ইসলাম • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০২৪

ইসলাম প্রশ্ন

সোহেল সাহেব একজন শিক্ষক। উচ্চতর প্রশিক্ষণের জন্য তিনি বিদেশে গমন করেন। বিদেশে অনেক সুযোগ-সুবিধা থাকা সত্ত্বেও তিনি দেশে ফিরে এসে পুনরায় শিক্ষকতায় নিয়োজিত হন। অপরদিকে তার বন্ধু রেজাউল সাহেব একজন শিল্পপতি। তিনি আল্লাহর ভয়ে যাবতীয় মন্দকাজ থেকে বিরত থাকেন এবং সব সময় ভালো কাজ করেন। তার এ আচরণ লক্ষ্য করে বিশিষ্ট ইসলামি চিন্তাবিদ জনাব আব্দুল হামিদ বলেন- “এরূপ চরিত্রের অধিকারীগণ আল্লাহর নিকট সবচেয়ে সম্মানিত ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত।”

  1. ক)

    আত্মশুদ্ধি কী?

    (1)
  2. খ)

    'পবিত্রতা ইমানের অর্ধেক'- উক্তিটি ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    সোহেল সাহেবের কর্মকাণ্ডে আখলাকে হামিদার কোন গুণটি ফুটে উঠেছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    আবদুল হামিদ সাহেবের মন্তব্যটি তোমার পাঠ্যবইয়ে উল্লিখিত আখলাকে হামিদার আলোকে বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    আত্মশুদ্ধি হলো নফস বা কুপ্রবৃত্তিকে পাপ ও মন্দ স্বভাব থেকে পবিত্র করে সৎগুণে সজ্জিত করা।

  2. খ)

    রাসুল (স) বলেছেন, পবিত্রতা ইমানের অর্ধেক। ইমানের অন্যতম দাবি হলো দেহ, মন ও পরিবেশকে পরিচ্ছন্ন রাখা। সালাত, কুরআন তিলাওয়াত ও অন্যান্য ইবাদত কবুলের জন্য পবিত্রতা শর্ত। অপরদিকে অন্তরের পবিত্রতা, অর্থাৎ শিরক, হিংসা ও অহংকার থেকে মুক্ত থাকাও ইমানের অংশ। এভাবে পবিত্রতা ইমানের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত।

  3. গ)

    সোহেল সাহেবের কর্মকাণ্ডে আখলাকে হামিদার দেশপ্রেম গুণটি ফুটে উঠেছে।

    ব্যাখ্যা: দেশের প্রতি ভালোবাসা ও দেশের কল্যাণে কাজ করার মনোভাবই দেশপ্রেম। রাসুল (স) মক্কার প্রতি গভীর ভালোবাসা প্রকাশ করেছেন। সোহেল সাহেব বিদেশে অনেক সুযোগ-সুবিধা থাকা সত্ত্বেও দেশে ফিরে এসেছেন এবং শিক্ষকতার মাধ্যমে দেশের শিক্ষার্থীদের সেবা করছেন। নিজের অর্জিত জ্ঞান ও প্রশিক্ষণ দেশের কাজে লাগানোই দেশপ্রেমের প্রকাশ। তাই তাঁর কাজে দেশপ্রেম প্রতিফলিত হয়েছে।

  4. ঘ)

    আবদুল হামিদ সাহেবের মন্তব্য, রেজাউল সাহেবের মতো চরিত্রের অধিকারীরা আল্লাহর কাছে সবচেয়ে সম্মানিত। রেজাউল সাহেবের আচরণ আখলাকে হামিদার তাকওয়া গুণের পরিচায়ক।

    ১. তাকওয়ার অর্থ: আল্লাহর ভয়ে সব মন্দ কাজ থেকে বিরত থেকে সৎকাজ করাকে তাকওয়া বলে। রেজাউল সাহেব আল্লাহর ভয়ে মন্দ কাজ থেকে বিরত থাকেন ও ভালো কাজ করেন।
    ২. কুরআনের সমর্থন: আল্লাহ বলেন, তোমাদের মধ্যে আল্লাহর কাছে সবচেয়ে সম্মানিত সে-ই, যে সবচেয়ে বেশি মুত্তাকি (সূরা হুজুরাত, ১৩)। তাই মন্তব্যটি সঠিক।
    ৩. পরিণাম: তাকওয়াবানদের জন্য আল্লাহ দুনিয়া ও আখিরাতে কল্যাণ, রিজিকে বরকত ও জান্নাতের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এছাড়া এমন ব্যক্তি সমাজে ন্যায়, সততা ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখে।

    সুতরাং, রেজাউল সাহেবের মতো মুত্তাকিরাই আল্লাহর কাছে সবচেয়ে সম্মানিত। আবদুল হামিদ সাহেবের মন্তব্য যথার্থ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন