বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২৩
বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা প্রশ্ন
- ক)(1)
রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ দলিলকে কী বলে?
- খ)(2)
পোড়ামাটি নীতি কী? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
চিত্রে প্রদত্ত মহান নেতার নির্মম হত্যাকান্ডের বর্ণনা দাও।
- ঘ)(4)
বৈদেশিক সম্পর্ক স্থাপনে উত্ত মহান নেতার ভূমিকা মূল্যায়ন করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ দলিলকে সংবিধান বলে।
- খ)
পোড়ামাটি নীতি হলো শত্রুপক্ষের ক্ষতি করার জন্য তার সবকিছু ধ্বংস করে দেওয়ার কৌশল। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসররা এ নীতি অনুসরণ করে বাংলাদেশের গ্রামের পর গ্রাম, ঘরবাড়ি, ফসল, হাটবাজার ও স্থাপনায় আগুন ধরিয়ে দেয়। এর উদ্দেশ্য ছিল মানুষকে ভীত ও নিঃস্ব করে মুক্তিযুদ্ধের মনোবল ভেঙে দেওয়া।
- গ)
চিত্রে প্রদত্ত মহান নেতা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট ভোরে তিনি সপরিবারে নির্মমভাবে নিহত হন।
বঙ্গবন্ধু স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি। স্বাধীনতার মাত্র সাড়ে তিন বছর পর, ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট ভোরে সেনাবাহিনীর একটি বিপথগামী অংশ ঢাকার ধানমন্ডির ৩২ নম্বর সড়কে তাঁর বাসভবনে হামলা চালায়। তারা বঙ্গবন্ধুকে গুলি করে হত্যা করে।
শুধু বঙ্গবন্ধুই নন, ওই রাতে তাঁর স্ত্রী বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব, পুত্র শেখ কামাল, শেখ জামাল ও শিশুপুত্র শেখ রাসেল এবং নবপরিণীতা দুই পুত্রবধূকেও হত্যা করা হয়। একই ভোরে তাঁর আত্মীয়স্বজন ও ঘনিষ্ঠজন আবদুর রব সেরনিয়াবাত, শেখ ফজলুল হক মনিসহ আরও অনেকে নিহত হন। কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা তখন বিদেশে থাকায় প্রাণে বেঁচে যান।
এই হত্যাকাণ্ড ছিল বাঙালি জাতির ইতিহাসের এক কলঙ্কজনক অধ্যায়। এর মাধ্যমে স্বাধীনতার মূল নেতৃত্বকে নির্মূল করার চেষ্টা করা হয়। দিনটি জাতীয় শোক দিবস হিসেবে পালিত হয়।
- ঘ)
বৈদেশিক সম্পর্ক স্থাপনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও দূরদর্শী। যুদ্ধবিধ্বস্ত নবজাত রাষ্ট্রকে তিনি অল্প সময়ে বিশ্বসভায় পরিচিত ও মর্যাদাপূর্ণ আসনে প্রতিষ্ঠিত করেন।
স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের সামনে প্রধান চ্যালেঞ্জ ছিল বিশ্বের বিভিন্ন দেশের স্বীকৃতি ও সহযোগিতা অর্জন। বঙ্গবন্ধুর পররাষ্ট্রনীতির মূলমন্ত্র ছিল, সকলের প্রতি বন্ধুত্ব, কারও প্রতি বিদ্বেষ নয়।
১. স্বীকৃতি অর্জন: বঙ্গবন্ধুর কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় অল্প সময়ের মধ্যে বিশ্বের অধিকাংশ দেশ বাংলাদেশকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।
২. ভারতের সঙ্গে মৈত্রী: মুক্তিযুদ্ধে সহায়তাকারী ভারতের সঙ্গে ১৯৭২ সালে মৈত্রী চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এতে মিত্র দেশের সঙ্গে সম্পর্ক সুদৃঢ় হয়।
৩. আন্তর্জাতিক সংস্থায় অংশগ্রহণ: তাঁর নেতৃত্বে বাংলাদেশ কমনওয়েলথ, জোটনিরপেক্ষ আন্দোলন, ওআইসি ও জাতিসংঘের সদস্যপদ লাভ করে। ১৯৭৪ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে তিনি বাংলায় ভাষণ দিয়ে বাংলা ভাষাকে আন্তর্জাতিক মর্যাদা দেন।
৪. অর্থনৈতিক ও মানবিক সহায়তা: যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশের পুনর্গঠনের জন্য তিনি বন্ধুরাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক সংস্থার সহায়তা নিয়ে আসেন।
অবশ্য ঠান্ডা যুদ্ধের জটিল প্রেক্ষাপটে কিছু শক্তিধর রাষ্ট্র, বিশেষ করে মুক্তিযুদ্ধে বিপক্ষে থাকা দেশগুলোর স্বীকৃতি পেতে সময় লেগেছিল। তবু তাঁর ভারসাম্যপূর্ণ কূটনীতির ফলে সেই বাধা ক্রমে কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়েছিল।
সুতরাং বৈদেশিক সম্পর্ক স্থাপনে বঙ্গবন্ধুর ভূমিকা বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক পরিচিতি ও আত্মমর্যাদা প্রতিষ্ঠার ভিত্তি রচনা করেছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও