হিন্দু ধর্ম • Combined Board • সকল বোর্ড ২০১৭

হিন্দু ধর্ম প্রশ্ন

পলাশ কলেজের একজন ভালো ছাত্র। ক্লাসের পড়াশোনার পাশাপাশি সে বেদ অধ্যয়ন করে। হঠাৎ পলাশের মধ্যে পরিবর্তন আসে। তার কাছে মনে হয়, পৃথিবীর ভোগ-বিলাস এগুলো কিছুই নয়। মোক্ষলাভই মানুষের জীবনের একমাত্র উদ্দেশ্য। তখন সে মোক্ষলাভের উদ্দেশ্যে সন্ন্যাস জীবন গ্রহণ করে।

  1. ক)

    হিন্দুধর্মের অপর নাম কী?

    (1)
  2. খ)

    বৈদিক সাহিত্য বলতে কী বোঝায়?

    (2)
  3. গ)

    পলাশের পঠিত ধর্মগ্রন্থটির বিষয়বস্তু লেখ।

    (3)
  4. ঘ)

    পলাশের পঠিত ধর্মগ্রন্থ তার জীবনকে সুন্দর করবে'- কথাটির তাৎপর্য লেখ।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    হিন্দুধর্মের অপর নাম সনাতন ধর্ম।

  2. খ)

    বৈদিক সাহিত্য বলতে সাধারণত চার প্রকার ভিন্ন ধরনের অথচ পারস্পরিক সম্পর্কযুক্ত রচনার সমষ্টি বোঝায়। এগুলো হলো—১. মন্ত্র বা সংহিতা, ২. ব্রাহ্মণ, ৩. আরণ্যক ও ৪. উপনিষদ। এ রচনাসমষ্টিকে দুইটি কাণ্ডে ভাগ করা হয়েছে—কর্মকাণ্ড (মন্ত্র, যাগযজ্ঞ, অনুষ্ঠান ও আচার-নিয়ম) এবং জ্ঞানকাণ্ড (ঈশ্বর, ব্রহ্ম ও সৃষ্টিরহস্য সম্পর্কিত আলোচনা)।

  3. গ)

    পলাশের পঠিত ধর্মগ্রন্থটি হলো বেদ। বেদ হিন্দুদের আদি ধর্মগ্রন্থ। বেদ যে যুগে রচিত হয়েছে, তার নাম বৈদিক যুগ।

    বেদের কাঠামো : বেদের চারটি ভাগ—সংহিতা, ব্রাহ্মণ, আরণ্যক ও উপনিষদ। সংহিতা ও ব্রাহ্মণ নিয়ে কর্মকাণ্ড, আরণ্যক ও উপনিষদ নিয়ে জ্ঞানকাণ্ড।

    বিষয়বস্তু : বেদের সংহিতা অংশে ইন্দ্র, অগ্নি, সূর্য, বরুণ, উষা, রাত্রি প্রভৃতি দেব-দেবীর স্তব-স্তুতি রয়েছে। বেদমন্ত্র উচ্চারণ করে দেবগণের উদ্দেশে যাগযজ্ঞ করে অভীষ্ট লাভের প্রার্থনা করা হতো। কর্মকাণ্ডে যাগযজ্ঞ, অনুষ্ঠান ও আচার-নিয়মের নির্দেশনা আছে। জ্ঞানকাণ্ডে ঈশ্বর, ব্রহ্ম, সৃষ্টিকর্তা ও সৃষ্টিরহস্যের কথা আছে। বেদের কিছু মন্ত্রের বিষয় শ্রী (ধন-ধান্য, বল-বিক্রম, যশ), আবার কিছু মন্ত্রের বিষয় ধী (জ্ঞান ও প্রজ্ঞা), বুদ্ধি, জ্ঞানজ্যোতিঃ ও অমৃততত্ত্ব। এভাবে জাগতিক কল্যাণ ও পারমার্থিক মঙ্গল উভয়ের কথাই বেদে আছে। বেদের মাধ্যমে মানুষ ধর্ম, অর্থ, কাম ও মোক্ষ—এই চতুর্বর্গের সন্ধান লাভ করে।

    উদ্দীপকের সাথে সম্পর্ক : পলাশ বেদ অধ্যয়ন করে মোক্ষলাভকে জীবনের উদ্দেশ্য হিসেবে বেছে নিয়েছে। বেদের জ্ঞানকাণ্ডের ব্রহ্মবিদ্যা ও মোক্ষের আলোচনা তাকে এ উপলব্ধির দিকেই নিয়ে যায়।

  4. ঘ)

    ‘পলাশের পঠিত ধর্মগ্রন্থ তার জীবনকে সুন্দর করবে’—উক্তিটি যথার্থ। বেদ হিন্দুধর্মের মূল ভিত্তি; মনুসংহিতায় বলা হয়েছে, ‘বেদঃ অখিলধর্মমূলম্’ অর্থাৎ বেদ ধর্মের মূল।

    ১. ধর্মের লক্ষণ হিসেবে বেদ : মনুসংহিতা অনুযায়ী বেদ, স্মৃতি, সদাচার ও বিবেকের বাণী—এ চারটি ধর্মের বিশেষ লক্ষণ। বেদে বিশ্বাস রেখে জীবনে চললে মানুষ ন্যায় ও নৈতিকতার পথ খুঁজে পায়। পলাশের বেদ অধ্যয়ন তার জীবনকে সেই পথেই এগিয়ে নেবে।

    ২. চতুর্বর্গের সন্ধান : বেদ এক অখণ্ড জ্ঞানরাশি, যার দ্বারা মানুষ ধর্ম, অর্থ, কাম ও মোক্ষ লাভের পথ জানতে পারে। পলাশ যে মোক্ষকে জীবনের উদ্দেশ্য মনে করছে, সেই লক্ষ্যের পথ বেদ থেকেই সে জানতে পারবে।

    ৩. জ্ঞান ও চরিত্র গঠন : বেদের জ্ঞানকাণ্ডের অংশ উপনিষদ ব্রহ্মবিদ্যার শাস্ত্র। উপনিষদ শিক্ষা দেয়, জগতের সবকিছু ব্রহ্মময়, তাই কারও ক্ষতি করা নিজেরই ক্ষতি করা। এ শিক্ষা মানুষকে হিংসা ত্যাগ করে সবাইকে নিজের মতো করে দেখতে এবং পরস্পরকে সাহায্য করতে উদ্বুদ্ধ করে।

    ৪. জীবনবিমুখ নয়, পরিপূর্ণ জীবন : উপনিষদের শিক্ষা মানুষকে জীবনবিমুখ করে না, বরং জ্ঞান, কর্ম ও ভক্তির মাধ্যমে পরিপূর্ণ জীবনের কথা বলে। তাই পলাশ ভোগ-বিলাসকে তুচ্ছ মনে করলেও বেদের শিক্ষা তাকে সমাজ ও জীবনের কল্যাণের প্রতি দায়িত্বশীল হতেও শেখাবে।

    সুতরাং, বেদের শিক্ষা পলাশকে নৈতিকতা, জ্ঞান ও মানবকল্যাণের পথে পরিচালিত করে তার জীবনকে সত্যিই সুন্দর করবে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন