পৌরনীতি ও নাগরিকতা • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০২৩

পৌরনীতি ও নাগরিকতা প্রশ্ন

আলতাফ সাহেব বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়ায় থাকাকালীন সময়ে দেশে দেশে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর হাত থেকে দেশকে মুক্ত করার জন্যে তাঁর সহপাঠীদের সাথে সুসংগঠিত হয়ে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। যুদ্ধে তাদের অনেকেই শহিদ হন।

  1. ক)

    বাংলাদেশের সরকার প্রধান কে?

    (1)
  2. খ)

    ৭ মার্চের ভাষণের মূল বক্তব্য লেখো।

    (2)
  3. গ)

    আলতাফ সাহেব ও তাঁর সহপাঠীরা মুক্তিযুদ্ধে কাদের প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন এবং তাদের অবদান ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    'আলতাফ সাহেব ও তাঁর সহপাঠীরা এদেশের শ্রেষ্ঠ সন্তান' উদ্দীপকের আলোকে বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    বাংলাদেশের সরকার প্রধান প্রধানমন্ত্রী।

  2. খ)

    ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এই ভাষণে বাঙালির মুক্তি ও স্বাধীনতার সংগ্রামের ডাক দেন। তিনি সামরিক আইন প্রত্যাহার, সেনাবাহিনীকে ব্যারাকে ফেরত নেওয়া, গণহত্যার তদন্ত এবং নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের দাবি জানান। তিনি ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তুলে যার যা আছে তা নিয়ে শত্রুর মোকাবিলা করার আহ্বান জানান। ভাষণের মূল কথা ছিল- "এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।"

  3. গ)

    উদ্দীপকের আলতাফ সাহেব ও তাঁর সহপাঠীরা মুক্তিযুদ্ধে ছাত্রসমাজের প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন।

    মুক্তিযুদ্ধে ছাত্রসমাজের অবদান ছিল গুরুত্বপূর্ণ-
    ১. সংগঠিত হওয়া: ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ছয় দফা ও ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানে ছাত্ররা অগ্রণী ভূমিকা রেখেছিল। মুক্তিযুদ্ধেও তারা সংগঠিত হয়ে প্রতিরোধে নামে।
    ২. সরাসরি যুদ্ধে অংশগ্রহণ: বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের বহু ছাত্র প্রশিক্ষণ নিয়ে মুক্তিবাহিনীতে যোগ দিয়ে গেরিলা ও সম্মুখ যুদ্ধে অংশ নেয়।
    ৩. আত্মত্যাগ: আলতাফ সাহেবের সহপাঠীদের মতো অনেক ছাত্র যুদ্ধে শহিদ হয়ে স্বাধীনতার পথ সুগম করেছে।

  4. ঘ)

    আমি মনে করি আলতাফ সাহেব ও তাঁর সহপাঠীরা এদেশের শ্রেষ্ঠ সন্তান। উদ্দীপকে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার সময় মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে তাঁরা নিজেদের ভবিষ্যৎ ও নিরাপত্তার কথা না ভেবে দেশকে হানাদার বাহিনীর হাত থেকে মুক্ত করতে যুদ্ধে যোগ দেন।

    ১. দেশপ্রেম: তাঁরা দেশের স্বাধীনতাকে ব্যক্তিগত সুখ ও জীবনের চেয়ে বড় করে দেখেছেন। এটি প্রকৃত দেশপ্রেমের পরিচয়।
    ২. সংগঠিত উদ্যোগ: সহপাঠীদের সাথে সুসংগঠিত হয়ে যুদ্ধে অংশ নেওয়া তাঁদের নেতৃত্ব, শৃঙ্খলা ও ঐক্যের পরিচয় দেয়।
    ৩. আত্মত্যাগ: তাঁদের অনেকেই শহিদ হয়েছেন। দেশের জন্য জীবন উৎসর্গ করাই সর্বোচ্চ ত্যাগ, যার বিনিময়ে আমরা স্বাধীন বাংলাদেশ পেয়েছি।

    সুতরাং, আলতাফ সাহেব ও তাঁর সহপাঠীরা দেশপ্রেম ও আত্মত্যাগের কারণে এদেশের শ্রেষ্ঠ সন্তান।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন