হিন্দু ধর্ম • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০১৯
হিন্দু ধর্ম প্রশ্ন
- ক)(1)
শ্বাস-প্রশ্বাসের স্বাভাবিক গতিকে নিয়ন্ত্রণে এবং নিজ আয়ত্তে আনাকে কী বলে?
- খ)(2)
তপ' বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
দৃশ্যকল্প-১ এ উল্লিখিত আসনটির অনুশীলন পদ্ধতি বর্ণনা করো।
- ঘ)(4)
দৃশ্যকল্প-২ এ উল্লিখিত আসনটির প্রভাব বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
শ্বাস-প্রশ্বাসের স্বাভাবিক গতিকে নিয়ন্ত্রণ করে নিজ আয়ত্তে আনাকে প্রাণায়াম বলে।
- খ)
তপ হলো কোনো সংকল্পসিদ্ধির উদ্দেশ্যে কঠোর সাধনা। এ সাধনায় আত্মশুদ্ধি, আত্মশাসন ও আত্মসংযম প্রয়োজন। যোগে তপ বলতে ঈশ্বরের সঙ্গে অন্তিম মিলনের জন্য সচেতন চেষ্টাকে বোঝায়। এটি যোগের দ্বিতীয় ধাপ নিয়মের একটি অঙ্গ।
- গ)
দৃশ্যকল্প-১-এ উল্লিখিত আসনটি গরুড়াসন। এই আসনে দেহভঙ্গি গরুড় পাখির মতো হয় বলে এর নাম গরুড়াসন। চিত্রে একজন ব্যক্তি এক পায়ের উপর দাঁড়িয়ে অন্য পা দিয়ে পেঁচিয়ে এবং হাত দুটি একত্র করে আছেন, যা গরুড়াসনের ভঙ্গি।
অনুশীলন পদ্ধতি: প্রথমে দুই পা জোড়া করে সোজা হয়ে দাঁড়াতে হবে। এরপর ডান হাত কনুইয়ের কাছে ভেঙে বাঁ কনুইয়ের নিচ দিয়ে নিয়ে গিয়ে ডান হাতের তালু বাঁ হাতের তালুতে নমস্কারের ভঙ্গিতে রাখতে হবে। তারপর বাঁ পা মাটিতে রেখে ডান পা দিয়ে বাঁ পা পেঁচিয়ে ধরতে হবে। এ অবস্থায় স্বাভাবিকভাবে দম নিতে ও ছাড়তে হবে এবং ৩০ সেকেন্ড থাকতে হবে। এরপর হাত-পা বদল করে একইভাবে আসনটি করতে হবে। এভাবে মোট চারবার অভ্যাস করে শবাসনে বিশ্রাম নিতে হবে।
আসনটি ধীরে ও গুরুর নির্দেশনায় অনুশীলন করলে সঠিক ফল পাওয়া যায়।
- ঘ)
দৃশ্যকল্প-২-এ উল্লিখিত আসনটি অর্ধকূর্মাসন। 'কূর্ম' অর্থ কচ্ছপ; এই আসনে আসনকারীর দেহ কচ্ছপের পিঠের মতো হয় বলে এর নাম অর্ধকূর্মাসন। চিত্রে একজন ব্যক্তি হাঁটু গেড়ে বসে সামনে হাত প্রসারিত করে কপাল মাটিতে ঠেকিয়েছেন। নিয়মিত অনুশীলনে এই আসনের প্রভাব নিচে বিশ্লেষণ করা হলো।
১. পরিপাকতন্ত্রে প্রভাব: পেটের অভ্যন্তরীণ অংশগুলো সবল ও সক্রিয় হয় এবং যকৃৎ ভালো থাকে। অজীর্ণ, অম্ল, ক্ষুধামান্দ্য, কোষ্ঠকাঠিন্য ও আমাশয় দূর হয় এবং হজমশক্তি বাড়ে। পেটের বায়ুর প্রকোপও কমে।
২. দেহের উপর প্রভাব: শরীর শিথিল হয়, মেরুদণ্ড সতেজ থাকে এবং আসনকারী বেশি প্রাণশক্তি ও সুস্বাস্থ্য লাভ করে। পেট ও নিতম্বের চর্বি কমে, পেট ও উরুর পেশি সবল হয়। পায়ের পেশির ব্যথা, হাড়ের বাত ও কাঁধের পেশির ব্যথায় উপকার হয়। হাঁপানি ও ডায়াবেটিসেও উপকার পাওয়া যায়।
৩. মানসিক প্রভাব: মস্তিষ্ক শান্ত হয় এবং মন ধীর, স্থির ও শান্ত হয়। সুখ-দুঃখকে সমানভাবে গ্রহণ করার ক্ষমতা জন্মায়। ভাবাবেগ, ভয়-ভীতি ও ক্রোধ আলগা হয়।
৪. আধ্যাত্মিক প্রভাব: এটি আসনকারীকে ক্রমে দুঃখ-যন্ত্রণা থেকে মুক্ত করে, ভোগ-বিলাসের প্রতি উদাসীন করে এবং যোগসাধনায় মনোনিবেশের জন্য প্রস্তুত করে।
সুতরাং, অর্ধকূর্মাসন দেহ ও মনকে সুস্থ রাখে এবং যোগসাধনার জন্য উপযোগী করে তোলে; এ কারণে নিয়মিত অনুশীলন করা উচিত।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও