বাংলা ১ম পত্র • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০২৪
বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন
নয়ন সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হলে ঢাকার অ্যাপোলো হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। একমাত্র ছেলে নয়নের এমন অবস্থায় মা দিশাহারা। তিনি নামাজ পড়ে ছেলের সুস্থতার জন্য আল্লাহর কাছে মোনাজাত করেন। রোজা মানত করেন, জানের বদলে জান হিসেবে গোরু মানত করেন। অসুস্থ নয়নকে দেখতে নানা রকম ফলমূল নিয়ে আত্মীয়স্বজন হাসপাতালে ভিড় জমায়।
- ক)(1)
ফোঁটায় ফোঁটায় কী ঝরছে?
- খ)(2)
'সম্মুখে তার ঘোর কুদ্ধটি মহাকাল রাত পাতা।'- বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
- গ)(3)
উদ্দীপকের সাথে 'পল্লিজননী' কবিতার বৈসাদৃশ্য ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
“উদ্দীপকটি 'পল্লিজননী' কবিতার খণ্ডচিত্র মাত্র, পূর্ণরূপ নয়।"- বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
কবিতায় পল্লিজননীর চোখ থেকে অশ্রু ফোঁটায় ফোঁটায় ঝরছে।
- খ)
এই চরণ দ্বারা অসুস্থ সন্তানকে ঘিরে মায়ের ভয়ংকর আশঙ্কার কথা বোঝানো হয়েছে। 'কুদ্ধটি' অর্থাৎ ঘন কুয়াশার মতো অন্ধকার রাত মৃত্যুর ছায়া ও অনিশ্চয়তার প্রতীক। সন্তানের জীবন বিপন্ন হওয়ার আশঙ্কায় মায়ের সামনে যেন সীমাহীন অন্ধকার নেমে এসেছে।
- গ)
উদ্দীপকে নয়ন দুর্ঘটনায় আহত হয়ে ঢাকার অ্যাপোলো হাসপাতালে চিকিৎসা পাচ্ছে। মা নামাজ পড়ে মোনাজাত করেন এবং রোজা ও গোরু মানত করেন। আত্মীয়স্বজনও ফলমূল নিয়ে দেখতে আসে। অর্থাৎ এখানে উন্নত চিকিৎসা ও সামাজিক সহায়তা বিদ্যমান।
'পল্লিজননী' কবিতার মা অসুস্থ সন্তানকে নিয়ে গ্রামীণ অভাবের মধ্যে আছেন। সেখানে আধুনিক চিকিৎসার সুযোগ ও সহায়তার ছবি নেই; মা প্রায় নিঃসহায় হয়ে আকুল প্রার্থনা ও উদ্বেগে সময় কাটান। এই অবস্থানগত পার্থক্যই উদ্দীপক ও কবিতার বৈসাদৃশ্য।
- ঘ)
উদ্দীপকে সন্তানের অসুস্থতায় মায়ের ব্যাকুলতা ও প্রার্থনার দিকটি এসেছে। এটি 'পল্লিজননী' কবিতার একটি অংশের সঙ্গে মেলে, কিন্তু কবিতার পূর্ণ রূপ এতে নেই। মন্তব্যটি যথার্থ।
১. কবিতায় পল্লিমায়ের অসীম মাতৃস্নেহ, রাতের পর রাত জেগে সেবা ও ত্যাগের চিত্র আছে; উদ্দীপকে শুধু মানত ও মোনাজাতের কথা আছে।
২. কবিতায় পল্লির গরিব পরিবেশ, মায়ের অসহায়তা ও মৃত্যুভয়ের তীব্র বর্ণনা আছে; উদ্দীপকে হাসপাতালে চিকিৎসার সুযোগ আছে বলে অসহায়তা এত গভীর নয়।
৩. কবিতার আবেদন সর্বজনীন মাতৃহৃদয়ের বেদনা; উদ্দীপকে তা সীমিত পরিসরে এসেছে।সুতরাং, উদ্দীপকটি 'পল্লিজননী' কবিতার খণ্ডচিত্র মাত্র।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও