অর্থনীতি • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২৪

অর্থনীতি প্রশ্ন

ইরা ও নিরা দুই বোন। ইরা একটি বেসরকারি ফার্মে চাকরি করেন। অপরদিকে নিরা একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। নিরার চেয়ে ইরা বেশি টাকা বেতন পান। তাদের মামা এমন একটি দেশে চাকরি করেন যেখানে উৎপাদন ও বণ্টন কেন্দ্রীয় নির্দেশে পরিচালিত হয় এবং সেখানে ভোক্তার স্বাধীনতার অভাব দেখা যায়।

  1. ক)

    সামষ্টিক অর্থনীতি কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    মুদ্রাস্ফীতি ও বেকারত্বের সম্পর্ক ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে ইরা ও নিরার দেশে কোন ধরনের অর্থব্যবস্থা বিদ্যমান? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে ইরা ও নিরার মামার কর্মরত দেশে বিদ্যমান অর্থব্যবস্থার সাথে বাংলাদেশের অর্থব্যবস্থার কোনো সাদৃশ্য আছে কি? তোমার মতামত দাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    অর্থনীতির যে শাখায় সমগ্র অর্থনীতির সামগ্রিক বিষয়, যেমন জাতীয় আয়, মোট কর্মসংস্থান ও সাধারণ দামস্তর নিয়ে আলোচনা করা হয়, তাকে সামষ্টিক অর্থনীতি (Macroeconomics) বলে।

  2. খ)

    মুদ্রাস্ফীতি হলো দ্রব্যের সাধারণ দামস্তরের ক্রমাগত বৃদ্ধি। স্বল্পকালে মুদ্রাস্ফীতি ও বেকারত্বের মধ্যে বিপরীত সম্পর্ক দেখা যায়। মুদ্রাস্ফীতি বাড়লে দাম বাড়ে, ফলে উৎপাদকের মুনাফা বাড়ে এবং তারা উৎপাদন ও নিয়োগ বাড়ায়, তাই বেকারত্ব কমে। আবার মুদ্রাস্ফীতি কমলে উৎপাদন ও কর্মসংস্থান কমে বেকারত্ব বাড়তে পারে। এই বিপরীত সম্পর্ক ফিলিপস রেখায় দেখানো হয়।

  3. গ)

    উদ্দীপকে ইরা বেসরকারি ফার্মে এবং নিরা সরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। অর্থাৎ ইরা ও নিরার দেশে বেসরকারি ও সরকারি উভয় খাত একসাথে বিদ্যমান। যে অর্থব্যবস্থায় ব্যক্তিগত ও সরকারি উভয় উদ্যোগে উৎপাদন ও বণ্টন কার্যক্রম পরিচালিত হয়, তাকে মিশ্র অর্থব্যবস্থা (Mixed Economy) বলে। এখানে ব্যক্তি উদ্যোগে যেমন মুনাফা অর্জনের সুযোগ আছে, তেমনি সরকারি খাত জনকল্যাণমূলক কাজ করে। সুতরাং, ইরা ও নিরার দেশে মিশ্র অর্থব্যবস্থা বিদ্যমান।

  4. ঘ)

    উদ্দীপকে মামার দেশে উৎপাদন ও বণ্টন কেন্দ্রীয় নির্দেশে পরিচালিত হয় এবং ভোক্তার স্বাধীনতা নেই। এটি সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা। বাংলাদেশের অর্থব্যবস্থা মিশ্র। আমার মতে, এ দুটির মধ্যে আংশিক সাদৃশ্য আছে, তবে মৌলিক পার্থক্যই বেশি।

    ১. সাদৃশ্য: বাংলাদেশেও রেল, বিমান ও কয়েকটি ব্যাংকের মতো খাতে সরকারি মালিকানা আছে এবং সরকার পরিকল্পনার (যেমন পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা) মাধ্যমে অর্থনীতি পরিচালনায় ভূমিকা রাখে।
    ২. বৈসাদৃশ্য (মালিকানা): সমাজতন্ত্রে প্রায় সব সম্পদ রাষ্ট্রের; বাংলাদেশে ব্যক্তিগত মালিকানাও স্বীকৃত।
    ৩. বৈসাদৃশ্য (স্বাধীনতা): বাংলাদেশে ভোক্তা ও উৎপাদক তুলনামূলকভাবে স্বাধীন সিদ্ধান্ত নিতে পারে, সমাজতন্ত্রে তা সীমিত।

    সুতরাং, সরকারি খাত ও পরিকল্পনার দিক থেকে মিল থাকলেও বাংলাদেশের অর্থব্যবস্থা সমাজতান্ত্রিক নয়, এটি মিশ্র অর্থব্যবস্থা।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন