরণকে দৃষ্টান্ত হিসেবে গ্রহণ করতে হয়। আবহমান কাল ধরে অনুসৃত ও মহাপুরুষদের অনুষ্ঠিত আচরণই সদাচার। এই কারণেই ধর্মাধর্ম নির্ণয়ে সদাচারকে তৃতীয় প্রমাণ বলা হয়েছে।
- গ)
ব্রজমোহন বাবুর চরিত্র পাঠ্যবইয়ের ধার্মিকের স্বরূপের সঙ্গে মিলে যায়।
পাঠ্যের ধারণা: মনুসংহিতায় ধর্মের দশটি বাহ্য লক্ষণ বলা হয়েছে: ধৃতি, ক্ষমা, দম, অস্তেয়, শৌচ, ইন্দ্রিয়নিগ্রহ, ধী, বিদ্যা, সত্য ও অক্রোধ। যিনি জীবনে এই লক্ষণগুলো অনুসরণ করেন, তিনিই ধার্মিক। ধার্মিক ব্যক্তি ধৈর্য হারান না, ক্ষমতার দম্ভে চলেন না, ইন্দ্রিয়কে সংযত রাখেন এবং সত্যপ্রিয় হন। তিনি সুখে-দুঃখে নিরুদ্বেগ থাকেন। আনন্দে অতি উদ্বেল হন না, দুঃখে ভেঙে পড়েন না। দান ও দয়া তাঁর দুটি প্রধান নৈতিক গুণ।
উদ্দীপকের সঙ্গে সম্পর্ক: উদ্দীপকে ব্রজমোহন বাবু সুখে-দুঃখে নিরুদ্বেগ থাকেন, আনন্দে অতি উদ্বেল হন না এবং দুঃখে ভেঙে পড়েন না। দান ও দয়া তাঁর দুটি প্রধান নৈতিক গুণ। এ বৈশিষ্ট্যগুলো পাঠ্যবইয়ে বর্ণিত ধার্মিকের স্বরূপের সঙ্গে হুবহু মিলে যায়।
অতএব, ব্রজমোহন বাবুর চরিত্রে ধার্মিক ব্যক্তির স্বরূপ প্রতিফলিত হয়েছে।
- ঘ)
'উদ্দীপকের অনীল বাবুর চরিত্র অধার্মিকেরই প্রতিচ্ছবি' উক্তিটি সম্পূর্ণ যথার্থ। এর পক্ষে যুক্তি নিচে তুলে ধরা হলো।
পাঠ্যবইয়ে বলা হয়েছে, যিনি বেদ, স্মৃতি, সদাচার ও বিবেকের নির্দেশিত ধর্মপথে চলেন এবং ধৃতি, ক্ষমা, দম ইত্যাদি দশটি লক্ষণ জীবনে অনুসরণ করেন, তিনি ধার্মিক। যাঁর এসব নৈতিক মূল্যবোধ নেই, তিনি অধার্মিক।
১. অতৃপ্তি ও বিষণ্ণতা: পাঠ্যবইয়ে আছে, অধার্মিক সবসময় অতৃপ্ত থাকেন বলে সর্বদা বিষণ্ণ থাকেন। উদ্দীপকে অনীল বাবু সর্বদা বিষণ্ণ থাকেন। ধার্মিকের মতো তিনি সদা সন্তুষ্ট ও প্রফুল্ল নন।
২. ক্রোধের বশীভূত হওয়া: ধার্মিকের একটি লক্ষণ অক্রোধ ও দম, অর্থাৎ নিজেকে সংযত রাখা। অথচ অনীল বাবু অল্পতেই রেগে যান, যা ক্রোধের কাছে পরাজয়। পাঠ্যবইয়ে আছে, ক্রোধ অধার্মিককে উত্তেজিত করে।
৩. লোভ ও অসৎ পথ: অনীল বাবু কাঙ্ক্ষিত বস্তু পাওয়ার জন্য লোভের বশবর্তী হয়ে অসৎ পথ অবলম্বন করেন। এটি অস্তেয় ও সত্যের পরিপন্থী। পাঠ্যবইয়ে বলা হয়েছে, লোভ অধার্মিককে আকর্ষণ করে তাঁর অধঃপতন ঘটায়।
৪. পরিণতি: অধার্মিক ইহলোকে কুকর্মে লিপ্ত থাকেন, কখনো দণ্ডিত হন এবং পরলোকে নরকযন্ত্রণা ভোগ করেন। উদ্দীপকে অনীল বাবুর পরিণামে অধঃপতন ঘটেছে, যা এ বক্তব্যের সঙ্গে মেলে। ধর্ম নষ্ট করলে ধর্মই ধর্মনাশকারীকে বিনাশ করে।সুতরাং, বিষণ্ণতা, ক্রোধ, লোভ ও অসৎ পথ অবলম্বনের কারণে অনীল বাবু অধার্মিকেরই প্রতিচ্ছবি। তবে অধর্মের পথ ছেড়ে ধর্মপথে ফিরলে তিনিও পরিশুদ্ধ হতে পারেন।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও