গার্হস্থ্য বিজ্ঞান • Combined Board • সকল বোর্ড ২০১৭
গার্হস্থ্য বিজ্ঞান প্রশ্ন
মারুফ সাহেবের বয়স ৫৫ বছর। তিনি রাত জেগে টিভি দেখেন এবং সকালে দেরিতে ঘুম থেকে ওঠেন। তিনি সারাদিন অফিসে বসে কম্পিউটারে কাজ করেন। খাসির মাংস তার খুবই পছন্দ। ইদানিং তার শরীরটা খারাপ লাগছে। তাছাড়া তার শরীরে একটা ক্ষত সারছে না বলে তিনি ডাক্তারের শরণাপন্ন হন। ডাক্তার তাকে ইনসুলিন নিতে বলেন এবং নিয়মতান্ত্রিক জীবন যাপনের পরামর্শ দেন।
- ক)(1)
পরিপাক কী?
- খ)(2)
পরিপাকতন্ত্র বলতে কী বোঝ?
- গ)(3)
মারুফ সাহেবের অসুস্থতার কারণ ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
মারুফ সাহেবের জন্য ডাক্তারের পরামর্শটিই একমাত্র সুস্থতার উপায়— বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
যে প্রক্রিয়ায় গৃহীত জটিল খাদ্য পরিপাক রসের সাহায্যে ভেঙে সরল ও শোষণযোগ্য রূপে পরিণত হয়, তাকে পরিপাক বলে।
- খ)
খাদ্য গ্রহণ থেকে শুরু করে তা পরিপাক ও শোষণ করা এবং বর্জ্য বের করে দেওয়ার কাজে অংশগ্রহণকারী অঙ্গগুলোর সমষ্টিকে পরিপাকতন্ত্র বলে।
এর প্রধান অংশ হলো মুখগহ্বর, গলনালি (অন্ননালি), পাকস্থলী, ক্ষুদ্রান্ত্র ও বৃহদন্ত্র। এছাড়া লালাগ্রন্থি, যকৃৎ ও অগ্ন্যাশয় পরিপাকে সহায়ক অঙ্গ হিসেবে কাজ করে।
- গ)
মারুফ সাহেবের শরীরে ক্ষত সারছে না এবং ডাক্তার তাঁকে ইনসুলিন নিতে বলেছেন, অর্থাৎ তিনি ডায়াবেটিসে আক্রান্ত। তাঁর এই অসুস্থতার কারণগুলো উদ্দীপক অনুযায়ী নিচে দেওয়া হলো:
১. শারীরিক পরিশ্রমের অভাব: তিনি সারাদিন অফিসে বসে কম্পিউটারে কাজ করেন, ফলে শরীরের ক্যালরি খরচ কম হয় এবং ওজন বাড়ে।
২. অনিয়মিত জীবনযাত্রা: রাত জেগে টিভি দেখা ও সকালে দেরিতে ওঠার অভ্যাস শরীরের স্বাভাবিক ছন্দ নষ্ট করে।
৩. চর্বিযুক্ত খাবার: খাসির মাংস বেশি খাওয়ায় অতিরিক্ত চর্বি ও ক্যালরি গ্রহণ হয়।
৪. বয়স: ৫৫ বছর বয়সে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বেশি থাকে।
এসব কারণে অগ্ন্যাশয়ের ইনসুলিন উৎপাদন বা কাজ ব্যাহত হয়ে রক্তে গ্লুকোজ বেড়ে যায়।
- ঘ)
মারুফ সাহেবের জন্য ডাক্তারের ইনসুলিন নেওয়ার পরামর্শ গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু সেটিই সুস্থতার একমাত্র উপায় নয়। ডাক্তার নিজেও নিয়মতান্ত্রিক জীবনযাপনের পরামর্শ দিয়েছেন। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে একাধিক বিষয় একসাথে মানতে হয়:
১. ইনসুলিন ও চিকিৎসা: ডাক্তারের পরামর্শমতো নিয়মিত ইনসুলিন নেওয়া ও রক্তে গ্লুকোজ পরীক্ষা করা।
২. খাদ্য নিয়ন্ত্রণ: চিনি, মিষ্টি ও চর্বিযুক্ত খাবার (যেমন খাসির মাংস) কমিয়ে শাকসবজি, আঁশযুক্ত ও সুষম খাবার খাওয়া এবং নির্দিষ্ট সময়ে পরিমিত আহার করা।
৩. ব্যায়াম ও পরিশ্রম: নিয়মিত হাঁটা বা হালকা ব্যায়াম করা, যাতে ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে।
৪. নিয়মিত জীবনযাপন: রাত জাগা বন্ধ করে পর্যাপ্ত ঘুম ও সময়মতো ওঠা।
সুতরাং, শুধু ইনসুলিন নয়, সুষম খাদ্য, ব্যায়াম ও নিয়মিত জীবনযাপনসহ সবকিছু একসাথে মানলেই মারুফ সাহেব সুস্থ থাকতে পারবেন; তাই বক্তব্যটি যথার্থ নয়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও