পৌরনীতি ও নাগরিকতা • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০২৩
পৌরনীতি ও নাগরিকতা প্রশ্ন
সামিদ নবম শ্রেণির মানবিক শাখার একজন ছাত্র। তার একটি পাঠ্যপুস্তকে মানুষের আচার-আচরণ, দায়িত্ব-কর্তব্য, অধিকার রাষ্ট্র ও সংবিধান ইত্যাদি নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। বিষয়টি অধ্যয়নের মাধ্যমে তার মধ্যে নাগরিক সচেতনতাবোধ জেগে উঠে। সে আরো উপলব্ধি করে যে, বিভিন্ন নাগরিক সমস্যার সমাধান বিষয়টির মধ্যে নিহিত।
- ক)(1)
সার্বভৌমত্ব কাকে বলে?
- খ)(2)
খুলনা রাষ্ট্র নয় কেন? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে যে পাঠ্যপুস্তকের কথা বলা হয়েছে, তার উৎপত্তিগত দিক ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
'উদ্দীপকে উল্লিখিত বিষয়টি নাগরিক সমস্যার সমাধানে সহায়ক'- তুমি কি একমত? যুক্তি দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
সার্বভৌমত্ব হলো রাষ্ট্রের সেই চরম, অবিভাজ্য ও সর্বোচ্চ ক্ষমতা, যার মাধ্যমে রাষ্ট্র অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক ক্ষেত্রে যেকোনো আইন প্রণয়ন ও কার্যকর করতে পারে।
- খ)
খুলনা একটি বিভাগ ও শহর মাত্র, রাষ্ট্র নয়। রাষ্ট্র গঠনের চারটি অপরিহার্য উপাদান হলো জনসমষ্টি, নির্দিষ্ট ভূখণ্ড, সরকার ও সার্বভৌমত্ব।
খুলনার জনসমষ্টি ও ভূখণ্ড থাকলেও তার নিজস্ব সার্বভৌম ক্ষমতা নেই। খুলনা বাংলাদেশ সরকারের অধীনে পরিচালিত হয় এবং বাংলাদেশের আইন মেনে চলে। তাই সার্বভৌমত্ব না থাকায় খুলনা রাষ্ট্র নয়।
- গ)
উদ্দীপকে সামিদের পাঠ্যপুস্তকটি হলো পৌরনীতি ও নাগরিকতা, যেখানে আচার-আচরণ, দায়িত্ব-কর্তব্য, অধিকার, রাষ্ট্র ও সংবিধান আলোচিত হয়েছে।
উৎপত্তিগত দিক: পৌরনীতি ও নাগরিকতার ইংরেজি প্রতিশব্দ Civics। Civics শব্দটি ল্যাটিন শব্দ Civis (সিভিস) ও Civitas (সিভিটাস) থেকে এসেছে। Civis অর্থ নাগরিক এবং Civitas অর্থ নগররাষ্ট্র। প্রাচীন গ্রিসে নগররাষ্ট্রকে বলা হতো পোলিস (Polis)। নগররাষ্ট্রের অধিবাসীরা তখন নাগরিক বলে পরিচিত ছিল এবং তাদের অধিকার, কর্তব্য ও রাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা থেকেই এই বিষয়ের সূচনা। সুতরাং নগররাষ্ট্রের নাগরিকদের নিয়ে আলোচনার মধ্য দিয়েই পৌরনীতি ও নাগরিকতা বিষয়টির উৎপত্তি।
- ঘ)
হ্যাঁ, আমি একমত। উদ্দীপকের বিষয়টি হলো পৌরনীতি ও নাগরিকতা, যা নাগরিক সমস্যা সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
১. অধিকার ও কর্তব্য সম্পর্কে সচেতনতা: এই বিষয় পাঠ করে নাগরিকরা নিজেদের অধিকার ও কর্তব্য জানতে পারে। ফলে তারা অন্যের অধিকারে হস্তক্ষেপ না করে দায়িত্ব পালনে আগ্রহী হয়।
২. সামাজিক সমস্যা মোকাবিলা: বাল্যবিবাহ, নিরক্ষরতা, দারিদ্র্য, জনসংখ্যা বৃদ্ধি ইত্যাদি সমস্যার কারণ ও প্রতিকার সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।
৩. রাষ্ট্র ও সরকার সম্পর্কে জ্ঞান: রাষ্ট্র, সরকার, আইন ও সংবিধান সম্পর্কে জেনে নাগরিকরা সুষ্ঠু ভোটাধিকার প্রয়োগ করে যোগ্য প্রতিনিধি নির্বাচন করতে পারে।
৪. নৈতিক গুণাবলির বিকাশ: সততা, শৃঙ্খলা, সহনশীলতা ও দেশপ্রেমের মতো গুণ অর্জনে এই বিষয় সহায়তা করে।সুতরাং, পৌরনীতি ও নাগরিকতা নাগরিকদের সচেতন ও দায়িত্বশীল করে তোলে এবং নাগরিক সমস্যা সমাধানে সহায়ক।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও