হিন্দু ধর্ম • Combined Board • সকল বোর্ড ২০১৭

হিন্দু ধর্ম প্রশ্ন

অনিন্দ্য ৯ম শ্রেণির ছাত্র। মাঝে মাঝে সে মূত্রাশয় ও পেটের পীড়ায় কষ্ট পায়। এ থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য সে তার স্কুলের হিন্দুধর্মীয় শিক্ষকের কাছে পরামর্শ চাইলো। শিক্ষক মহাশয় অনিন্দ্যকে হলাসন অনুশীলনের পরামর্শ দিলেন। আসনটি অনুশীলনের মাধ্যমে অনিন্দ্য ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠলো।

  1. ক)

    ধ্যান শব্দের অর্থ কী?

    (1)
  2. খ)

    সমাধি বলতে কী বোঝায়?

    (2)
  3. গ)

    অনিন্দ্য কীভাবে উদ্দীপকের আসনটি অনুশীলন করে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের উক্ত আসনটি অনিন্দ্যের শরীরে কী ধরনের প্রভাব ফেলবে? বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    ধ্যান শব্দের অর্থ নিরবচ্ছিন্ন গভীর চিন্তা।

  2. খ)

    সমাধি অর্থ সম্পূর্ণরূপে ঈশ্বরে চিত্তসমর্পণ। এটি অষ্টাঙ্গ যোগের অষ্টম বা শেষ ধাপ।

    ধ্যানের অত্যুচ্চ শিখরে উঠে সাধক সমাধি লাভ করেন। তখন তিনি মনশূন্য, বুদ্ধিশূন্য ও অহংশূন্য হয়ে পরমাত্মার সাথে মিলিত হন, তাঁর 'আমি' বা 'আমার' জ্ঞান থাকে না। এ অবস্থায় সাধক প্রকৃত যোগ লাভ করেন।

  3. গ)

    অনিন্দ্যকে তার শিক্ষক হলাসন অনুশীলনের পরামর্শ দিয়েছেন। নিচে এর অনুশীলন পদ্ধতি ব্যাখ্যা করা হলো।

    হলাসনের ধারণা: 'হল' শব্দের অর্থ লাঙ্গল। এই আসনে দেহভঙ্গি অনেকটা লাঙ্গলের মতো দেখায় বলে একে হলাসন বলে। দেহ ও মনকে সুস্থ ও স্থির রাখার জন্য যে বিভিন্ন দেহভঙ্গি, তাকে আসন বলে এবং হলাসন এমন একটি আসন।

    অনুশীলন পদ্ধতি:
    ১. প্রথমে পা দুটো সোজা করে চিৎ হয়ে শুতে হবে। উরু, হাঁটু ও পায়ের পাতা জোড়া থাকবে এবং হাত দুটো সোজা করে শরীরের দুপাশে রাখতে হবে।
    ২. নিঃশ্বাস ছাড়তে ছাড়তে জোড়া ও সোজা পা দুটো আস্তে আস্তে উপরে তুলতে হবে এবং মাথার পেছনে যতদূর সম্ভব দূরে নিতে হবে, যেন পায়ের আঙুল মাটি স্পর্শ করে।
    ৩. শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক রেখে এ অবস্থায় ৩০ সেকেন্ড থাকতে হবে।
    ৪. এরপর আস্তে আস্তে পা নামিয়ে আগের অবস্থায় ফিরে এসে শবাসনে ৩০ সেকেন্ড বিশ্রাম নিতে হবে।
    ৫. এভাবে তিনবার অনুশীলন করতে হবে।

    উল্লেখ্য, আমাশয়, হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ থাকলে বা প্লীহা-যকৃৎ অস্বাভাবিক বড় হলে এ আসন করা উচিত নয়। অনিন্দ্যও এভাবে নিয়মিত অনুশীলন করেছে।

  4. ঘ)

    উদ্দীপকে অনিন্দ্য মূত্রাশয় ও পেটের পীড়ায় ভুগছিল এবং হলাসন অনুশীলনের মাধ্যমে ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠেছে। নিয়মিত হলাসন অনুশীলন তার শরীরে বহুমুখী ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

    আসন দেহকে দৃঢ়, নীরোগ ও লঘুভার করে এবং মানসিক ভারসাম্য সৃষ্টি করে। হলাসন তেমনই একটি আসন, যা শরীরের বিভিন্ন অংশে কাজ করে।

    ১. পরিপাকতন্ত্র ও পেটের রোগে প্রভাব: এ আসন কোষ্ঠবদ্ধতা, অজীর্ণ ও পেট ফাঁপা প্রভৃতি পেটের যাবতীয় রোগ দূর করে। তাই অনিন্দ্যের পেটের পীড়া কমবে।

    ২. অঙ্গের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি: হলাসন প্লীহা, যকৃৎ ও মূত্রাশয়ের কর্মক্ষমতা বাড়ায়। এ কারণে অনিন্দ্যের মূত্রাশয়ের সমস্যার উন্নতি ঘটবে।

    ৩. মেরুদণ্ড ও স্নায়ু: এটি মেরুদণ্ডকে সুস্থ ও নমনীয় রাখে, স্থিতিস্থাপকতা বজায় রাখে এবং মেরুদণ্ড সংলগ্ন স্নায়ুকেন্দ্র ও দুপাশের পেশিকে সতেজ ও সক্রিয় করে। পিঠের ব্যথা ও শক্ত কাঁধের সমস্যাতেও উপকার হয়।

    ৪. গ্রন্থি ও দেহগঠন: থাইরয়েড, প্যারাথাইরয়েড ও টনসিল গ্রন্থি সবল ও সক্রিয় হয়। পেট, কোমর ও নিতম্বের মেদ কমে দেহ সুঠাম হয়। এছাড়া ডায়াবেটিস, বাত বা সায়াটিকা প্রতিরোধেও সহায়ক বলা হয়েছে।

    সুতরাং, নিয়মিত ও সঠিক নিয়মে হলাসন অনুশীলন অনিন্দ্যের শরীরকে সুস্থ, সবল ও কর্মক্ষম করে তুলবে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন