ইসলাম • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০১৯

ইসলাম প্রশ্ন

আব্দুল কাদের জিলানি (র)-কে বাল্যকালে একদল ডাকাত ঘিরে তার নিকট কি আছে জানতে চায়। তিনি তার জামার আস্তিনে মায়ের দেওয়া ৪০ দিনারের কথা অকপটে স্বীকার করেন। অপরদিকে দ্বিতীয় খলিফা উমর (রা) রাতের আঁধারে ছদ্মবেশে ঘুরে বেড়াতে এসে শুনতে পান, বস্তির এক মহিলা উটের দুধে পানি মিশিয়ে বিক্রির প্রস্তাব করছে। মহিলার কন্যা বলেন, খাদ্যে ভেজাল মেশালে খলিফা গর্দান কেটে ফেলবেন। তিনি না দেখলেও একজন তো দেখছেন। অপরাধ গোপনে হোক আর প্রকাশ্যে হোক তাঁর চোখকে ফাঁকি দেওয়া সম্ভব নয়। অতঃপর দুধে পানি মিশানো থেকে মহিলা বিরত থাকেন।

  1. ক)

    'আখলাক' কী?

    (1)
  2. খ)

    'প্রতিশ্রুতি দিয়ে রক্ষা করা না হলে ধর্ম চলে যায়'- উক্তিটি ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    আব্দুল কাদের জিলানি (র)-এর চরিত্রে আখলাকে হামিদাহর কোন গুণটি ফুটে উঠেছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    মায়ের প্রতি মেয়ের উক্তিতে আখলাকে হামিদাহর যে গুণটি প্রকাশ পায় তার সুফল বর্ণনা করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    আখলাক শব্দের অর্থ চরিত্র বা স্বভাব। মানুষের আচার-আচরণ ও চরিত্রকে আখলাক বলে।

  2. খ)

    হাদিসে আছে, যার আমানত নেই তার ইমান নেই, আর যার প্রতিশ্রুতি রক্ষার অভ্যাস নেই তার দ্বীন নেই। প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করা মুনাফিকের লক্ষণ। যে ব্যক্তি ওয়াদা করে রক্ষা করে না, সে ইমানের গুরুত্বপূর্ণ গুণ হারায়। তাই বলা হয়েছে, প্রতিশ্রুতি রক্ষা না করলে ধর্ম চলে যায়।

  3. গ)

    আব্দুল কাদের জিলানি (র.)-এর চরিত্রে আখলাকে হামিদার সত্যবাদিতা গুণটি ফুটে উঠেছে।

    ডাকাতরা জিজ্ঞেস করলে তিনি নিরাপদ থাকার জন্য মিথ্যা বলতে পারতেন। কিন্তু মায়ের উপদেশ মেনে তিনি জামার আস্তিনে থাকা ৪০ দিনারের কথা অকপটে স্বীকার করেন। এটি তাঁর সত্যবাদিতার পরিচয়। সত্যবাদিতা আল্লাহর কাছে পছন্দনীয় গুণ। তাঁর সত্যবাদিতা দেখে ডাকাতদের মন গলে যায় এবং তারা তওবা করে।

  4. ঘ)

    মায়ের প্রতি মেয়ের উক্তিতে আখলাকে হামিদাহর তাকওয়া (আল্লাহভীতি) প্রকাশ পেয়েছে। মেয়ে বলেছে, খলিফা না দেখলেও আল্লাহ দেখছেন।

    সুফল:
    ১. তাকওয়াবান ব্যক্তি গোপনে-প্রকাশ্যে পাপ থেকে দূরে থাকে, ফলে সে সৎ ও আদর্শবান হয়।
    ২. কুরআনে বলা হয়েছে, যে আল্লাহকে ভয় করে, আল্লাহ তার জন্য মুক্তির পথ বের করে দেন এবং ধারণাতীত উৎস থেকে রিজিক দেন (সূরা আত-তালাক, আয়াত ২-৩)।
    ৩. সমাজ থেকে ভেজাল, দুর্নীতি ও প্রতারণা দূর হয়, ফলে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয়।
    ৪. পরকালে আল্লাহর কাছে সম্মান ও জান্নাত লাভ হয়।

    সুতরাং, তাকওয়া ব্যক্তি ও সমাজ উভয়ের জীবনে কল্যাণ বয়ে আনে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন