পৌরনীতি ও নাগরিকতা • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০২৫

পৌরনীতি ও নাগরিকতা প্রশ্ন

ঘটনা-১: জনাব 'A' বাংলাদেশের নাগরিক হলেও ব্যবসাসূত্রে তিনি স্ত্রীকে নিয়ে কানাডায় বসবাস করেন। ওখানে তার স্ত্রী এক পুত্র সন্তানের জন্ম দেন।ঘটনা-২: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাষ্ট্রপতি জন এফ কেনেডি তার দেশবাসীর উদ্দেশ্যে বলেন, "রাষ্ট্র আপনাকে কী দিয়েছে এ প্রশ্ন না করে নিজেকে প্রশ্ন করুন, আপনি রাষ্ট্রের জন্য কী করেছেন।"

  1. ক)

    নাগরিক কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    বুদ্ধিমান নাগরিককে রাষ্ট্রের শ্রেষ্ঠ সম্পদ বলা হয় কেন? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    জনাব 'A' এর সন্তানের বাংলাদেশের নাগরিকতা অর্জনের ক্ষেত্রে কোন নীতি অনুসৃত হবে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    ঘটনা-২ এ উল্লিখিত যে বিষয়টিকে অধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে তাকে কি তুমি সমর্থন কর? তোমার উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    যিনি কোনো রাষ্ট্রের স্থায়ী অধিবাসী, রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করেন এবং রাষ্ট্র প্রদত্ত সকল অধিকার ভোগ ও কর্তব্য পালন করেন, তাঁকে নাগরিক বলে।

  2. খ)

    বুদ্ধিমান নাগরিক রাষ্ট্রের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন বলে তাঁকে রাষ্ট্রের শ্রেষ্ঠ সম্পদ বলা হয়।

    তিনি ভালো-মন্দ বিচার করে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারেন, যেমন যোগ্য প্রার্থীকে ভোট দেওয়া। তিনি নিজের অধিকার ও কর্তব্য সম্পর্কে সচেতন থাকেন এবং সমস্যার সঠিক সমাধান খুঁজে বের করেন। তাঁর সহযোগিতায় রাষ্ট্র শক্তিশালী ও উন্নত হয়।

  3. গ)

    জনাব 'A' বাংলাদেশের নাগরিক। তাঁর সন্তান কানাডায় জন্মগ্রহণ করেছে। বাংলাদেশের নাগরিকতা অর্জনের ক্ষেত্রে এখানে রক্তসম্পর্কের নীতি (বংশসূত্র নীতি) অনুসৃত হবে।

    ব্যাখ্যা: এই নীতিতে সন্তান পিতা বা মাতার নাগরিকতা পায়, সে যেখানেই জন্মগ্রহণ করুক না কেন। জনাব 'A' বাংলাদেশের নাগরিক বলে তাঁর পুত্র কানাডায় জন্মালেও রক্তের সম্পর্কের কারণে বাংলাদেশের নাগরিকতা পাবে। (কানাডা জন্মস্থান নীতি মানলে সে সেখানকার নাগরিকতাও পেতে পারে।)

  4. ঘ)

    ঘটনা-২ এ জন এফ কেনেডি রাষ্ট্রের কাছে কিছু চাওয়ার আগে রাষ্ট্রের প্রতি নিজের কর্তব্য পালনের উপর বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। আমি এ বক্তব্য সমর্থন করি।

    ১. অধিকার ও কর্তব্য অবিচ্ছেদ্য: অধিকার ভোগ করতে হলে কর্তব্য পালন করতে হয়। সবাই শুধু অধিকার দাবি করলে রাষ্ট্র চলতে পারে না।
    ২. রাষ্ট্রের উন্নয়ন: নাগরিকেরা সততার সাথে কর দেওয়া, আইন মানা, ভোট দেওয়া ও দেশের সম্পদ রক্ষার মতো কর্তব্য পালন করলে রাষ্ট্র শক্তিশালী হয় এবং সবার কল্যাণ হয়।
    ৩. সুনাগরিক তৈরি: কর্তব্যপরায়ণতা সুনাগরিকের গুরুত্বপূর্ণ গুণ। এতে দেশপ্রেম ও দায়িত্ববোধ বাড়ে।
    ৪. অধিকারের নিশ্চয়তা: সকলে কর্তব্য পালন করলে সবার অধিকার সুরক্ষিত থাকে।

    সুতরাং, কেনেডির বক্তব্য যৌক্তিক এবং নাগরিকের উচিত কর্তব্য পালনকে গুরুত্ব দেওয়া।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন