কৃষিশিক্ষা • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০২৩
কৃষিশিক্ষা প্রশ্ন
সুজন মিয়া কিছু জমিতে ভুট্টার চাষ করেন। প্রতিদিন তার খামারের গরুগুলোকে তাজা ঘাসের পাশাপাশি ভূট্টার পাতা খেতে দেন। এতে করে তিনি আশানুরূপ উৎপাদন পাচ্ছেন। কিন্তু চাহিদার তুলনায় ঘাস উৎপাদন বেশি হওয়ায় অতিরিক্ত ঘাস ও ভূট্টার গাছগুলো স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শে সংরক্ষণ করেন।
- ক)(1)
সম্পূরক খাদ্য কাকে বলে?
- খ)(2)
ফসল উৎপাদনের জন্য জমি প্রস্তুতির গুরুত্ব ব্যাখ্যা করো ।
- গ)(3)
সুজন মিয়ার গরুর খাদ্য সংরক্ষণ পদ্ধতিটির বর্ণনা দাও।
- ঘ)(4)
বাংলাদেশের জলবায়ুর প্রেক্ষাপটে কৃষক সুজন মিয়ার গৃহীত কার্যক্রমটি মূল্যায়ন করো ।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
প্রধান বা মূল খাদ্যের পাশাপাশি পুষ্টির ঘাটতি পূরণের জন্য প্রাণীকে যে অতিরিক্ত খাদ্য দেওয়া হয়, তাকে সম্পূরক খাদ্য বলে।
- খ)
জমি প্রস্তুতি ফসল উৎপাদনের প্রথম ও গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। ভালোভাবে চাষ ও মই দিলে মাটি ঝুরঝুরে হয় এবং বীজ সহজে অঙ্কুরিত হয়। এতে আগাছা ও পোকামাকড় কমে, মাটিতে বাতাস চলাচল ও পানি ধারণক্ষমতা বাড়ে। ফলে ফসলের ফলন ভালো হয়।
- গ)
সুজন মিয়া অতিরিক্ত ঘাস ও ভুট্টার গাছ সাইলেজ পদ্ধতিতে সংরক্ষণ করেছেন। এর পদ্ধতি নিম্নরূপ:
১. ভুট্টা ও ঘাস কেটে ছোট ছোট টুকরা করা হয়।
২. উঁচু ও শুকনো স্থানে গর্ত বা সাইলো তৈরি করে তার তলায় ও দেয়ালে পলিথিন বিছানো হয়।
৩. কাটা ঘাস স্তরে স্তরে দিয়ে চেপে বসানো হয় যেন বাতাস না থাকে। প্রয়োজনে গুড় মেশানো যায়।
৪. উপরে পলিথিন ও মাটি দিয়ে বায়ুরোধী করে বন্ধ করা হয় এবং প্রায় ৪০-৪৫ দিন পর খাওয়ানোর উপযোগী হয়। - ঘ)
সুজন মিয়ার সাইলেজ তৈরির কার্যক্রমটি বাংলাদেশের জলবায়ুর প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত যুক্তিযুক্ত।
মূল্যায়ন:
১. মৌসুমি পার্থক্য: বর্ষা ও শরৎকালে ঘাস প্রচুর জন্মায়, কিন্তু শীত ও খরা মৌসুমে ঘাসের অভাব দেখা দেয়। সংরক্ষিত সাইলেজ তখন গরুর খাদ্যের চাহিদা মেটায়।
২. বন্যা ও দুর্যোগ: বন্যার সময় চারণভূমি ডুবে গেলে সংরক্ষিত খাদ্য কাজে আসে।
৩. অর্থনৈতিক সুবিধা: অতিরিক্ত ঘাস নষ্ট হয় না, ফলে অপচয় রোধ হয় এবং সারা বছর কম খরচে দুধ ও মাংস উৎপাদন বজায় রাখা যায়।সুতরাং, জলবায়ুর অনিশ্চয়তা মোকাবিলায় সাইলেজ সংরক্ষণ একটি কার্যকর ও লাভজনক পদক্ষেপ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও