হিন্দু ধর্ম • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০২৩

হিন্দু ধর্ম প্রশ্ন

নিখিল বাবু একজন বড় ব্যবসায়ী। তিনি বছরের একটি নির্দিষ্ট দিনে হালখাতা অনুষ্ঠান করেন। এদিনে তার বাড়িতে পূজার আয়োজন করা হয়। এ উপলক্ষ্যে প্রসাদসহ বিভিন্ন রকম মিষ্টি খাওয়ারও ব্যবস্থা করা হয়। অন্যদিকে, তার বোন নমিতা দেবী কার্তিক মাসের অমাবস্যা তিথিতে ঈশ্বরের এক বিশেষ শক্তির পূজা করেন। এ উপলক্ষ্যে প্রদীপ জ্বালিয়ে চারদিক আলোকিত করা হয়। এ পূজায় সবাই মিলে খুব আনন্দ করে। পূজা শেষে সবার জন্য প্রসাদের ব্যবস্থা করা হয়।

  1. ক)

    পুণ্যস্থান কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    ধর্মাচার বলতে কী বোঝায়?

    (2)
  3. গ)

    নিখিল বাবু কোন ধর্মাচারটি পালন করেন? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    নমিতা দেবীর পূজার মূল উদ্দেশ্য পাঠের আলোকে বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    স্বয়ং ভগবান কিংবা তাঁর অবতারের আবির্ভাব স্থানকে এবং কোনো দেবালয়ের স্থানকে পুণ্যস্থান বলা হয়।

  2. খ)

    যে সকল আচার-আচরণ আমাদের জীবনকে সুন্দর ও মঙ্গলময় করে গড়ে তোলে, তাকে ধর্মাচার বলে। এগুলোকে লোকাচারও বলা হয়।
    জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত যেসব মাঙ্গলিক আচার-অনুষ্ঠান ধর্মনীতির সঙ্গে সম্পর্কিত, সেগুলোই ধর্মাচার।
    যেমন: সংক্রান্তি, গৃহপ্রবেশ, রাখীবন্ধন, ভাইফোঁটা, দীপাবলি, হাতেখড়ি ও নবান্ন।

  3. গ)

    নিখিল বাবু বছরের একটি নির্দিষ্ট দিনে হালখাতা করেন এবং পূজা ও মিষ্টি খাওয়ার আয়োজন করেন। এটি বর্ষবরণ ধর্মাচার।
    বাংলা সনের প্রথম দিন নতুন বছরকে বরণ করার মাধ্যমে এ উৎসব পালিত হয়। এদিন বিভিন্ন পূজা, মিষ্টি খাওয়া, ভাব বিনিময় ও হালখাতাসহ নানা অনুষ্ঠান হয়।
    এটি ধর্মীয় অনুভূতির পাশাপাশি সর্বজনীনতা পেয়েছে এবং বাঙালির অসাম্প্রদায়িক চেতনার মহা উৎসব।

  4. ঘ)

    নমিতা দেবী কার্তিক মাসের অমাবস্যা তিথিতে ঈশ্বরের বিশেষ শক্তির পূজা করেন এবং প্রদীপ জ্বালান। এটি কালীপূজা ও দীপাবলি। এর মূল উদ্দেশ্য নিচে বিশ্লেষণ করা হলো।
    ১. অশুভ শক্তির বিনাশ: দেবী কালী ঈশ্বরের বিশেষ শক্তি। তিনি অসুর বিনাশ করেন এবং পৃথিবীর অন্যায়-অত্যাচার দূর করার জন্য অশুভ শক্তিকে ধ্বংস করেন। পূজায় তাঁর কাছে এই মঙ্গল প্রার্থনা করা হয়।
    ২. অজ্ঞানতার অন্ধকার দূর করা: দীপাবলিতে প্রদীপ জ্বালিয়ে অন্ধকার দূর করা হয়। এটি মনের অজ্ঞানতার মোহান্ধকার দূর করার প্রতীক। কুসংস্কার পুড়িয়ে জ্ঞানের আলোয় বিশ্ব আলোকিত হোক, এটাই এর ব্রত।
    ৩. সামাজিক মিলন: সবাই মিলে আনন্দ করা ও প্রসাদ বিতরণে পারস্পরিক সম্প্রীতি ও ঐক্য বাড়ে।
    সুতরাং, নমিতা দেবীর পূজার মূল উদ্দেশ্য অশুভ শক্তি ও অজ্ঞানতার অন্ধকার দূর করে মঙ্গল ও জ্ঞানের আলো প্রতিষ্ঠা করা।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন