হিন্দু ধর্ম • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০২৪

হিন্দু ধর্ম প্রশ্ন

অজয় বাবু পরিবারের প্রতি তার দায়িত্ব নিষ্ঠার সাথে পালন করেন। সমাজে পাঠশালা ও হাসপাতাল নির্মাণে সহায়তা করেন। তার বড় ভাই গোপাল বাবু পরিবার পরিজন সবকিছু ত্যাগ করে সঙ্গীহীন জীবনযাপন করেন এবং একমাত্র ঠাকুরের সাধনায় দেবগৃহে সময় অতিবাহিত করেন।

  1. ক)

    কর্মযোগ কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    কোন পদ্ধতিতে শ্বাস-প্রশ্বাসের স্বাভাবিক গতি নিয়ন্ত্রিত হয়? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    অজয় বাবুর কর্মের ধরন পাঠ্যবইয়ের আলোকে ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    গোপাল বাবু কি ধর্ম নির্দেশিত পথে হাঁটছেন? তোমার উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    ফলের আকাঙ্ক্ষা ত্যাগ করে ঈশ্বরের নিয়োজিত ব্যক্তি হিসেবে কর্তব্য কর্ম সম্পাদন করাকে কর্মযোগ বলে।

  2. খ)

    প্রাণায়াম পদ্ধতিতে শ্বাস-প্রশ্বাসের স্বাভাবিক গতি নিয়ন্ত্রিত হয়। এটি অষ্টাঙ্গ যোগের চতুর্থ অঙ্গ। এ পদ্ধতিতে রেচক (শ্বাসত্যাগ), পূরক (শ্বাসগ্রহণ) ও কুম্ভক (শ্বাসধারণ) এই তিন প্রক্রিয়ায় ধীরে, গভীরভাবে ও ছন্দোবদ্ধভাবে শ্বাস নেওয়া হয়।

    এতে শ্বসনতন্ত্র বলিষ্ঠ হয়, স্নায়ুতন্ত্র শান্ত থাকে এবং কামনা-বাসনা হ্রাস পায়। সদ্গুরুর তত্ত্বাবধানে এটি অনুশীলন করা উচিত।

  3. গ)

    অজয় বাবুর কর্মের ধরন গার্হস্থ্য আশ্রমের কর্ম, যা পারিবারিক ও সামাজিক কর্তব্যের সমন্বয়।

    গার্হস্থ্য আশ্রমের কর্মের ধারণা: চতুরাশ্রমের দ্বিতীয় আশ্রম গার্হস্থ্য। এ আশ্রমে মানুষ সংসারধর্ম পালন করে, পরিবারের ভরণ-পোষণ করে এবং পিতৃযজ্ঞ, দেবযজ্ঞ, ভূতযজ্ঞ, নৃযজ্ঞ ও ঋষিযজ্ঞ পালন করে। সমাজের কাছ থেকে নানা কিছু পাওয়ায় মানুষ মঠ, মন্দির, বিদ্যালয় ও চিকিৎসালয় স্থাপনের মাধ্যমে সেবাধর্ম অনুশীলন করে। এভাবে সমাজের প্রতি কর্তব্য পালনও গার্হস্থ্য আশ্রমের কর্ম।

    উদ্দীপকের সঙ্গে সম্পর্ক: অজয় বাবু পরিবারের প্রতি দায়িত্ব নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করেন, যা পিতৃযজ্ঞ ও পারিবারিক কর্তব্যের পরিচয়। তিনি সমাজে পাঠশালা ও হাসপাতাল নির্মাণে সহায়তা করেন, যা সেবাধর্মের উদাহরণ। এই কাজ ফলের আশা ছাড়া কর্তব্যবোধে করলে তা নিষ্কাম কর্ম বা কর্মযোগে পরিণত হয়।

    অতএব, অজয় বাবুর কর্ম গার্হস্থ্য আশ্রমের কর্তব্যপালনমূলক কর্ম।

  4. ঘ)

    হ্যাঁ, গোপাল বাবু ধর্ম নির্দেশিত পথেই হাঁটছেন। পরিবার ত্যাগ করে সঙ্গীহীন জীবন ও একমাত্র ঠাকুরের সাধনা সন্ন্যাস আশ্রমের বৈশিষ্ট্য।

    সন্ন্যাস আশ্রমের ধারণা: চতুর্থ আশ্রম সন্ন্যাস, যার সময় পঁচাত্তর থেকে একশ বছর। সন্ন্যাস অর্থ সম্পূর্ণ ত্যাগ। সন্ন্যাসী একাকী জীবনযাপন করেন, স্ত্রীও তাঁর সঙ্গে থাকেন না। তিনি জাগতিক কর্ম ছেড়ে ঈশ্বর চিন্তায় মগ্ন থাকেন এবং মন্দির বা দেবালয়ে ক্ষণকাল আশ্রয় নেন।

    ১. সঙ্গীহীন জীবন: গোপাল বাবু পরিবার-পরিজন সবকিছু ত্যাগ করে একাকী জীবন যাপন করেন। এটি সন্ন্যাসীর নিয়মের সঙ্গে মেলে।

    ২. ঈশ্বরকেন্দ্রিক সাধনা: তিনি একমাত্র ঠাকুরের সাধনায় দেবগৃহে সময় কাটান। শাস্ত্রে সন্ন্যাসীকে ঈশ্বরচিন্তায় এক মনে এক ধ্যানে মগ্ন থাকতে বলা হয়েছে এবং দেবালয়ে থাকার অনুমতি আছে।

    ৩. গীতার নির্দেশ: গীতা (৬/১) অনুসারে কর্মফলের বাসনা না করে যিনি কর্তব্য করেন, তিনিই সন্ন্যাসী। শুধু কর্মত্যাগই সন্ন্যাস নয়। তাই গোপাল বাবুর উচিত ভোগাসক্তি ও ফলাসক্তি সম্পূর্ণ ত্যাগ করা।

    ৪. সতর্কতা: তবে সন্ন্যাসের নির্ধারিত বয়স পঁচাত্তরের পর এবং কলিযুগে পরিবার ছেড়ে সন্ন্যাসে উৎসাহিত করা হয় না, গার্হস্থ্য জীবনই শ্রেয়। যেহেতু তাঁর ছোট ভাই অজয় বাবু পরিবারের দায়িত্ব পালন করছেন, তাঁর সন্ন্যাস শাস্ত্রসম্মত হতে পারে।

    সুতরাং, উপযুক্ত বয়স ও নিষ্কাম মনোভাব থাকলে গোপাল বাবু ধর্ম নির্দেশিত সন্ন্যাসের পথেই হাঁটছেন।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন