হিন্দু ধর্ম • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২০
হিন্দু ধর্ম প্রশ্ন
সোমা ফাল্গুনী পূর্ণিমার বিশেষ তিথিতে রঙের খেলায় মেতে উঠেছে। সকল গ্লানি ভুলে এ অনুষ্ঠান উপলক্ষ্যে ছোট-বড় সকলে গুড়া রং মাখামাখি করে আনন্দ করছে। অপরদিকে, রীপাদের বাড়ির সামনে মন্দিরের মাঠে এক ধর্মীয়, নাম সংকীর্তনের আয়োজন করেছে। ধর্মীয় নাম চলবে কয়েক প্রহরব্যাপী। বহু দূর-দূরান্ত থেকে সকল জাতিভেদ ভুলে সবাই ও উৎসবে অংশগ্রহণ করেছে। মন্দিরের মাঠ জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছে।
- ক)(1)
ধর্মাচার কাকে বলে?
- খ)(2)
কোন ধর্মাচারের মাধ্যমে মনের কালিমা দূর করা যায় তা ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
সোমা যে অনুষ্ঠানটি পালন করছে তা পাঠপুস্তকের আলোকে ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
রীপাদের বাড়ির সামনে মন্দিরের মাঝে যে অনুষ্ঠানটি পালিত হচ্ছে তার সামাজিক গুরুত্ব বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
জীবনকে সুন্দর ও কল্যাণময় করার জন্য যেসব আচার-আচরণ পালন করা হয়, তাকে ধর্মাচার বলে।
- খ)
দীপাবলি ধর্মাচারের মাধ্যমে মনের কালিমা দূর করা যায়।
শ্যামা বা কালীপূজার রাতে প্রদীপ জ্বালিয়ে এ উৎসব করা হয়। প্রদীপ জ্বালিয়ে বাইরের অন্ধকার দূর করার মতো সচেতনতার আলো জ্বালিয়ে মনের অজ্ঞানতা ও মোহান্ধকার দূর করাই এর প্রতীকী অর্থ। সকল কুসংস্কার পুড়িয়ে জ্ঞানের আলোয় বিশ্ব আলোকিত করাই এর ব্রত। - গ)
সোমা দোলযাত্রা অনুষ্ঠানটি পালন করছে।
ধারণা: ফাল্গুনী পূর্ণিমায় (দোলপূর্ণিমা) রাধা-কৃষ্ণকে দোলায় রেখে আবীর ও কুঙ্কুমে রাঙিয়ে পূজা করা হয়। এরপর সবাই একে অপরকে রং বা আবীর মাখিয়ে আনন্দ করে। আগের দিন ফাল্গুনী শুক্লা চতুর্দশীতে 'বুড়ির ঘর' বা 'মেড়া' পুড়িয়ে অমঙ্গল ধ্বংসের প্রতীকী অনুষ্ঠান হয়। এটি বৈষ্ণবীয় উৎসব, যাকে বসন্ত-উৎসবও বলা হয়। বৃন্দাবনে শ্রীকৃষ্ণের রাধিকা ও গোপীদের সাথে রং খেলা থেকে এর প্রবর্তন। বাংলার বাইরে এটি হোলি নামে পরিচিত।
উদ্দীপকের সাথে মিল: সোমা ফাল্গুনী পূর্ণিমার বিশেষ তিথিতে রঙের খেলায় মেতেছে। সকল গ্লানি ভুলে ছোট-বড় সবাই গুড়া রং মাখামাখি করছে। এ বৈশিষ্ট্যগুলো দোলযাত্রার সাথে মেলে।
অতএব, সোমার পালিত অনুষ্ঠানটি দোলযাত্রা।
- ঘ)
রীপাদের মন্দিরের মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানটি হলো নামযজ্ঞ। এর সামাজিক গুরুত্ব বিশ্লেষণ করা হলো।
নামযজ্ঞে বিভিন্ন সুরে, ছন্দে ও তালে শ্রীকৃষ্ণ ও শ্রীরামচন্দ্রের নাম কীর্তন করা হয়। স্থান, সময় ও আয়োজনের পরিধি অনুযায়ী এটি কয়েক প্রহরব্যাপী (তিন ঘণ্টায় এক প্রহর) চলে। হিন্দুরা বিশ্বাস করেন, শ্রীহরির নাম নিলে বা শুনলে পুণ্য লাভ হয় এবং দুঃখ-যন্ত্রণা থেকে মুক্তি মেলে।
১. ভেদাভেদ দূর করা: উদ্দীপকে দেখা যায়, সকল জাতিভেদ ভুলে সবাই অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছে। নামযজ্ঞে সবাই একাত্ম হয়ে যায়, ফলে সমাজে উঁচু-নিচু ভেদাভেদ কমে।
২. মিলনমেলা: দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ আসায় মন্দিরের মাঠ জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছে। নামযজ্ঞ এভাবে মানুষের মিলনমেলায় পরিণত হয়।
৩. সামাজিক বন্ধন: একত্রে কীর্তন ও প্রার্থনার মাধ্যমে মানুষের পারস্পরিক সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ হয় এবং সামাজিক বন্ধন সুদৃঢ় হয়।
৪. নৈতিক ও মানসিক উন্নয়ন: হরিনাম কীর্তনে মন পবিত্র হয় এবং মানুষ ভদ্র, নম্র ও বিনয়ী হয়, যা সমাজে শান্তি ও সম্প্রীতি বাড়ায়।সুতরাং, নামযজ্ঞ মানুষকে ধর্মীয় চেতনায় উদ্বুদ্ধ করার পাশাপাশি সমাজে ঐক্য, সাম্য ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও