হিন্দু ধর্ম • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০২৪
হিন্দু ধর্ম প্রশ্ন
বিনয় ও বিধু দুই বন্ধু। এবার তারা দুজনেই এসএসসি পরীক্ষা দিচ্ছে। বিনয় তার ভালো ফলে বেশ আশাবাদী। সে মনে করে, যেহেতু সে পরিশ্রম করেছে সেহেতু সে ভালো ফলাফল করবে। অপরদিকে, বিধু মনে করে, বিশ্ব জগৎ ঈশ্বরের বিরাট কর্মক্ষেত্র। শিক্ষার্থী হিসেবে লেখাপড়া করা হচ্ছে তার কর্তব্য। সে নিষ্ঠার সাথে লেখাপড়া করে কর্মফল ঈশ্বরে সমর্পণ করেছে।
- ক)(1)
মানব জীবনের শ্রেষ্ঠ প্রাপ্তি কী?
- খ)(2)
ভক্তিযোগ বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
বিনয় যে কর্মে বিশ্বাসী তার সম্পর্কে বর্ণনা দাও।
- ঘ)(4)
'বিধুর কর্মই হচ্ছে যোগসাধনার ক্ষেত্রে কর্মযোগ'-- মূল্যায়ন করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
মানবজীবনের শ্রেষ্ঠ প্রাপ্তি ঈশ্বর বা মোক্ষলাভ।
- খ)
ভক্তিকে অবলম্বন করে যে ঈশ্বর আরাধনা, তাকে ভক্তিযোগ বলে। ভগবানে ঐকান্তিক প্রেম বা ভালোবাসাই ভক্তি।
এ পথে ভক্ত সাকার ও সগুণ ঈশ্বরের আরাধনা করেন এবং ভগবানের শ্রীচরণে আত্মসমর্পণ করেন। শরণাগতিই ভক্তিযোগের প্রধান কথা। ভক্তির মূলে থাকে গভীর বিশ্বাস, ঈশ্বর সর্বশক্তিমান ও করুণাময়।
- গ)
বিনয় যে কর্মে বিশ্বাসী, তা হলো সকাম কর্ম।
সকাম কর্মের ধারণা: যে কর্ম বিশেষ কোনো ফলের আশায় করা হয়, তাকে সকাম কর্ম বলে। অর্থাৎ এটি কামনা-বাসনাযুক্ত কর্ম। এ কর্মে কর্মকর্তার কর্তৃত্বের অভিমান ও ফলাকাঙ্ক্ষা থাকে। কর্তা মনে করেন, আমি কর্ম করছি, আমি কর্মের কর্তা এবং কর্মের ফলও আমিই ভোগ করব।
ফল: বৈদিক যুগে সকাম কর্মের সর্বোচ্চ ফল হিসেবে স্বর্গলাভের কথা বলা হয়েছে। কিন্তু পুণ্যফল ভোগের পর স্বর্গ থেকে ফিরে এসে পুনরায় জন্মগ্রহণ করতে হয়। গীতায় বলা হয়েছে, 'ক্ষীণে পুণ্যে মর্ত্যলোকং বিশন্তি'। তাই সকাম কর্মে বন্ধন হয়, মোক্ষলাভ হয় না।
উদ্দীপকের সঙ্গে মিল: বিনয় ভালো ফলাফলের আশা নিয়ে পরিশ্রম করেছে এবং মনে করে যেহেতু পরিশ্রম করেছে, সেহেতু ভালো ফল করবে। এখানে তার কর্ম ফলের আশায় এবং আমি কাজ করেছি এই অভিমানযুক্ত। এটি সকাম কর্মেরই বৈশিষ্ট্য।
অতএব, বিনয় সকাম কর্মে বিশ্বাসী।
- ঘ)
'বিধুর কর্মই হচ্ছে যোগসাধনার ক্ষেত্রে কর্মযোগ'—উক্তিটি যথার্থ।
কর্মযোগের ধারণা: কর্ম দুই প্রকার: সকাম ও নিষ্কাম। ফলের আশা ত্যাগ করে ঈশ্বরের কর্ম মনে করে যে কর্ম করা হয়, তাকে নিষ্কাম কর্ম বলে। এই নিষ্কাম কর্মই যোগসাধনার ক্ষেত্রে কর্মযোগ। গীতায় শ্রীকৃষ্ণ বলেছেন, 'কর্মণ্যেবাধিকারস্তে মা ফলেষু কদাচন'। অর্থাৎ কর্মেই তোমার অধিকার, ফলে কখনো নয়।
১. বিশ্ব ঈশ্বরের কর্মক্ষেত্র: কর্মযোগে মনে করা হয়, বিশ্বজগৎ ঈশ্বরের বিরাট কর্মক্ষেত্র এবং ঈশ্বরই জীবদের এ কাজে নিয়োগ করেছেন। বিধুও মনে করে বিশ্বজগৎ ঈশ্বরের কর্মক্ষেত্র। তাই তার ভাবনা কর্মযোগের মূল ধারণার সঙ্গে মিলে যায়।
২. কর্তব্যবোধ: কর্মযোগে প্রত্যেককে নিজ নিজ কর্তব্য অবশ্যই সম্পন্ন করতে হয়। বিধু শিক্ষার্থী হিসেবে লেখাপড়াকে নিজের কর্তব্য মনে করে এবং নিষ্ঠার সঙ্গে তা পালন করে।
৩. কর্মফল ঈশ্বরে সমর্পণ: কর্মযোগের বৈশিষ্ট্য হলো কর্মফল ঈশ্বরের সঙ্গে যুক্ত করে দেওয়া। বিধু কর্মফল ঈশ্বরে সমর্পণ করেছে। এতে তার মনে ফলাকাঙ্ক্ষাজনিত উদ্বেগ নেই।
৪. মোক্ষলাভ: এরূপ কর্মে অন্তরে অনাবিল আনন্দ আসে, ভগবানের প্রতি ভক্তি জাগে এবং ঈশ্বরের অনুগ্রহে মুক্তিলাভ হয়। বিপরীতে বিনয়ের সকাম কর্মে বন্ধন সৃষ্টি হয়।সুতরাং, বিধুর কর্ম ফলাকাঙ্ক্ষাহীন, কর্তব্যনিষ্ঠ ও ঈশ্বরে সমর্পিত বলে তা যোগসাধনার ক্ষেত্রে কর্মযোগ, উক্তিটি যথার্থ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও