ইসলাম • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০২৫
ইসলাম প্রশ্ন
দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী সাবিলা মুসলমান হলেও হযরত ঈসা (আ.)-কে মহান আল্লাহর পুত্র মনে করে। অন্যদিকে, ৯ম শ্রেণির শিক্ষার্থী সাদিকা তার সহপাঠী ফারিহাকে সালাত আদায়ের জন্য আহ্বান করে। এতে ফারিহা সাদিকার ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে সালাত, সাওম ইত্যাদি বিশ্বাস করে না বলে পরিষ্কার জানিয়ে দেয়। বিষয়টি তার শ্রেণিশিক্ষক অবগত হয়ে বলেন, "ফারিহাকে তার এ মনোভাবের জন্য একদিন কঠিন পরিণতি ভোগ করতে হবে।"
- ক)(1)
আখিরাত কাকে বলে?
- খ)(2)
"আমাকে শাফায়াত (করার অধিকার) দেওয়া হয়েছে।" বাণীটি ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
সাবিলার বিশ্বাসে আকাইদের কোন বিষয়টি প্রকাশ পেয়েছে? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
ফারিহার মনোভাবের প্রেক্ষিতে শ্রেণিশিক্ষকের মন্তব্যের যথার্থতা নিরূপণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
মৃত্যুর পরবর্তী জীবন, অর্থাৎ কিয়ামত, পুনরুত্থান, হিসাব-নিকাশ ও জান্নাত-জাহান্নামসহ চিরস্থায়ী জীবনকে আখিরাত বলে।
- খ)
শাফায়াত অর্থ সুপারিশ। কিয়ামতের দিন আল্লাহর অনুমতিক্রমে রাসুল (স.) উম্মতের গুনাহগারদের জন্য সুপারিশ করবেন। হাদিসে তিনি বলেছেন, তাঁকে শাফায়াতের অধিকার দেওয়া হয়েছে। এটি আল্লাহ প্রদত্ত বিশেষ সম্মান এবং ইমানদারদের জন্য রহমতের বিষয়। আল্লাহর অনুমতি ছাড়া কেউ শাফায়াত করতে পারবে না।
- গ)
সাবিলার বিশ্বাসে শিরক প্রকাশ পেয়েছে।
শিরক হলো আল্লাহর সত্তা, গুণ বা ক্ষমতায় অন্য কাউকে অংশীদার করা। হযরত ঈসা (আ.) আল্লাহর একজন সম্মানিত নবী, আল্লাহর পুত্র নন। আল্লাহ কারও জনক বা সন্তান নন (সূরা আল-ইখলাস)। সাবিলা মুসলিম হয়েও ঈসা (আ.)-কে আল্লাহর পুত্র মনে করছে, যা তাওহিদের পরিপন্থী এবং শিরকের শামিল।
- ঘ)
ফারিহা সালাত ও সাওম বিশ্বাস করে না বলে জানিয়েছে। সালাত ও সাওম ইসলামের মৌলিক ফরজ ইবাদত। এগুলো অস্বীকার করা কুফর। শ্রেণিশিক্ষকের মন্তব্য যথার্থ।
১. আল্লাহ ও রাসুলের আদেশ অস্বীকার করা ইমানের পরিপন্থী; এতে ইমান নষ্ট হয়।
২. কুরআনে বলা হয়েছে, কাফিরদের জন্য পরকালে কঠিন শাস্তি অপেক্ষা করছে।
৩. তওবা না করে কুফর অবস্থায় মৃত্যু হলে চিরস্থায়ী জাহান্নামে থাকতে হবে।
৪. ফারিহা এখনও ফিরে আসার সুযোগ পাচ্ছে; আন্তরিক তওবা করলে আল্লাহ ক্ষমা করেন।সুতরাং, শিক্ষকের মন্তব্য কুরআন-হাদিসের আলোকে যথার্থ এবং ফারিহার উচিত দ্রুত তওবা করে ইমানে ফিরে আসা।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও